ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

কম্পিউটার-ফার্নিচারের আড়ালে আসে ক্যাসিনো সরঞ্জাম

এম এ রহমান মাসুম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২৪ ১২:১৬:১১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-২৪ ৫:৩৮:৫৮ পিএম

কখনো জুতার সরঞ্জাম, কখনো কম্পিউটার এবং মোবাইল পার্টস, আবার কখনো ফার্নিচার; এসব নামে দেশে বিভিন্ন সময়ে আমদানি হয়েছে ক্যাসিনোতে ব্যবহৃত ডিজিটাল জুয়ার সরঞ্জাম। আবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতির সুযোগ নিয়ে সরাসরি ক্যাসিনোর নামে রোলেট গেম টেবিল, পোকার গেইম, ক্যাসিনো ওয়ার গেইম টেবিল ইত্যাদি সরঞ্জাম আমদানি হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এমন অভিনব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ক্যাসিনোতে জুয়ায় ব্যবহৃত প্রতিটি মেশিন ও সরঞ্জামের দাম প্রায় লাখ টাকা থেকে তিন কোটি টাকা। যেখানে বে-নামে এসব সরঞ্জাম এনে কোটি কোটি টাকার শুল্ককর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যফন্ত গত ১০ বছরে মোট পাঁচটি আমদানিকারকের হাত ধরে আসা এসব চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করে ওই তথ্য-প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে। ক্যাসিনোতে ব্যবহৃত এই ধরনের সরঞ্জামের আমদানিকারক : এ এম ইসলাম এ্যান্ড সন্স, ন্যানাথ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, পুস্পিতা এন্টারপ্রাইজ, বি পেপার মিলস লিমিটেড ও এ থ্রি ট্রিড ইন্টারন্যাশনাল।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমরা গত ১০ বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি চালানে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছি। কোনো আইনের লঙ্ঘন করেছে কি না-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, আমদানিকারকদের মধ্যে ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বরে এ এম ইসলাম এন্ড সন্স জুতার সরঞ্জাম ও মোবাইল যন্ত্রপাতির ঘোষণা দিয়ে ঢাকা কাস্টম হাউস দিয়ে একটি বড় চালান ছাড় করায়। কিন্তু গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে ক্যাসিনো চিপস ও রেসিং কার্ড এসেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে।

একই ভাবে ঢাকা কাস্টম হাউস দিয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে ন্যানাথ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটার মাদার বোর্ড ঘোষণা দিয়ে, এ থ্রি ট্রিড ইন্টারন্যাশনাল ২০১৭ সালের আগস্টে জন্মদিনের সরঞ্জাম, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে বি পেপার মিলস লিমিটেড ফার্নিচার ঘোষণা দিয়ে রোলেট গেম টেবিল, পোকার গেইম, ক্যাসিনো ওয়ার গেইম টেবিল ইত্যাদি সরঞ্জাম আমদানি করে বলে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা।

তবে পুস্পিতা এন্টারপ্রাইজ ক্যাসিনো সরঞ্জাম ঘোষণা দিয়েই পণ্য আমদানি করেছে। এসব আমদানিকারকরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পণ্যগুলো আমদানি করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেছে বলে মনে করে গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টরা।

পুস্পিতা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে সিএন্ডএফ এজেন্ট বেত্রাবতি ট্রেডের মালিক মো. আশরাফুল ইসলাম ক্যাসিনোর সরঞ্জাম আমদানি করে। সোমবার শুল্ক গোয়েন্দা তাকে চার ঘন্টা এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাইজিংবিডিকে মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতি অনুসারে এসব পণ্য নিষিদ্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত তালিকাভুক্ত নয়। আমি আইন-কানুন অনুসরণ করেই আমদানিকারদের পক্ষে যথাযথ শুল্ক-কর দিয়ে সরঞ্জামগুলো ছাড় করেছি। কোনো অনিয়ম বা মিথ্যা ঘোষণা ছিল না।’

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ক্যাসিনোর মেশিনসহ খেলার বেশিরভাগ সামগ্রী চীন থেকে আমদানি হয়েছে। রয়েছে অর্থপাচারেরও তথ্য। একই সঙ্গে ক্যাসিনোতে জুয়ায় টাকা লগ্নিকারী ব্যক্তিদের আয়কর ফাইল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনে আরো বেশি কিছু আমদানিকারকদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে শুল্ক গোয়েন্দার বিভিন্ন টিম। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তথ্য যাচাই করে দেখা হবে।

এছাড়াও ক্যাসিনো থেকে এসব মেশিন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংগ্রহ করা হবে। কিভাবে এসব মেশিন আমদানি করেছে তা খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নিবে শুল্ক গোয়েন্দা।

ঢাকায় ক্যাসিনোতে জুয়ার আসর নির্মুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে। গত কয়েকদিনে অনেকগুলো ক্লাবের অভিযান চালিয়ে সেখানে ক্যাসিনোর সন্ধান পেয়েছে তারা। প্রতিটি ক্যাসিনোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্যাসিনোর দামি মেশিন ও খেলার সামগ্রীর সন্ধান পায়। এসব মেশিন সঠিকভাবে শুল্ককর পরিশোধ করে আমদানি হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। ওই প্রশ্নের জবাব পেতে এনবিআর কাজ শুরু করেছে।

 

ঢাকা/এম এ রহমান/পারভেজ/নাসিম

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন