Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ১৪ মে ২০২১ ||  চৈত্র ৩১ ১৪২৮ ||  ০১ শাওয়াল ১৪৪২

আগামী বাজেটে মন্ত্রণালয়ের জন্য থোক বরাদ্দ থাকছে না

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০২, ২ মে ২০২১  
আগামী বাজেটে মন্ত্রণালয়ের জন্য থোক বরাদ্দ থাকছে না

মধ্যমেয়াদী কৌশলগত উদ্দেশ্য এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২০-২০২৫) ও দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় (২০২১-২০৪১) অন্তর্ভুক্ত সরকারের নীতি ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা এবং মধ্যমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করাই হবে আগামী বাজেটের লক্ষ্য। এজন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কোনো থোক বরাদ্দ থাকছে না।

মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে বাজেট প্রাক্কলন করতে হবে, যাতে দারিদ্র্য নিরসনে বরাদ্দ বাড়ে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রদেয় সেবার মান ও পরিমাণ বাড়ে। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে বাজেট প্রাক্কলনে জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধির সামঞ্জস্য থাকতে হবে এবং বাজেট বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সম্মত বাজেট কাঠামোর আওতায় সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট প্রাক্কলন এবং ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রক্ষেপণ প্রণয়নে এসব নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

নির্দেশনায় সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিজ নিজ বাজেট প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ আগামী ৯ মে’র (রোববার) মধ্যে অর্থ বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনায় মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণে রাজস্ব ও প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং ব্যয়সীমা সংশোধন/পুনঃনির্ধারণে তিনটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে বলা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে—সরকারের কৌশলগত উদ্দেশ্য অর্জনে সহায়ক হয়, সে ধরনের সুনির্দিষ্ট কার্যক্রমের বিপরীতে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। তবে সাধারণভাবে বাজেটে কোনো প্রকার থোক বরাদ্দের প্রস্তাব করা যাবে না।

অন্যদিকে, সাধারণভাবে ব্যয়সীমার অতিরিক্ত বরাদ্দের কোনো প্রস্তাব করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থ বিভাগে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সভার আলোচনার ভিত্তিতে যে ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটাই সর্বোচ্চ বরাদ্দ। এ বরাদ্দ বাড়ানোর কোনো অবকাশ থাকবে না।

সরকারি অনুদানে পরিচালিত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোকে বরাদ্দ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থার চলতি অর্থবছরের নিজস্ব আয় ও আয়ের উৎস/আইটেমগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। ত্রিপক্ষীয় সভায় সম্মত প্রাক্কলিত ও প্রক্ষেপিত আয় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে দেখাতে হবে। নিজস্ব আয়ের অর্থ বাদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার জন্য ব্যয়সীমা/সরকারি অনুদানের পরিমাণ নির্ধারণ করে তার ভিত্তিতেই প্রদত্ত অর্থনৈতিক কোড অনুযায়ী বাজেট প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ প্রণয়ন করতে হবে।

পাশাপাশি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বেসরকারি সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়ের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে ব্যয়সীমা নির্ধারণ করতে হবে এবং সরকারি অনুদানের পরিমাণ ন্যূনতম পর্যায়ে রেখে তার ভিত্তিতেই বিস্তারিতভাবে বাজেট প্রাক্কলন প্রক্ষেপণ করতে হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলমান করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রণীত বাজেট কাঠামো ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সভায় পর্যালোচনা করা হয়েছে। ওই সভার পর্যবেক্ষণের আলোকে একটি সম্মত বাজেট কাঠামো প্রণয়নের কাজ চলছে। মধ্য মেয়াদী বাজেট কাঠামো পদ্ধতিতে বাজেট প্রণয়নের দ্বিতীয় পর্যায়ে মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ত্রিপক্ষীয় সভায় সম্মত রাজস্ব ও প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা এবং ব্যয়সীমার আলোকে বিস্তারিত বাজেট প্রাক্কলন, প্রক্ষেপণ ও প্রয়োজনে সংশোধন/পুনঃনির্ধারণ করতে হবে।

ঢাকা/হাসনাত/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়