৪৬ বছর পর এশিয়ান মঞ্চে, লড়াকু বাংলাদেশকে শেষ মুহূর্তে কাঁপাল চীন
এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপে আজ মঙ্গলবার মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। ১৯৮০ সালে পুরুষদের আসরে শেষবার খেলেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর আবারও মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, তাও এবার প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপে। সেই ঐতিহাসিক যাত্রার প্রথম অধ্যায়ে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে লড়াই করছে লাল-সবুজরা। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে দুই গোল হজম করে পিছিয়ে আছে ২-০ গোলে।
কিক অফের পর থেকেই চীন খেলেছে হাইলাইন ডিফেন্সে। ডিফেন্স লাইন অনেকটা ওপরে তুলে রেখে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছে তারা। খেলা গড়িয়েছে মূলত মাঝমাঠে, দুই দলেরই দখল নিয়ে টানটান লড়াই।
৪ মিনিটে প্রথম কর্নার পায় চীন। শামসুন্নাহার সিনিয়র বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে টাচলাইনের বাইরে পাঠালে সেই কর্নার আদায় করে নেয় চীন। কর্নার থেকে সরাসরি বিপদ না হলেও ৫ মিনিটে লিউ জিংয়ের নেওয়া শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। গোলকিপার মিলি ডাইভ দিলেও স্বস্তি পায় বাংলাদেশ।
৭ মিনিটের মধ্যেই চীনের তিনটি ছোট সুযোগ, এর মধ্যে দুটি উইং দিয়ে। নবীরুন বাঁ প্রান্তের আক্রমণ ঠেকিয়ে কর্নার দেন। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল, চীনের দুই উইংকে আটকে রাখাই হবে বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ।
১০ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে ফেলে দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন চীনের লু ইয়াটং। ম্যাচে শারীরিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত তখনই স্পষ্ট। ১২ মিনিটে বড় ধাক্কা এড়ায় বাংলাদেশ। বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে শট নেন চীনের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ওয়াং সুয়াং। মিলি প্রথম শট ঠেকালেও ফিরতি বলে আবারও হেড করেন তিনি। দূরের পোস্ট ঘেঁষে বল বাইরে চলে গেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ে বাংলাদেশ শিবিরে। উল্লেখ্য, ওয়াং সুয়াং চীনের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৪৬ গোল করা দলের বর্তমান স্কোয়াডের সর্বোচ্চ গোলদাতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতায় তিনি প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি।
১৪ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে ঝলমলে মুহূর্তটি আসে বাংলাদেশের দিক থেকে। বাঁ উইং ফাঁকা পেয়ে দুরপাল্লার বাঁ পায়ের শট নেন ঋতুপর্ণা। বলটি বাতাসে ভাসতে ভাসতে জালে ঢোকার মুখে, কিন্তু অসাধারণ লাফিয়ে সেভ করেন চীনের গোলকিপার চেন চেন। গোল পেতে পেতেও পাওয়া হলো না। দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের।
১৮ মিনিটে বক্সের ভেতর জটলার মাঝে শট নেন ওয়াং সুয়াং। গোললাইন অতিক্রমের আগমুহূর্তে ডাইভ দিয়ে বল ক্লিয়ার করেন শিউলি আজিম। ২০ মিনিটেও গোলকিপার মিলিকে একা পেয়েও জোরালো শট নিতে পারেনি চীন। রক্ষণে তখন পর্যন্ত দৃঢ় অবস্থানেই ছিল বাংলাদেশ।
২৪ মিনিটে বাংলাদেশের জালে বল জড়ায়। বাঁ প্রান্ত থেকে জিন কুনের ক্রসে হেডে গোল করেন ওয়াং সুয়াং। কিন্তু সিদ্ধান্ত থেমে যায় ভিএআরে। চার মিনিটের বেশি সময় ধরে রিপ্লে দেখার পর রেফারি পানসা চাইসেইন্ট অফসাইডের কারণে গোল বাতিল করেন। বড় ধাক্কা থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।
৪১ মিনিটে ম্যাচে প্রথম কর্নার পায় বাংলাদেশ। মনিকা চাকমার কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি হলেও শামসুন্নাহার জুনিয়র শট নিতে পারেননি। গোলশূন্য সমতায় প্রথমার্ধ শেষের পথে, তখনও লড়াইয়ে সমানে সমান ছিল দুই দল।
কিন্তু ৪৪ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন সেই ওয়াং সুয়াং। বক্সের বাইরে থেকে দুরপাল্লার শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। চীন এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে। প্রথমার্ধে ৭ মিনিট যোগ করা সময় দেওয়া হয়। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই (৪৬’) আরও এক ধাক্কা। ঝ্যাং রুইয়ের নেওয়া নিচু শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকুর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে পড়ে। তিন মিনিটের ছোট্ট এক ‘টর্নেডো’য় ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চীন।
যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে (৫২’) সহজ সুযোগ নষ্ট করেন লিউ জিং। তাতে ব্যবধান আর বাড়েনি।
প্রথম ৪০ মিনিট পর্যন্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষতায় খুব বেশি ফারাক চোখে পড়েনি, যদিও শারীরিক সক্ষমতায় চীনের প্রাধান্য স্পষ্ট ছিল। রক্ষণে শিউলি-মিলিদের দৃঢ়তা, মাঝমাঠে লড়াই আর ঋতুপর্ণার দারুণ শট- সব মিলিয়ে আশা জাগানো পারফরম্যান্সই ছিল।
তবে শেষ মুহূর্তের দুই গোলেই বদলে গেছে চিত্র। ইতিহাস গড়া প্রত্যাবর্তনের এই ম্যাচে এখনও দ্বিতীয়ার্ধ বাকি। লাল-সবুজদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ- ঘুরে দাঁড়ানোর।
ঢাকা/আমিনুল