চিঠি দিয়ে পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে বিসিবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
‘সিদ্ধান্তে অনড়।’ – বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কোনোভাবেই বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে ক্রিকেট দল পাঠাবে না। বুধবার সাংবাদিকদের নিজেদের সিদ্ধান্ত জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
আইসিসিকে তৃতীয় দফায় চিঠি দেওয়ার আগে সরকারের সঙ্গে বসতে বুধবার বিকেলে ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে সভায় বসেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ। ১১ পরিচালকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় আইসিসির ফিরতি চিঠি নিয়ে আলোচনা হয় এবং বাংলাদেশ কী জবাব দেবে সেই সিদ্ধান্তও হয়। আজ রাতেই সেই চিঠি আইসিসিকে পাঠানো হবে।
বাংলাদেশের দুইটি চিঠির জবাবে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে আইসিসি। যেখানে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ এবং বিশ্বকাপ চলাকালীন বাংলাদেশ কেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছে জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
যেই চিঠিতে বাংলাদেশকে ভারত গিয়ে খেলতেই হবে এমন কিছু ছিল না। ক্রিকেট বিষয়ক গণমাধ্যম ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আইসিসি সরাসরি বাংলাদেশের ভেন্যু সরানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যদি বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যায় তাহলে পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি নিতে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে এই প্রতিবেদনকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছে।
‘‘আমরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। ভারতে নিরাপদে খেলার মতো পরিস্থিতি নেই। বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না। আরেক আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা, সেখানে খেলতে চাই। বাংলাদেশের সম্মান আর বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে আমরা আপস করব না। দেশের মর্যাদার বিনিময়ে আমরা বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে চাই না।’’ – নিজের মন্ত্রণালয়ের বাইরে বলেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তার আশা, বাংলাদেশ আইসিসিকে বোঝাতে সক্ষম হবে। তবে বিশ্বকাপের ঠিক এক মাস আগে, চূড়ান্ত সূচি ঘোষণার পর আইসিসি কতটা বাংলাদেশকে নিয়ে উদার হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এছাড়া, ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে এসেছে, আইসিসি বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকির বিষয়ে কোনো বাস্তব বা কার্যকর তথ্য পায়নি। এজন্য বাংলাদেশের ভারতে না যাওয়ার অনুরোধ আইসিসির কাছে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে না।
যদি সত্যিই আইসিসি বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ না রাখে এবং বাংলাদেশকে বাধ্য করে ভারত সফর করতে তাহলে বাংলাদেশের সরকারের সিদ্ধান্ত কী হবে? আমিনুলের কথা একটাই, ‘‘পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’’
সম্ভাব্য পরিস্থিতি দুইটি,
এক, বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে বাধ্য করা।
দুই, বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন।
প্রথমটি যদি আইসিসি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশের পরবর্তী কী হতে পারে ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে সভায় সেই আলোচনাও হয়েছে। তবে, এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি কেউ। তবে, নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আর, বাংলাদেশ যদি সত্যিই বিশ্বকাপ খেলতে রাজি না হয় তাহলে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিতে পারে। সেক্ষেত্রে আইসিসি খুব অল্প সময়ে নতুন দলকে নিতে পারে। নয়তো ওয়াকওভারের ব্যবস্থা করবে।
তবে আমিনুল ইসলাম হাইব্রিড মডেলের ওপর জোর দিলেন, ‘‘হাইব্রিড মডেল করাই হয়েছে দলগুলোর নিরাপত্তা ইস্যুগুলোকে জোর দিয়ে। পাকিস্তানের জন্য এই মডেল প্রযোজ্য হলে বাংলাদেশের জন্য কেন হবে না। আমরা আইসিসিকে বোঝাতে সক্ষম হবো আশা করি।’’
তবে, ভারতে সফরের নিরাপত্তা নিয়ে এতটা উদ্বিগ্ন এর আগে কখনো হয়নি বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের একাধিক দল ভারত সফর করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলেছে ভারতের পাঁচটি ভেন্যুতে। ফুটবল দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলেছে। নারীদের ওয়ানডে দল গিয়েছিল বিশ্বকাপ খেলতে। যাকে নিয়ে এত হুলস্থূল সেই মোস্তাফিজুর রহমানও আইপিএল খেলে এসেছেন খুব সহজে। হুট করেই পরিস্থিতি, পরিবেশ পাল্টে যাওয়াতে অবাক নানা মহল।
ঢাকা/ইয়াসিন