ঢাকা, সোমবার, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, ০৬ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

পাঁচ বছরেও বিনিয়োগকারী মেলেনি বিপিসির প্রকল্পে

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-১৭ ৮:০২:৩২ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১৮ ৫:৩০:৫৮ পিএম

পাঁচ বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি পর্যটন কমপ্লেক্স তৈরির উদ্যোগ থমকে আছে। পিপিপির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের কোনো উদ্যোক্তা পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় সরকারি অর্থে কমপ্লেক্স তৈরির উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বিপিসি)।

বেসমারিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের মহুমাত্রিক বিকাশ এবং এ শিল্প বিকাশে বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পিপিপির আওতায় ‘এস্টাব্লিশমেন্ট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ট্যুরিজম কমপ্লেক্স অ্যাট এক্সিস্টিং উপল কম্পাউন্ড অ্যাট কক্সবাজার’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। গত ২০১৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটি নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর সাড়ে ৫ বছর পার হলেও প্রকল্পের জন্য কোনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীর সাড়া না পাওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের ওপর বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করার জন্য ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার নিয়োগ করা হয়। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করার পর প্রকল্পের বিনিয়োগকারী নির্বাচনের জন্য এ পর্যন্ত তিনবার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গত ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আহ্বান করা  প্রথম দরপত্র একই বছর ২৯ জুন খোলার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। এই দরপত্রে আপফ্রন্ট প্রিমিয়াম ১২ কোটি টাকা, প্রকল্প উন্নয়ন ফি ৫ কোটি টাকা (প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বাড়বে) এবং কন্ট্রাক্ট পিরিয়ড ৫০ বছর ধরা হয়। দুটি বিনিয়োগকারী সংস্থা দরপত্র ক্রয় করে। কিন্তু উভয় সংস্থাই নন-রেসপন্সিভ হয়।

দ্বিতীয়বার ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র সংগ্রহের সময়সীমা দেয়া হয় একই বছর ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সে দরপত্রে আপফ্রন্ট প্রিমিয়াম কমিয়ে ৬ কোটি টাকা করা হয়। প্রকল্প উন্নয়ন ফি ধরা হয় ৪ কোটি করা হয়। বার্ষিক কন্ট্রাক্ট ফি ২ কোটি টাকা (প্রতি বছর ৩ শতাংশ হারে বাড়বে)। চুক্তির মেয়াদ প্রথমে ২৫ বছর এবং পরে আরো ১৫ বছর বাড়ানো যাবে। শর্ত সহজ করেও দরপত্রে সাড়া মেলেনি।

তৃতীয়বার দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৯ সালের ২৬ মে। দরপত্র জমা দেয়ার সময় বেঁধে দেয়া হয় একই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের দরপত্রে আর্থিক শর্তগুলো অপরিবর্তীত রেখে চুক্তির মেয়াদ ৫০ বছর করা হলে একটি সংস্থা বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে দরপত্রে অংশ নেয়। কিন্তু তাদের দরপত্র নন-রেসপন্সিভ হয়।

সূত্র জানায়, তৃতীয়বারের দরপত্রে ইউএস সেন্টার ফর কো-অপারেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ইউসিইডি) নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া দরপত্রটি মূল্যায়ন করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। কমিটি প্রস্তাবটি নন-রেসপন্সিভ ঘোষণা করে তা বিপিসিকে জানিয়ে দেয়। বিপিসি পরে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে।

এ অবস্থায় ২০১৯ সালের ৮ মে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তৃতীয় দরপত্র আহ্বান করেও কোনো দরদাতা নির্বাচন না হওয়ায় বিপিসির প্রকল্পটি পিপিপি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এটি সরকারি অনুদানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আবার উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।


ঢাকা/হাসনাত/রফিক

     
 

ট্যাগ :