সেঞ্চুরিতে হবসকে ছাড়িয়ে স্মিথ, সামনে শুধু ব্র্যাডম্যান
জো রুটের ১৬০ রানের জবাব ট্রাভিস হেড দিয়েছিলেন ১৬৩ রানের টর্নেডো ইনিংসে। কিন্তু সিডনি টেস্টের মঞ্চে যখন স্টিভ স্মিথ নামলেন, তখন তিনি কেবল রানই তুললেন না, নতুন করে লিখলেন ক্রিকেটের ইতিহাস। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) অ্যাশেজের শেষ টেস্টের তৃতীয় দিনে বিধ্বংসী এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে লিজেন্ডারি জ্যাক হবসকে পেছনে ফেলে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। এখন তার সামনে কেবল এক অনন্য উচ্চতা- স্যার ডন ব্র্যাডম্যান।
১১৮ বলের ধ্রুপদী ইনিংস:
ট্রাভিস হেডের গড়ে দেওয়া মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে স্টিভ স্মিথ আজ খেললেন তার কেরিয়ারের অন্যতম সেরা এক ইনিংস। ইনিংসের ১১০তম ওভারে জ্যাকব বেথেলের বলটিকে আলতো করে ফাইন লেগের দিকে ঠেলে দিয়ে তিন রান নেওয়ার সঙ্গেই পূর্ণ হয় তার ৩৭তম টেস্ট শতক। মাত্র ১১৬ বলে এই মাইলফলকে পৌঁছানো স্মিথ যখন সিডনির দর্শকদের করতালিতে সিক্ত হচ্ছিলেন, তখন স্কোরবোর্ডে তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল এক নতুন রেকর্ড। ৯৮ ওভার শেষে ১২৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন এই আধুনিক কিংবদন্তি।
আজকের এই শতকের মাধ্যমে স্মিথ অ্যাশেজ ইতিহাসের দ্বিতীয় সফলতম ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন।
হবসকে টপকে দ্বিতীয়:
১৯০৮ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে অ্যাশেজে ১২টি সেঞ্চুরি করেছিলেন ইংলিশ লিজেন্ড জ্যাক হবস। আজ নিজের ১৩তম অ্যাশেজ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে হবসকে ছাড়িয়ে তালিকার এককভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন স্মিথ।
সামনে কেবল ব্র্যাডম্যান:
অ্যাশেজে ১৯টি সেঞ্চুরি নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। স্মিথের বর্তমান ফর্ম ইঙ্গিত দিচ্ছে, ব্র্যাডম্যানের সেই অতিমানবীয় রেকর্ডও হয়তো এখন সময়ের চ্যালেঞ্জের মুখে।
টেস্ট ইতিহাসের সেরা পাঁচে:
৩৭টি সেঞ্চুরি নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকালের সর্বোচ্চ শতকধারীদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে এলেন তিনি।
সিডনির গ্যালারিতে যখন স্মিথ বন্দনা:
অ্যাশেজের এই সিরিজে নেতৃত্বের চাপ থাকলেও ব্যাটিংয়ে তাঁর কোনো প্রভাব পড়তে দেননি স্মিথ। সিডনির সবুজ ঘাসে তাঁর প্রতিটি ড্রাইভ আর ফ্লিক ছিল নিখুঁত। ট্রাভিস হেডের আগ্রাসনের পর স্মিথের এই ধ্রুপদী সেঞ্চুরি ইংল্যান্ডের বোলারদের মানসিকভাবে আরও ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে।
এক নজরে স্মিথের অর্জন:
শতক সংখ্যা: ৩৭ (টেস্ট কেরিয়ার), ১৩ (অ্যাশেজ)।
মাইলফলক: অ্যাশেজে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান।
বর্তমান অবস্থা: ১২৯ রানে অপরাজিত।
রুটের রেকর্ড গড়ার দিনে স্মিথের এই পাল্টা রেকর্ড লড়াইকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল। একদিকে হেড যখন শক্তির প্রদর্শনী করছেন, স্মিথ তখন দেখাচ্ছেন টেম্পারামেন্ট। ব্র্যাডম্যানের সেই ১৯ শতকের রেকর্ড কি স্মিথ সত্যিই স্পর্শ করতে পারবেন? উত্তরটা সময়ের হাতে থাকলেও, স্মিথ আজ প্রমাণ করেছেন তিনি কেন এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা।
ঢাকা/আমিনুল