ঢাকা     রোববার   ১৬ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ২ ১৪২৮ ||  ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বিশ্বাস করি একদিন আমরাই বিশ্বকাপ জিতব: আকবর

ইয়াসিন হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:১২, ১৮ মে ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
বিশ্বাস করি একদিন আমরাই বিশ্বকাপ জিতব: আকবর

বিশ্ব জয়ের একশ দিন।গৌরবময় অধ্যায়ের স্মৃতিচারণের দিন আজ। ‘বুকের ভেতরে আছে প্রত্যয়, আমরা করবো জয় নিশ্চয়ই’ - গীতিতে নিজেদের উদ্বুদ্ধ করা যুবারাই বৈশ্বিক ক্রিকেটে প্রথম উড়িয়েছেন লাল-সবুজের পতাকা।

দেশকে দিয়েছেন সবচেয়ে বড় অর্জন। উনিশের হাত ধরে বিশে এসেছে প্রথম শিরোপা। সেই শিরোপা জয়ের নায়ক ও দলের নেতা আকবর আলী জীবনের পরিবর্তন, পরবর্তী লক্ষ্য ও বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করেছেন রাইজিং বিডি’র সঙ্গে আলাপকালে। মুঠোফোনে তাঁর কথা শুনেছেন ইয়াসিন হাসান

রাইজিংবিডি: অফুরন্ত সময় কাটছে কিভাবে?

আকবর: সময় কাটে না...মনে হয় ঘড়ি থেমে থাকে। সারাদিন বাসায় কাটছে। রোজার মাস ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরী হয়। জোহরের নামাজ শেষে ওয়ার্কআউট করি। ইফতারের পর তারাবি পড়ি। রাতের বেলায় ক্যারাম খেলি। ওই সময়টাই সবচেয়ে ভালো লাগে। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে।

রাইজিংবিডি: আপনি এবং পরিবারের সবাই ভালো আছেন?

আকবর: জি, আলহামদুলিল্লাহ।

রাইজিংবিডি: বিশ্বকাপ জিতেছেন দীর্ঘদিন হয়ে গেল। আজ শততম দিন। যদি একশ দিন আগে ফিরে যান তাহলে কোন মুহূর্তটাকে সেরা বলবেন?

আকবর: পুরো সফরটা অসাধারণ ছিল। এর ভেতরে একটি বিশেষ মুহূর্ত বেছে নেওয়া অনেক কঠিন। তবে সত্যিই আমাকে একটি বেছে নিতে হয় আমি বলবো ফাইনাল ম্যাচের কথা। ওই দিনের পরিবেশ, পরিস্থিতি আমি কোনোদিন ভুলবো না। ওইটা স্পেশাল। বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করলে আমার সবার আগে চিন্তায় আসে ট্রফি নিয়ে উল্লাসের মুহূর্তটা। আমি দিনটি কোনোদিন ভুলতে পারব না।

রাইজিংবিডি: বিশ্বকাপ জয়ের পর জীবনটা পাল্টে গেছে কিভাবে?

আকবর: ব্যক্তিগত জীবনে আমি একটুকু পাল্টাইনি। হয়তো মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে একটু। মানুষজন ভালোবাসছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ দেখা করতে আসে। প্রতিবেশীরা গর্ব করে বলে আকবর আমাদের বাড়ির ছেলে। পুরো এলাকা আমাকে নিয়ে গর্ব করে...উনারা আদর-যত্ন করে। এটা বাদে আর জীবনে আর কিছুর পরিবর্তন হয়নি। মানুষের ভালোবাসা পেতে ভালো লাগছে। এটা দারুণ অনুভূতি।

রাইজিংবিডি: আর পরিবারের কাছে, এখনও কি সেই পুরনো আকবর-ই আছে নাকি বিশ্বকাপজয়ী আকবর?

