Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ২৯ নভেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৫ ১৪২৮ ||  ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

প্রেসবক্সেও ঘুরে ফিরে নাদির শাহ

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৩, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৮:২৮, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১
প্রেসবক্সেও ঘুরে ফিরে নাদির শাহ

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে নামার আগে নিজেদের ঝালাই করে নিচ্ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। শের-ই-বাংলার সাইটস্ক্রিনে তখন ভেসে ওঠে একটি লেখা, 'নাদির শাহ- অলওয়েজ ইন আওয়ার মেমোরিজ।' দীর্ঘদিন ফুসফুস ক্যান্সারে ভোগা সাবেক আম্পায়ার ও ক্রিকেটার নাদির শাহ শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

নাদিরের মৃত্যুর পর থেকে শোকস্তব্ধ ক্রিকেটাঙ্গন। খেলা কাভার করতে মাঠে আসা সাংবাদিকরাও শোকে মুহ্যমান। কথায় কথায় উঠে আসছে তার প্রসঙ্গ। নিজেদের মতো করে স্মৃতি রোমন্থন করে ভুলছেন শোক। দুই দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে নাদিরকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করেন প্রেসবক্সে উপস্থিত সাংবাদিকরাও।

নাদির প্রসঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিক ও জাগো নিউজের বিশেষ সংবাদদাতা আরিফুর রহমান বাবু বলেন, 'জেনুইন অলরাউন্ডার ছিলেন তিনি। মিডল অর্ডারে ব্যাট করতেন। আমি যখন দেখেছি তখন তিনি মোহামেডান না হয় আবাহনীতে খেলতেন। চারে পাঁচে ছয়ে কখনো সাতে ব্যাট করতেন। লেগ স্পিনার ছিলেন।  ক্রিকেটার হিসেবে মাঝারি মানের চাইতে একটু ভালো, তার সমসাময়িক যারা ক্রিকেটার তারা বলতেন নাদির কখনো সিরিয়াস ছিলেন না।  জালাল ইউনুস বলেন যে, নাদির শাহ যদি সিরিয়াসলি খেলত তাহলে আমাদের প্রজন্মের ফাইনেস্ট অলরাউন্ডার হতেন। আমি তাকে চিনি জানি বুঝি এবং তাকে মূল্যায়ন করতে চাই আগাগোড়া আদ্যোপান্ত ক্রিকেট কেন্দ্রিক চরিত্র। যার খাওয়া ক্রিকেট, স্বপ্নে ক্রিকেট, তিনি খেতেন বাসায় ক্রিকেট দেখতে দেখতে। শয়নে স্বপনে জাগরণে ক্রিকেট ছিল তার। এ রকম 'ক্যারেক্টার' আমি বাংলাদেশের ক্রিকেটে কম দেখিছি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে হাতেগোনা  কিছু ক্যারেক্টার আছে, আমার চোখে নাদির  তেমন একজন  ক্যারেক্টার।'

দৈনিক কালের কন্ঠের সিনিয়র সাংবাদিক সাঈদুজ্জান নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন, ‘জীবনের মাঠ পেরিয়ে... নাদির শাহ রোমান্টিক ক্রিকেট যুগের মানুষ। কর্পোরেট আবেগহীনতা তখনো জড়িয়ে ধরেনি ক্রিকেটকে। একটা ফোল্ড করা হাফ স্লিভ শার্ট দেখিয়ে বলতেন- মিয়া কিছু জানো? ইটস সিক্সটি ইউএস ডলার্স। এই যে জুতা, হান্ড্রেড অ্যান্ড টেন!  সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে মুচকি হাসেন নাদির ভাই। খুব জানি এতে কোনো অহংকার নেই, স্রেফ মজা করে বলা। ভালো থাকবেন নাদির ভাই। কত দুষ্টুমি করেছি আপনার সঙ্গে। যদি কোনো ভুল করে থাকি, ক্ষমা করে দিবেন।’

কালের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিবেদক মাসুদ পারভেজ বলেন, 'তাকে নিয়ে গল্পের ঝাঁপি খুলে বসা মানেই যে কোনো আড্ডা জমে যাওয়া অবধারিত। গতকালও প্রেসবক্সে অন্তত ৮-১০টি বলেছি। এমন অনেকেও আছেন, যাদের কাছে নির্মল আনন্দের ফোয়ারা বইয়ে দেওয়া নাদির শাহ'র গল্পের সংগ্রহ আছে হাজারখানেকেরও বেশি। যেসব গল্পে আজ দেয়ালে টানানো ছবি হয়ে যাওয়ার পরও আমি সজীব আর প্রাণবন্ত নাদির শাহ'কেই খুঁজে নেব আজীবন। যার কাছে ক্রিকেট ছিল সবার আগে। ক্রিকেট বাধাগ্রস্ত হলে ছেড়ে কথা বলতেন না কাউকেই।'

নিউজ জি টুয়েন্টিফোরের সিনিয়র সাংবাদিক শামীম চৌধুরী বলেন, '১৯৮৮  সালে নাদির শাহ আম্পায়ারিং শুরু করেছেন, তখন তিনি ক্রিকেট খেলতেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মতো সে সময়ের বড় ক্লাবে খেলে বড় ম্যাচে আম্পায়ারিং করেও বিতর্কিত হননি। পরবর্তীতে যখন ক্রিকেট ছেড়ে আম্পায়ারিংকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন, তখনও তিনি নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবে সব ক্লাবের শ্রদ্ধা পেয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে আইসিসির এলিট প্যানেলে আম্পায়ার হিসেবে নাদির শাহকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছে বিসিবি। চুপচাপ করে থাকা তার স্বভাবে ছিল না। সব সময়ই বলতেন কথা। এটাই তার আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারে দিয়েছে বড় ধাক্কা। ২০১২ সালে একটি ভুলের জন্য বহিষ্কারাদেশ নাদির শাহ'র স্বপ্নভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যাচ পরিচালনায় সাহসী এই আম্পায়ার মাঠে এবং মাঠের বাইরে ছিলেন আলোচিত চরিত্র। মাঠের বাইরে ক্রিকেটারদের পরম বন্ধুকে বাংলাদেশের ক্রিকেট বড় মিস করবে।'

বিডিনিউজের সিনিয়র ক্রিকেট করেসপন্ডেট আরিফুল ইসলাম রনি বলেন, 'নাদির শাহ ছিলেন প্রাণশক্তির অফুরান উৎস। হাসিমুখ ছাড়া কখনো তাকে দেখিনি। যদিও বয়সে তার চেয়ে অনেক ছোট, তার পরও দেখা হলে বা ফেসবুকে অনেক মজা করতেন। জীবন উপভোগ করতে ভালোবাসতেন তিনি। কৃত্রিমতায় ভরা এই জগতে তিনি ছিলেন সত্যিকারে এক চরিত্র, যিনি নিজের মতো করেই পরিচালনা করতেন জীবন। আম্পায়ারিংয়ের কথা বললে, বাংলাদেশের আম্পায়ারদের শীর্ষ পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছেন তিনিই।'

ঢাকা/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়