ঢাকা     বুধবার   ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ভারতেই কি শুরু হবে আগামী বিগ ব্যাশ?

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৩৫, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
ভারতেই কি শুরু হবে আগামী বিগ ব্যাশ?

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর বিগ ব্যাশ লিগের নতুন মৌসুম শুরু হতে পারে ভারতেই। এমন সম্ভাবনা এখন গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। শোনা যাচ্ছে, উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের জন্য সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে চেন্নাই।

এই ভাবনার অংশ হিসেবে বিগ ব্যাশের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন। তারা তামিলনাড়ু ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং চেপক স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন। যা ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগে চেন্নাইয়ের ফ্র্যাঞ্চাইজির ঘরের মাঠ হিসেবে পরিচিত। বিদেশে বিগ ব্যাশের ম্যাচ আয়োজন কতটা বাস্তবসম্মত, সেটিই ছিল এই সফরের মূল লক্ষ্য।

আরো পড়ুন:

তবে পরিকল্পনাটি যতটা আকর্ষণীয়, বাস্তবায়নের পথ ততটাই জটিল। প্রথমত, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন। পাশাপাশি সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর সম্মতিও জরুরি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যে দলটি নিজেদের ঘরের একটি ম্যাচ হারাবে, তাদের কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে? জানা গেছে, প্রয়োজনে আয়োজক সংস্থা সেই ম্যাচটি সংশ্লিষ্ট ক্লাবের কাছ থেকে কিনে নিতে পারে।

আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ সূচি। অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতের দূরত্ব, খেলোয়াড়দের যাত্রা, প্রস্তুতি ও ফিরে এসে বিশ্রামের সময়; সবকিছুই নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। তার ওপর ডিসেম্বর মাসে চেন্নাইয়ে বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে বিদেশে মৌসুম শুরুর নজির আছে। রাগবি লিগের জাতীয় প্রতিযোগিতা লাস ভেগাসে ম্যাচ দিয়ে মৌসুম শুরু করে। তবে সেই আসর চলে ছয় মাস, আর বিগ ব্যাশ শেষ হয় মাত্র সাত সপ্তাহে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত। ফলে সময়ের সংকট এখানে বড় বিষয়।

বিদেশে বিগ ব্যাশের ম্যাচ আয়োজনের আলোচনা আগেও হয়েছে। তবে এবারের উদ্যোগ এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। লিগে শিগগিরই বেসরকারি বিনিয়োগের দ্বার খুলে যেতে পারে। ভারতীয় বিনিয়োগকারী ও আইপিএল সংশ্লিষ্ট মালিকদের আগ্রহের কথাও শোনা যাচ্ছে। এমনকি সিডনি থান্ডার ও মেলবোর্ন রেনেগেডসের মতো দুই দলের শহরের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি মালিকানায় যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে ভারতীয় ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়েও বিধিনিষেধ রয়েছে। সাবেক চেন্নাই খেলোয়াড় রবিচন্দ্রন অশ্বিন চলতি মৌসুমে সিডনি থান্ডারের হয়ে খেলতে চুক্তিবদ্ধ হলেও হাঁটুর চোটে সরে দাঁড়ান। সক্রিয় ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটারদের বিদেশি টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার অনুমতি দেয় না ভারতীয় বোর্ড।

চলতি মৌসুমে বিগ ব্যাশ ছিল বেশ সফল। পার্থের অপটাস স্টেডিয়ামে ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন রেকর্ড ৫৫ হাজার ১৮ জন দর্শক। যেখানে শিরোপা জেতে পার্থ স্কর্চার্স। তবে আগামী মৌসুমে সূচি নিয়ে জটিলতা অপেক্ষা করছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফরে পাঁচ টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। সেই সফরে থাকা ক্রিকেটাররা বিগ ব্যাশের শেষভাগে অংশ নিতে পারবেন না।

এই মৌসুমে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে স্টিভেন স্মিথ ছয় ইনিংসে ২৯৯ রান করে দারুণ প্রভাব ফেলেছিলেন, যার মধ্যে ছিল এক ঝলমলে শতক। একই ম্যাচে ডেভিড ওয়ার্নারও শতক হাঁকান।

তবে সময়ের দিক থেকে বিগ ব্যাশকে লড়তে হয় আরও কয়েকটি টি-টোয়েন্টি আসরের সঙ্গে, যেগুলো একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট মৌসুমও জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত চলে।

সব মিলিয়ে, বিগ ব্যাশের উদ্বোধনী ম্যাচ ভারতে নেওয়ার ভাবনা সাহসী ও ব্যতিক্রমী। কিন্তু বাস্তবতার কঠিন অঙ্ক মেলাতে পারলেই কেবল চেন্নাইয়ে শুরু হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় এই লিগের নতুন অধ্যায়।

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়