শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয়ী সফল ফ্রিল্যান্সার অনিক
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
কুষ্টিয়ার তরুণ অনিক মাহমদু (২২)। টি-শার্ট ডিজাইন নিয়ে ফাইভার ও আপওয়ার্কে কাজ করে সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন তিনি।
তবে তার জীবন আর সবার মতো নয়। জন্মগতভাবেই শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার জীবন হুইলচেয়ার নির্ভর। হাঁটাচলা করতে সক্ষম নন। তবে এই প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেননি তিনি। মনোবল হারাননি। ফ্রিল্যান্সিংকে অবলম্বন করে নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। অদম্য লড়াকু অনিক এখন সফল ফ্রিল্যান্সার। ফাইভার-এ লেভেল-২ সেলার এবং আপওয়ার্ক-এ টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাইজিংবিডির ফেসবুকভিত্তিক লাইভ অনুষ্ঠান ‘রাইজিংবিডি টেক টক’-এ সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার গল্প শোনান অনিক। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংয়ে নতুনদের জন্য নানা পরামর্শও দেন তিনি।
অনিক বলেন, ‘শারীরিক অক্ষমতা মানেই সবকিছু থেমে থাকা নয়। ইচ্ছে ছিল জীবনে এমন কিছু করব, যেখানে আমার কারো কাছে কাজের জন্য যাওয়া লাগবে না। বরং, আমি আমার প্রতিষ্ঠানে কিছু তরুণদের চাকরি দিব। এই মনোবল আর ইচ্ছাশক্তির কারণেই হয়তো আজ আমি সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।’
২০১৪ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর তার আর পড়ালেখা করা হয়নি। ২০১৮ সালে অনলাইনের মাধ্যমে গ্রাফিক্স ডিজাইনের তিন মাসের একটি কোর্স করেন অনিক। এরপর ইউটিউবের ভিডিও দেখে এবং বিভিন্ন টিউটোরিয়াল সাইট থেকে নিজের দক্ষতা বাড়ান। এ সময়ে প্রতিদিন ১৫-১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য যেহেতু ইংরেজিতে কমিউনিকেশনটা জরুরি তাই ইংরেজিও শিখেছেন নিজের চেষ্টায়। ইংরেজি নিউজ, সিনেমা এবং ডিকশনারির সহায়তায় চার মাসে ইংরেজি আয়ত্ব করেন।
২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে ফাইভার এবং আপওয়ার্ক মার্কেট প্লেসে কাজ শুরু করেন অনিক। শুরুতে ফাইবারে কাজ পেতে ব্যর্থ হন, প্রথম আয় হয় আপওয়ার্ক থেকে, সেটা ২৫ ডলারের। এরপর আপওয়ার্কে নিয়মিত কাজ করে হয়ে ওঠেন টপ রেটেড ফ্রিল্যান্সার। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আবারও ফাইবারে কাজ শুরু করেন এবং মাত্র ৩ মাসে লেভেল-২ সেলার পজিশন অর্জন করেন।
বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং থেকে অনিকের মাসিক আয় ৮০ হাজার টাকার বেশি। পাশাপাশি নিজের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে ৪ জন বেকার তরুণের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছেন। স্বপ্ন রয়েছে ভবিষ্যতে বড় একটা আইটি ফার্ম গড়ে আরো বেকার তরুণদের বিনামূল্যে ফিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয়ী এই সফল ফ্রিল্যান্সারের মতে, ফ্রিল্যান্সার হতে হলে প্রচুর ধৈর্যের প্রয়োজন। এ কারণে অনেক তরুণ কাজ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেন না। তাই কখনোই ভেঙে পড়া যাবে না। আর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে নিজেকে প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করতে হবে। ভালোভাবে কাজ না শিখে ফিল্যান্সিংয়ে আসা উচিত নয় বলে জানান তিনি।
ঢাকা/ফিরোজ/মারুফ
রাইজিংবিডি.কম