আকবর: নাহ পরিবারের কাছে তো সব সময়ই ছোট আকবর।

রাইজিংবিডি: তবে পরিবারের মুখে যখন প্রাপ্তির আনন্দ দেখতে পান, আপনাকে নিয়ে গর্ব করতে দেখেন তখন কেমন অনুভব হয়?

আকবর: ওই আনন্দটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। এটা শুধু আমি না, প্রত্যেকটা ছেলে বা মেয়ে যদি তার পরিবারের জন্য কিছু করতে পারে, যেটাতে পরিবার গর্ব করতে পারে তাহলে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।

রাইজিংবিডি: মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছেন সাথে প্রত্যাশাও বেড়ে যাচ্ছে নিশ্চয়েই?

আকবর: তা তো অবশ্যই। তবে এসব আমার ভাবনার মধ্যে থাকে না। আমি চাই না আমি প্রত্যাশার বোঝা নিজের কাঁধে নিয়ে ক্যারিয়ারে এগিয়ে যায়। মানুষের প্রত্যাশার কথা আমি কম ভাবার চেষ্টা করি। আমি বিশ্বাস করি যদি ক্রিকেটে নিজের কাজটা শতভাগ দিয়ে করতে পারি তাহলে অবশ্যই আমি, আমাদের দল সফল হবে। নিজের মধ্যে থাকার চেষ্টা করি। বি মাইসেলফ।

রাইজিংবিডি: একশ দিন তো কাটিয়ে দিলেন।এ সময়ে সবচেয়ে মধুর স্মৃতি কোনটা ছিল?

আকবর: মানুষের ভালোবাসার কথাই বলবো। সাধারণ মানুষ এতোটা খুশি হয়েছিল তা কল্পনাও করতে পারিনি। পাশাপাশি ক্রিকেট বোর্ড, আমাদের সিনিয়র খেলোয়াড়রা যারা আছে তারা এতোটা প্রশংসা করেছিল যে বলার মতো না। পাশাপাশি আমাদের যে সম্মান দিয়েছে সেটাও অন্যরকম ছিল।  এগুলো আনন্দ দেয়।

রাইজিংবিডি: ‘আকবর দ্য গ্রেট’ - শুনতে কেমন লাগে?

আকবর: (হাসি) এটা এখন আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। আমি নিজেও আমার ইনস্টাগ্রাম আইডিতে ব্যবহার করি। কোথায় যেন পড়েছিলাম, বিশ্বে তিনজন গ্রেট আছেন, মহান আলেকজান্ডার, সম্রাট আশোক ও সম্রাট আকবর। সেটা পড়ে ভালো লেগেছিল।

রাইজিংবিডি: একটু খারাপ লাগার মতো হতে পারে প্রশ্নটা...যদি বিশ্বকাপ না জিততেন তাহলে কি খুব কষ্ট পেতেন?

আকবর: অবশ্যই। খুব কষ্ট পেতাম। কারণ দুই বছর এটা নিয়েই পরিকল্পনা করেছি।আমরা সিরিজগুলো পুরোপুরি ফোকাস করেছি ওটা মাথায় রেখে। ঘরের মাঠে যতগুলো সিরিজ খেলেছি সবগুলো ঘাসের উইকেটে খেলার চেষ্টা করেছি। দেশের বাইরে গিয়ে ভালো প্রতিপক্ষের সাথে খেলেছি। পুরো পরিকল্পনা ছিল বিশ্বকাপের জন্য। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বকাপে গিয়ে যদি একটু অন্য ফল হতো তাহলে কষ্ট পেতাম।  

রাইজিংবিডি: আপনি বিশ্বকাপে খুব একটা ব্যাটিং পাননি। কিন্তু এমন একটা দিনে আপনি ব্যাটিং করেছেন যেদিন পুরো বিশ্ব আপনার সামর্থ্য দেখেছে। বাংলাদেশ তো বিশ্বকাপ জিতেছে বটেই। কিন্তু যখন ভাবনায় আসে আপনার ব্যাটিংয়ের কারণেই জিতেছে তখন কেমন অনুভূতি হয়?

