ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৬ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

মসজিদের ধ্বংসাবশেষে একটি রোজা পার করলেন গাজার বাসিন্দারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:১৮, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২২:৩৭, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মসজিদের ধ্বংসাবশেষে একটি রোজা পার করলেন গাজার বাসিন্দারা

বুধবার গাজায় রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পরে ফিলিস্তিনিরা তাদের মৃত স্বজনদের মাগফিরাত কামনা এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া মসজিদগুলোর জন্য শোক প্রকাশ করতে তেরপলিন এবং কাঠ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী মসজিদে চলে গিয়েছিলেন।

গাজা শহরে বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত আল হাসানা মসজিদের গম্বুজটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটির আগের আঙ্গিনায় যেখানে একসময় মুসল্লিরা জড়ো হতেন এখন সেটি সবহারানোা পরিবারগুলো ঘুমাতে এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করে।

গাজা শহরের মসজিদের একজন স্বেচ্ছাসেবক ৬১ বছর বয়সী সামি আল হিসি বলেন, এই দৃশ্য দেখা আমার সহ্য হচ্ছে না। আমরা আরামে নামাজ পড়তাম। আমরা আমাদের বন্ধুদের, আমাদের প্রিয়জনদের দেখতে পেতাম। এখন কোনো প্রিয়জন নেই, কোনো বন্ধু নেই এবং কোনো মসজিদ নেই।

শিশুরা ভাঙা গম্বুজের উপর দিয়ে হেঁটে বেড়ায় এবং মহিলারা ভাঙা স্তম্ভের মধ্যে কাপড় ঝুলিয়ে রাখে।

আল হিসি জানান, রমজান মাসে মসজিদটি শেজাইয়া এবং দারাজসহ অন্যান্য পাড়া থেকে মুসল্লিদের টেনে আনত।

তিনি বলেন, “হাজার হাজার লোক দিয়ে পূর্ণ হতো। কিন্তু এখন তারা কোথায় প্রার্থনা করবে? সব ধ্বংস এবং ধ্বংসস্তূপ। ১০০ লোকের জন্য যথেষ্ট জায়গা নেই।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল গাজায় বিমান ও স্থল যুদ্ধ শুরু করে। এই হামলায় ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

হামাস পরিচালিত গাজা সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী ৮৩৫টি মসজিদ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে এবং ১৮০টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েল একাধিকবার গির্জা আক্রমণে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং গাজার ৬০টি কবরস্থানের মধ্যে ৪০টি ধ্বংস করেছে।

গাজার অনেক বাসিন্দার জন্য এই ক্ষতি আধ্যাত্মিক এবং সাম্প্রদায়িক উভয়ই।

বাস্তুচ্যুত এবং এখন মসজিদে অবস্থানরত খিতাম জাবর বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম যে আমরা রমজানকে ভিন্ন পরিবেশে স্বাগত জানাতে পারব। আমাদের পর্যাপ্ত মসজিদ নেই। সমস্ত মসজিদ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং নামাজ পড়ার জন্য কোথাও মসজিদ নেই। এখন আমরা তাঁবুতে নামাজ পড়ি এবং মসজিদগুলো বাস্তুচ্যুতদের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।”

গাজা শহরের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিচালক আমির আবু আল-আমিরাইন বলেন, “উপকরণের তীব্র ঘাটতি সত্ত্বেও, লোকেরা মসজিদের ছোট ছোট অংশ পুনর্নির্মাণ এবং পুনঃব্যবহৃত প্লাস্টিকের চাদর ও কাঠ ব্যবহার করে অস্থায়ী নামাজের স্থান স্থাপনের চেষ্টা করছে। ৪৩০টি নামাজের জায়গা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে কিছু প্লাস্টিকের চাদর ব্যবহার করা হয়েছে, কিছু কাঠের তৈরি জিনিসপত্র এবং কিছু তাঁবু থেকে আনা প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে।”

ঢাকা/শাহেদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়