স্পিনঝড়ে নামিবিয়াকে বিধ্বস্ত করে সুপার সিক্সে বাংলাদেশ
বিশ্বমঞ্চে পা রাখার স্বপ্নে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নামিবিয়াকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সুপার সিক্স নিশ্চিত করেছে নিগার সুলতানার নেতৃত্বাধীন দল।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্পিন আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি নামিবিয়া। মাত্র ১৭.৫ ওভারে ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফিরে যান জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। তবে দিলারা আক্তার ও শারমিন আক্তার দৃঢ়তায় সামাল দেন চাপ। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের কার্যকর জুটিতে দ্রুত রান তুলতে থাকে দল।
দশ রানের ব্যবধানে এই দুই ব্যাটার বিদায় নিলে কিছুটা ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক নিগার সুলতানা ও সোবহানা মোস্তারির জুটি আবার গতি ফেরায়। মোস্তারির ঝরঝরে ২৭ রানের ইনিংস এবং নিগারের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করায়।
শেষদিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর ১৪০ পেরিয়ে যায়। তার মাত্র ১৮ বলে ২৩ রানের ইনিংসে দলের সংগ্রহ পৌঁছে যায় লড়াইয়ের মতো পুঁজিতে।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালোই করেছিল নামিবিয়া। প্রথম তিন ওভারে আসে ২০ রান। তবে চতুর্থ ওভারে রাবেয়া খানের আঘাতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে আফ্রিকার দলটি।
বাংলাদেশের স্পিন ত্রয়ী রীতিমতো ধস নামান নামিবিয়ার ব্যাটিং লাইনে। সানজিদা আক্তারের বাঁহাতি স্পিনে সবচেয়ে বেশি ভুগেছে প্রতিপক্ষ। ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন তিনি। রাবেয়া খান ও ফাহিমা খাতুন নেন তিনটি করে উইকেট।
এক পর্যায়ে ৩১ রানে দুটি উইকেট হারানোর পর মাত্র ৩৩ রানের মধ্যেই শেষ আটটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে নামিবিয়া।
গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও পাপুয়া নিউগিনিকে হারানোর পর টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে পাঁচ দলের গ্রুপ থেকে সুপার সিক্সে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ। এখন সেখানকার শীর্ষ চারে থাকতে পারলে আগামী জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় মূল পর্বে খেলার টিকিট নিশ্চিত করবে নিগার বাহিনী।
ঢাকা/আমিনুল