আকবর: (হাসি)...। এটা আসলে কি বলবো। বিশ্বকাপের ফাইনালে আমার কাছে একটা বিরাট সুযোগ এসেছিল, আমি সেটা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছি। এটা সত্য এর আগে তেমন ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাইনি। তবে আমার ভাবনার বিষয়টা আরেক জায়গায়। আপনি বলুন, আমি ছয় নম্বরে ব্যাটিং করি। তার মানে আমাদের ব্যাটিং অর্ডার কতটা শক্তিশালী এবং বিশ্বকাপে কতটা ভালো করেছে যে ফাইনালের আগে আমার ব্যাটিংয়ের তেমন প্রয়োজন হয়নি। টপ-অর্ডারই খেলা শেষ করে দিয়েছে। তবে আমি একক কৃতিত্ব নেওয়ার পক্ষপাতী নই। দেখুন ইমন কিন্তু সেদিন সর্বোচ্চ রান করেছিল। বোলিং ছিল টুর্নামেন্টের সেরা। সবার অবদান নিয়েই ওই শিরোপা। এটা চিন্তা করতে ভালো লাগে যে ম্যান অব দ্য ম্যাচ আমি হয়েছি। নিজেকে প্রমাণের একটা বড় সুযোগ পেয়েছিলাম সেটা করতে পেরেছি। 

রাইজিংবিডি: আপনি চুপচাপ থাকেন। খুব একটা আবেগ দেখান না...

আকবর: নাহ! কে বলল আমি চুপচাপ থাকি। আমিও সবার সাথে কথা বলতে পছন্দ করি। হ্যাঁ আমি আবেগ প্রকাশ করি না।

রাইজিংবিডি: কিন্তু ড্রেসিংরুমে আপনি টিম মিটিংয়ে বেশি কিছু বলেন না। কিন্তু মাঠে সেগুলো করে দেখান। অনেকের মতে এগুলো আপনার মাথায় আগেই সেট থাকে...

আকবর: আমি ক্রিকেট খেলাটা মাঠে খেলার চেষ্টা করি। মাঠের বাইরে যতটা কম  খেলা যায় আর কি...মাঠের বাইরে যতটা সতেজ থাকা যায় যেন মাঠে নিজের শতভাগ দিতে পারি।আবার ড্রেসিংরুমে এটা করে ফেলব, ওটা করতে হবে এগুলো বলে বাড়তি চাপ নেওয়া পছন্দ করি না। আমি জানি যে, আমার সাথে যারা খেলতে নামবে এবং যারা ড্রেসিংরুমে বসে থাকবে প্রত্যেকে নিজের কাজ সম্পর্কে অবগত। নিজেরা নিজেদের কাজটা মন থেকে শতভাগ দিয়ে করলেই হয়ে যাবে। আপনি ধরেন একটা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে বেরিয়ে এলেন কিন্তু মাঠে গিয়ে দেখলেন পরিবেশ হাল্কা তখন আপনাকে কিন্তু সব কিছু পাল্টাতে হবে। এটার খারাপ ইফেক্ট পড়তে পারে। এজন্য আমি মাঠের ভেতরে কাজটা কঠিন রাখি, বাইরে সহজ।

রাইজিংবিডি: এ পরিণিতিবোধ বলুন নয়তো গুণ বলুন, আপনার এই বয়সে আসার কথা না স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু আপনি এতো বড় চিন্তা করছেন কিভাবে?

