বিশ্বে পারমাণবিক বিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনা এবং শঙ্কা
জাহাঙ্গীর আলম বকুল || রাইজিংবিডি.কম
পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র
জাহাঙ্গীর আলম বকুল : সভ্যতাকে সচল রাখতে হলে বিদ্যুতের বিকল্প নেই। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি তেল, গ্যাস বা খনিজ কয়লা অফুরন্ত নয়। অদূরে না হলেও সুদূর ভবিষ্যতে তা শেষ হয়ে যাবে। তখন কী হবে? এখনো পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য সমাধান একটাই, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। পারামণবিক শক্তি অফুরন্ত। সুদূর ভবিষ্যতেও নিঃশেষ হওয়ার আশঙ্কা নেই। তবে এর ধ্বংসাত্মক ঝুঁকি অনেক। কিছু দেশ যেমন ইতালি, জার্মানি সব পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র নিষ্ক্রিয় করছে। অস্ট্রেলিয়ার শুধু গবেষণার জন্য পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। আবার ইউরোপের দেশগুলোর মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৩০ শতাংশ আসে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি ২০১২ সালে ১ লাখ ২ হাজার ১৩৬ মেগাওয়াট পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন করে। যার ১৯ শতাংশ ব্যয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। আবার তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে বিদ্যুতের ব্যাপক ঘাটতি এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বপ্ন থাকলেও প্রযুক্তি ও অর্থ নেই। এই প্রতিবেদনে পারমাণবিক শক্তি এবং এ শক্তিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র, তার ঝুঁকি-সম্ভবনা, দেশে দেশে এ বিদ্যুতের উৎপাদন নিয়ে আদ্যোপান্ত তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি : বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি গ্যাস, তেল ও কয়লা। তিনটি উপাদানই খনি থেকে প্রাপ্ত। পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত শক্তি দিয়েও বিদ্যুৎকেন্দ্র চালিত করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম। ইউরেনিয়াম খনিজ মৌলিক পদার্থ। পৃথিবীতে এখনো পর্যন্ত প্রাপ্ত ১০৯টি মৌলিক পদার্থের মধ্যে ইউরেনিয়াম ৯২তম। প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিজ্ঞানীরা তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে থোরিয়াম এবং ইউরেনিয়াম মিশিয়ে ফুয়েল রড তৈরি করে নিয়েছে। আমাদের কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে থোরিয়াম ইউরেনিয়াম জাতীয় খনিজ পাওয়া গেছে।
পারমাণবিক শক্তি কী : পারমাণবিক শক্তি হলো শক্তির একটি রূপ। নিউক্লীয় ফিউশন বিক্রিয়ার ফলে এই শক্তির উদ্ভব ঘটে। ফ্রেঞ্চ পদার্থবিদ হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ১৮৯৬ সালে পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন করেন। কোনো একটি ভারী মৌলের পরমাণুকে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে ভারী মৌলটি ভেঙে দুইটি হালকা মৌলের পরমাণুতে পরিণত হয় এবং বিপুল পরিমাণ তাপশক্তির বিকিরণ হয়। এই শক্তিকেই বলা হয় পরমাণু শক্তি।
এই বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার সময় সাধারণত তিনটি নিউট্রন উৎপন্ন হয়, যা পুনরায় নতুন তিনটি বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। ফলে আরো নয়টি নিউট্রন পাওয়া যায়, যা ক্রমান্নয়ে বাড়তে থাকে। এজন্য এই বিক্রিয়াকে বলা হয় চেইন রি-অ্যকশন। অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন করে, যা খুবই বিপজ্জনক। পারমাণবিক বোমা মূলত অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া। নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া প্রয়োজনমতো সঠিক পরিমাণে তাপ উৎপাদন করে, যা বিভিন্ন গবেষণা, চিকিৎসায়, খনি অনুসন্ধানে ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন প্রয়োজন : জ্বালানিসংকট বিশ্বের অন্যতম প্রধান সংকট। জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং খনিজ কয়লা দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। এসব জ্বালানি পরিবেশকে দূষিত করে। এখন প্রতিদিন প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়। বিশ্বের তেল উৎপাদনক্ষমতা সীমিত। নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগ করা হলে বড়জোর দৈনিক আরো কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে। এই অল্প পরিমাণ তেল দিয়ে চীন ও ভারতের মতো বড় দেশের উচ্চতর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। ফলে শিল্পোন্নত দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরমাণবিক শক্তিকেন্দ্র নির্মাণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বে এখন মোট বিদ্যুতের ১৬ ভাগেরও বেশি উৎপাদিত হচ্ছে পরমাণু জ্বালানির মাধ্যমে। তবে এর ৬১ শতাংশ উন্নত দেশে। আর ৩৯ শতাংশ উন্নয়নশীল দেশে।
পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্রের জ্বালানি : পরমাণবিক শক্তিকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম। ইউরেনিয়াম খনিজ মৌল। প্রচলিত সব জ্বালানির চেয়ে এটি অনেক বেশি লাভজনক ও সাশ্রয়ী৷ অল্প পরিমাণ ইউরেনিয়াম দিয়ে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়৷ ইউরেনিয়াম বিশ্বের অনেক দেশেই পাওয়া যায়৷ তবে আকরিক বা খনিজ ইউরেনিয়ামকে পরমাণবিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া জটিল ও ব্যয়বহুল। অল্প কয়েকটি দেশ এ প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে পেরেছে৷ এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
দেশে দেশে পারমাণবিক চুল্লি : বিশ্বে মোট পারমাণবিক চুল্লির সংখ্যা ৪৪১টি। এ চুল্লি থেকে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদিত হয় ৩ লাখ ৬৯ হাজার ১২২ মেগাওয়াট। আরো ২৭টি পারমাণবিক কেন্দ্রে ৬৮টি চুল্লি নির্মাণের পথে রয়েছে এবং ৩৮টি কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে ১১৫টি কেন্দ্র।
বিশ্ব পরমাণু সংস্থার হিসাব অনুযায়ী- পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে ৩১টি দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। সেগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, কনাডা, ইউক্রেন, চীন, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, স্পেন, বেলজিয়াম, তাইওয়ান, ইন্ডিয়া, চেক রিপাবলিক, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্লোভাকিয়া, মেক্সিকো, রুমানিয়া, আর্জেন্টিনা, ইরান, পাকিস্তান, স্লোভেনিয়া, নেদারল্যান্ডস, আর্মেনিয়া। চীন পরিকল্পনা করেছে ২০৫০ সাল নাগাদ তাদের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২৫ শতাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ থেকে জোগান দেবে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৩ সালে বিশ্বের ৩১টি দেশে ৪৪১টি পারমাণবিক চু্ল্লি সচল আছে। ২০১২ সালে ১৫টি দেশে ৬৮টি বেসামরিক পরমাণবিক চুল্লির নির্মাণের কাজ চলছিল। এর মধ্যে চীনের ছিল ৩২টি। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে- ২০২০ সালে তাদের আরো দুটি পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যাবে। তবে আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে ছোট এবং পুরোনো মিলে কমপক্ষে ১০০ চুল্লি বন্ধ করে দিতে হবে।
আইএইএ-এর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী- বিশ্বের পারমাণবিক শক্তির বড় অংশ উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১২ সালে দেশটি উৎপাদন করে ১ লাখ ২ হাজার ১৩৬ মেগাওয়াট। যার ১৯ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় করে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাদের উৎপাদিত পারমাণবিক শক্তির সবচেয়ে বেশি ব্যরহার করে ফ্রান্স। দেশটির উৎপাদিত ৬৩ হাজার ১৩০ মেগাওয়াটের প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্যয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ১৪৭টি পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। তা থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ২৬৭ মেগাওয়াট শক্তি উৎপাদন হয়। দেশগুলোর মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৩০ শতাংশ পরমাণু বিদ্যুৎ থেকে আসে। অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অস্ট্রিয়া, ইস্তোনিয়া, আয়ারল্যান্ড এবং ইতালির কোনো সক্রিয় পরমাণু শক্তি কেন্দ্র নেই। ভারত তাদের ৪ হাজার ৭৮০ মেগাওয়াট পরমাণু শক্তির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পাকিস্তান ৭২৫ মেগাওয়াটের মধ্যে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করে।
ঝুঁকি : যদিও পারমাণবিক শক্তি বহু মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, কিন্ত এর ঝুঁকির কারণে প্রায়শই বিতর্কিত থেকেছে। পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রকে পরিবেশের জন্য হুমকি মনে করার প্রধান কারণ এর বর্জ্য। এ ছাড়া, ভূমিকম্প, সাইক্লোনসহ খুব ছোটখাটো কারিগরি বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পরিবেশের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল দুর্ঘটনা, ২০১১ সালে ফুকুশিমা ডাইচি দুর্ঘটনা এবং ১৯৭৯ সালের ত্রি-মাইল আইল্যান্ড দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন সময়ে বিশ্বে কিছু পারমাণবিক সাবমেরিনে দুর্ঘটনা ঘটে। চেরনোবিল বিস্ফোরণের ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকায়, এমনকি পূর্ব ইউরোপেও তেজস্ক্রিয়তা পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে। পারমাণবিক চুল্লির দুর্ঘটনার অর্থনৈতিক বড় ধরনের ক্ষতি করে এবং বর্জ্য সরিয়ে ফেলতে দশক পর্যন্ত সময় লেগে যায়। পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রে ব্যবহৃত হওয়ার পর জ্বালানির যে অংশটুকু বর্জ্য হিসেবে পড়ে থাকে সেটা তেজস্ক্রিয়। বর্জ্যের তেজস্ক্রিয়তা ধীরে ধীরে কমে আসে বটে, তবে কয়েক শত বছর আলাদা সুরক্ষিত জায়গায় সংরক্ষণ করতে হয়। বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ ছবিটি আসলে নিউক্লিয়ার বর্জ্য। আমরা কিছু বর্জ্য তৈরি করে যাচ্ছি, যা শত শত বছর পরও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সেই ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি সহ্য করে বেঁচে থাকতে হতে পারে। পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্রের দুর্ঘটনা অন্য ১০টা দুর্ঘটনার মতো নয়। প্রচণ্ড উত্তাপে যখন চুল্লিটি গলে যায়, তখন তার ভেতরকার ভয়ংকর তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসে উড়ে যায়, পানিতে মিশে যায়। কেউ সেখানে যেতে পারে না। রাশিয়ার চেরনোবিলে দুর্ঘটনা ঘটার পর পুরো শহরটাকেই বাতিল করে দিতে হয়েছিল। এক সময় একটা পারমাণবিক শক্তি কেন্দ্র তৈরি করতে কয়েক যুগ লেগে যেত। এখন প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হয়েছে। পাঁচ-ছয় বছরে একটা কেন্দ্র নির্মাণ করা যায়। একটি কেন্দ্রের আয়ুষ্কাল কিন্তু অনন্তকাল নয়, ৩০ বছরের মতো। এটি নির্মাণ করার প্রক্রিয়া যে রকম জটিল, আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার পর সেটাকে পরিত্যাগ করা বা নতুন করে নির্মাণ করার প্রক্রিয়া একই রকম জটিল। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে খরচ : একটা পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র নির্মাণ করতে খরচ পড়ে ৫ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার। টাকার অঙ্কে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা। এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে খরচ বেশি হলেও যেহেতু খুব অল্প পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে বহু মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ খুবই কম হয়। ২০১১ সালে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ ফাটল ও তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিঃসরণের পর জাপান অনেক পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে জাপানের মোট বিদুৎ চাহিদার ৩০ শতাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ থেকে মেটানো হতো। পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ করে দেওয়ায় পর দেশটি ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এসব চুল্লি আবার চালু করতে আগ্রহী। জাপান সরকার জানায়, পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ থাকার কারণে ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। বিদ্যুতের দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে। জাপানকে বিপুল কয়লা, গ্যাস ও জ্বালানি তেল আমদানি করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : দেশে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য পাবনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৬১ সালে। ঈশ্বরদী থানার রূপপুরে প্রকল্পের জন্য ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তখন ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনে প্রকল্পের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণসহ অত্যাধুনিক বাসস্থান গড়ে তোলা হয়। অর্থ অভাবে ১৯৭১ সালের পরে প্রকল্প পরিত্যক্ত হয়। ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রকল্পটি পুনরায় শুরু করার বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এর ধারাবাহিকতা ২০১১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়ার সহায়তায় দুটি চুল্লি স্থাপন করা হবে। প্রতিটি চুল্লি থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। রাশিয়া চুল্লির জ্বালানি সরবরাহ করবে এবং জ্বালানির বর্জ্য সে দেশে নিয়ে যাবে। এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দক্ষ জনবল তৈরিতে দেশটি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দেবে। মোট খরচের ৯০ শতাংশের জোগান দেশে রাশিয়া। গত বছরের ২ অক্টোবর এই কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি চালু হলে ২০২১ সাল নাগাদ বিদ্যুতের মোট চাহিদার ১০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ সেপ্টেম্বর ২০১৪/কমল কর্মকার
রাইজিংবিডি.কম
সীমান্তে ৭ পাসপোর্টসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি সাব্বির আটক