মাহে রমজানের জন্য প্রস্তুত সিলেট নগরী
মোসাইদ রাহাত, সিলেট || রাইজিংবিডি.কম
পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে ধর্মীয় আবহে প্রস্তুত সিলেট। নগর ও জেলার মসজিদে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা, আলোকসজ্জা ও তারাবির আয়োজন করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাজার তদারকি জোরদার করেছে প্রশাসন। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে। সব মিলিয়ে স্বস্তির রমজানের প্রত্যাশা করছে নগরবাসী।
নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বড় মসজিদে মুসল্লিদের জন্য অতিরিক্ত জায়নামাজ, পানির ব্যবস্থা ও সাউন্ড সিস্টেম ঠিকঠাক করা হয়েছে। কয়েকটি মসজিদে ইফতার বিতরণ ও এতিম–অসহায়দের সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফিসের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান বলেন, ‘‘রমজানকে কেন্দ্র করে ইমাম ও খতিবদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মসজিদভিত্তিক কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন থাকবে।’’
আম্বরখানা এলাকার বাসিন্দা লুৎফুর রহমান বলেন, ‘‘রমজান মানেই শান্তি ও আধ্যাত্মিকতার সময়। সরকার যদি বাজারদরটা ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎটা ঠিক রাখতে পারে তাহলে বলা যাবে আমরা স্বস্তির রমজান পাব। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সেজন্য সরকারকে এখন থেকে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’’
বন্দরবাজার এলাকায় বাজার করতে আসা হোসনে আরা বলেন, ‘‘রমজানের আগে সব জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। বিশেষ করে খেজুর ও লেবুর দাম অনেক বেশি; এতে দৈনন্দিন মানুষদের জন্য স্বাভাবিক বাজেটে সমস্যা হচ্ছে। সরকারকে এদিকে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।’’
নিত্যপণ্যের বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই। চাল, ডাল, চিনি, ছোলা, খেজুর ও ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। নগরের বন্দরবাজার, সুবিদবাজার ও আম্বরখানায় খেজুরের অস্থায়ী দোকান বসতে শুরু করেছে।
বাজার তদারকি প্রসঙ্গে সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সিলেট নগরীতে পাঁচটি বাজার মনিরটিং টিম গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিলেট জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বলেন, রমজানকে সামনে রেখে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। সিলেটের মেট্রোতে পাঁচটি বাজার মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এগুলো এডিসিদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাছাড়া কেউ যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম না বাড়াতে পারে, সেদিকে কড়া দৃষ্টি থাকবে।
এদিকে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এবার পুরোটা রোজায় সক্রিয় থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কার্যালয়। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজানজুড়ে নিয়মিত বাজার অভিযান চলবে এবং ভাজাপোড়ায় রঙ এবং পোড়া তেল ব্যবহারে কড়াকাড়ি আরোপ করা হবে।
সিলেট জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা বলেন, সিলেট ব্যবসায়ীদের বৈঠক হয়েছে। পুরো রমজান মাস বাজারে নজরদারি বাড়ানো হবে। খাবারে রঙ ও পোড়া তেল ব্যবহার করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরবাসীর আরেকটি বড় প্রত্যাশা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অফিসের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল কাদির জানিয়েছেন, ইফতার ও তারাবিহর সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। গ্যাস ও পানির সরবরাহেও যেন ঘাটতি না হয়, সেই জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার ও মসজিদ এলাকায় টহল বাড়ানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে ইফতার ও তারাবিহর সময় যানজট ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, রমজানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইফতার ও তারাবিহর সময় যানজট ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মোড়ে পুলিশ থাকবে। তাছাড়া নগরীতে অপরাধ রোধে পুলিশ সজাগ ভূমিকা পালন করব।
সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও রমজান উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। অসচ্ছল মানুষের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ দেখা গেছে কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে।
৪ টেখায় ইফতার কর্মসূচির উদ্যোক্তা নাজিব আহমদ অপু বলেন, ‘‘৫ বছর ধরে আমরা সিলেটের অসহায় ও দিনমজুর মানুষের জন্য ৪ টেখায় ইফতার কর্মসূচি পালন করে আসছি। এবারও আমরা এই কর্মসূচি পালন করব।’’
ঢাকা/বকুল