আকবর: এটা আসলে আমার ভেতরে কিভাবে এসেছে সেটা তো আমি নিজেও বলতে পারব না। হয়তো খেলা দেখতে দেখতে কিংবা অধিনায়কত্ব করতে করতে হয়ে গেছে। তবে আমি সবকিছুতেই নিজেকে বিশ্বাস করতে পছন্দ করি। দেখুন যারা ড্রেসিংরুমে অনেক চিন্তা করে মাঠে নামে তাদের জন্য সেটা পারফেক্ট। আমি শুধু মাঠের ভেতরে চিন্তা করি। আসলে দুইটা গুণই ভালো। যার জন্য যেভাবে কাজ করে।  আমি এভাবে চিন্তা করি। হয়তোবা সেই অধিনায়ক ওই দর্শনে বিশ্বাস করে যে, ড্রেসিংরুমেই সব করে, সবাইকে বুঝিয়ে আসতে হবে। আমি হয়তোবা আমার মতো করে চিন্তা করি।

রাইজিংবিডি: বিশ্বকাপে আপনাদের সফর দীর্ঘদিনের ছিল। দীর্ঘ সফরে ছোট-বড় অনেক ঘটনাই ঘটে। সেগুলো অধিনায়ক আকবর কিভাবে দেখাশুনা করেছে?

আকবর: অধিনায়ক হিসেবে আমার যতটুকু করার আমি ততটুকু করেছি। তবে আমার সতীর্থরা নিজ থেকে এগিয়ে এসেই মূল কাজটা করেছে। নিজেরা অনেক বেশি ডুবে দিয়েছিল খেলায়। প্রত্যেকে নিজেদের কাজটা ভালোভাবে জানত বলেই দলের পারফরম্যান্স ভালো হয়েছে। নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ধারণা ছিল প্রত্যেকের। তাতে আমার কাজটাও সহজ হয়েছে। ম্যানেজমেন্ট থেকেও বলে দেওয়া ছিল, ‘তুমি কেন দলে আছো সেটা একবার চিন্তা করো। দেখবা নিজের পারফরম্যান্স বের হয়ে আসবে।’ আসলে এভাবে সব সহজ হয়ে গিয়েছে। আমার নিজের ওপর চাপ কমেছে।

রাইজিংবিডি: বিশ্বকাপ চলাকালীন এমন একটা মজার স্মৃতি বলেন যেটা এখনও কাউকে বলেননি….

আকবর: আমাদের নেট অনুশীলনে বেশ মজা হতো। যেদিন নেট হতো সেদিন বোলাররা তো বল করতোই, সাথে আমাদের কোচিং স্টাফরা প্রচুর বল করতেন।  এমনও দিন গেছে আমাদের মূল বোলারের থেকে আমাদের কোচিং স্টাফরা বেশি বল করেছে। আমাদের কম্পিউটার অ্যানালিস্ট ছিলেন সালাউদ্দিন স্যার। উনি নেটের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বোলিং করতেন। কোনও থামাথামি নেই। কোনোভাবে যদি একটা উইকেট পেয়ে যেত তাহলে সেদিন পুরো দলের মাথা খারাপ করে ফেলত। ধরেন সারাদিন বলবে, ‘এই তোর উইকেট পেয়েছি, এই বুড়ো বয়সেও কি জোর… এই সেই। কিন্তু উনি আবার ছয়-টয়ও খাইতও কিন্তু ছয় খেলে কোনোদিনও মেনে নেয় না যে এটা ছয় হয়েছে। কিন্তু একটু উনিশ-বিশ হলেই আউট-আউট বলে চেঁচাবে।   

রাইজিংবিডি: বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ আছে। পছন্দ-অপছন্দ ভিন্ন। চাওয়া-পাওয়া ভিন্ন। কিন্তু আপনারা যেদিন বিশ্বকাপ জিতলেনে সেদিন সব মানুষ একবিন্দুতে। বিমানবন্দর থেকে মিরপুরে আপনাদের স্বাগত জানিয়েছে লাখো মানুষ। সেই ভালোবাসা যদি ব্যাখ্যা করেন..

