দুই উইকেট পেলেও ফাইনালে যাওয়া হলো না রিশাদের
স্টিভেন স্মিথের ব্যাটিং ঝলক আর জোয়েল ডেভিসের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বিগ ব্যাশ লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিল সিডনি সিক্সার্স। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) হোবার্ট হারিকেনসকে ৫৭ রানে বিধ্বস্ত করে শিরোপার মঞ্চে উঠল ছয়বারের চ্যাম্পিয়নরা।
প্রথমে ব্যাট করে সিক্সার্স তোলে ৮ উইকেটে ১৯৮ রান। ইনিংসের ভিত গড়ে দেন স্টিভেন স্মিথ। ৪৩ বলে ৬৫ রানের ইনিংসে ছিলেন আগ্রাসী ও নিয়ন্ত্রিত। একটি ছক্কা আর বেশ কয়েকটি নিখুঁত টাইমিংয়ের শটে হারিকেনস বোলারদের চাপে রাখেন তিনি। পাওয়ার প্লে পেরোনোর পর ১২ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১২০। তখনই দুইশোর বেশি রানের ইঙ্গিতই দিচ্ছিল ম্যাচ।
তবে রিশাদ হোসেনের এক ওভারে জোড়া আঘাতে কিছুটা লাগাম পড়ে সিক্সার্সের রানে। এরপরও জোয়েল ডেভিসের ১২ বলে ঝড়ো ২৭ আর ল্যাকলান শ’র ১৩ বলে ২১ রানের ক্যামিও ইনিংসের গতি ধরে রাখে। হারিকেনসের স্পিন বেশ কার্যকর ছিল। বিশেষ করে রিশাদ হোসেন। তিনি ৩৩ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। বিগ ব্যাশে তাতে তার মোট উইকেট হয়েছে ১৫। আর নিখিল চৌধুরী মাত্র ১৮ রানে শেষ করেন নিজের চার ওভার।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় হারিকেনস। পাওয়ার প্লে’তেই পড়ে যায় দুই উইকেট। মিচেল স্টার্কের গতির সামনে দাঁড়াতে পারেননি মিচেল ওউইন, আর বো ওয়েবস্টার ধীরগতির ২৭ বলে ২৪ রান করে দলকে চাপে ফেলেন। প্রয়োজনীয় রান বাড়তেই উইকেটের মিছিল শুরু হয়।
এখানেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেন জোয়েল ডেভিস। বামহাতি স্পিনে একের পর এক দুর্দান্ত ক্যাচ আর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে ভেঙে দেন হারিকেনসের মাঝের সারি। নিকিল চৌধুরী ও ম্যাথু ওয়েডকে ফেরানোর পর বদলি অধিনায়ক বেন ম্যাকডারমটকেও বিদায় করেন তিনি। তাও দারুণ এক ডিপ ক্যাচে।
শেষ পর্যন্ত হারিকেনস গুটিয়ে যায় অনেক আগেই। ব্যাটিং–বোলিং–ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই আধিপত্য দেখিয়ে সহজ জয় তুলে নেয় সিক্সার্স।
এই জয়ে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ পার্থ স্কর্চার্স। রোববার অপটাস স্টেডিয়ামে ষষ্ঠবারের মতো এই দুই দলের মধ্যে হবে বিগ ব্যাশের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই।
ঢাকা/আমিনুল