আকবর: বিমানবন্দর থেকে মিরপুরে ফেরার কথা মনে করলেই আমার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায়। রিমার্কেবল। ঢাকায় আমি, আপনি সবাই জ্যামে বসে থাকলে অতিষ্ঠ হয়ে যাই। কিন্তু সেদিন একজন মানুষ পাওয়া যাবে না যে বিরক্ত হয়েছিল। একপাশের রাস্তা ব্লক, অন্য পাশ দিয়ে আমরা যাচ্ছি। দুইপাশে মানুষ দাঁড়িয়ে। গাড়ি থেকে বেরিয়ে, বাস থেকে নেমে আমাদের অপেক্ষায় ছিল। জ্যাম ভুলে গেয়েছিল সবাই। ওই জিনিসটা খুবই ভালো লেগেছে। মানুষ বিশ্বকাপ গ্রহণ করেছে সেটা বুঝেই আনন্দ লেগেছে। মানুষের ভালোবাসা কিছুটা ফিরিয়ে দিতে পেরেছেন সেজন্য ভালো লেগেছিল।

রাইজিংবিডি: দেখা যায় যুব ক্রিকেটে যারা ভালো করে তারা জাতীয় দলে চলে আসে। আপনি নিজেকে জাতীয় দলে কবে দেখতে চান এবং নিজেকে একধাপ এগিয়ে নিতে কি কি করা লাগতে পারে?

আকবর: বিশ্বকাপ শেষেই আমরা ম্যানেজমেন্ট থেকে একটা গাইডলাইন পেয়েছি। আমরা সিনিয়র ক্রিকেটে যাচ্ছি, আমাদের কি কি করা উচিত সেগুলো বলে দেওয়া হয়েছিল সেদিনই। কি কি চ্যালেঞ্জ আসবে, সেগুলো মুখোমুখি হওয়ার জন্য কি কি করা লাগবে...সেগুলো নিয়েই আসলে কাজ করতে হবে। আমরা তো সেই পথেই ছিলাম। আমাদের জন্য দুই বছরের ট্রেনিং চালু করেছিল।কিন্তু করোনার কারণে তো সব বন্ধই হয়ে গেল। পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসার পর আমাদেরকে দ্রুত আবার কাজ করতে হবে।

রাইজিংবিডি: কিছুদিন আগে সাকিব আল হাসান এক সাক্ষাতকারে বলেছেন যে, বিশ্বকাপ কিভাবে জিততে হয় আপনারা দেখিয়ে দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতা আপনাদের জন্য সহজ হবে। এটা কি আপনিও বিশ্বাস করেন?

আকবর: আমি আসলে এটা শুনিনি। তবে আমাদেরও লক্ষ্য আছে এরকম কিছু করার। এটা এরকম না যে আমি বললাম আর হয়ে গেল। অবশ্যই ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের ইচ্ছা আছে। সেই বিশ্বাসও আছে, একদিন আমরাই বিশ্বকাপ জিতব। যদি এরকমটা করতে পারি এর চেয়ে ভালো কোনও মুহূর্ত জীবনে আসবে না। এখনও অনেক কাজ করা বাকি আছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে হলে যেসব কাজ করার প্রয়োজন সেগুলো করতে পারলে আমরাও পারবো।

রাইজিংবিডি: আপনি খুব মন খুলে হাসেন। আপনার হাসিমাখা মুখটাই সবসময় দেখা যায়। আপনার হাসির কেউ প্রশংসা করেছে?

আকবর: (হাসি)। এটা কি বলবো। কেউ কেউ প্রশংসা করেছে...কেউ আবার বলেছে, কি হাসিস যে হাসলে ৩২টা দাঁত বের হয়ে যায়। মিশ্র অনুভূতি।

রাইজিংবিডি: প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছেন?

আকবর: এগুলো বাদ দেন ভাই….

রাইজিংবিডি: বিশ্বকাপের পর তো মোডিভেশনাল স্পিকারও হয়েছিলেন….

আকবর: আরেহ না...সেদিন দিনাজপুর বিকেএসপিতে গিয়েছি।  স্যার (আখিনুর জামান) বলেন যে কিছু বল ছেলেদের। আমি আর কি বলবো...আমি বিশ্বকাপের গল্পগুলো ওদের সাথে শেয়ার করছি। 


ঢাকা/ইয়াসিন

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়