মেসির ৯০০ গোল, রোনালদোর ১০০০ হবে কবে?
৮৯৯ গোল নিয়ে দুই ম্যাচে গোলের দেখা পাননি লিওনেল মেসি। অপেক্ষায় ছিল বড় মাইলফলক ছোঁয়ার। বয়স ৩৮ হয়ে গেলেও এখনও সবুজ ঘাসে দাপিয়ে বেড়ান মেসি। গোল ক্ষুধা কমেনি একটুও। পরের ম্যাচেই সেই অপেক্ষা ফুরিয়ে যায়।
কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের ম্যাচে ন্যাশভিলের বিপক্ষে গোল করে ক্যারিয়ারের ৯০০তম গোলটি পূর্ণ করেছেন এই ‘এলএম টেন’। ফুটবল ইতিহাসে অফিশিয়াল ম্যাচে ৯০০ গোল করা মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার তিনি।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম ফুটবলার হিসেবে এই চূড়ায় পা রাখেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এক হাজার ২৩৬ ম্যাচ খেলে এই মাইলফলকের দেখা পেয়েছিলেন রোনালদো। এক হাজার ১৪২ ম্যাচে তা করে ফেললেন মেসি। রোনালদোর চেয়ে ৯৪ ম্যাচ কম খেলে ৯০০ গোলের দেখা পেলেন মেসি। ৭৬৫ গোল নিয়ে তিনে আছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে।
মেসির এই মাইলফলক ছোঁয়ার দিনে প্রশ্ন উঠছে, রোনালদোর ১০০০তম গোল হবে কবে? ক্যারিয়ারে ১০০০ গোলের টার্গেট করেছেন সিআরসেভেন। পর্তুগিজ সুপারস্টার সেই লক্ষ্যের পথে ছুটছেন অবিচল। মাঠে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। তাতে সহস্র চ্যালেঞ্জও চলে আসছে নিকটে?
রোনালদো অন্তত আরও 'এক বা দুই বছর' খেলা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ফলে তার স্বপ্নের লক্ষ্য এখন বেশ নাগালে বলেই মনে হচ্ছে। গত বছরের শেষ দিকে 'গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডস'-এ মধ্যপ্রাচ্যের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন রোনালদো। দুবাইয়ে সেই অনুষ্ঠানে পুরস্কার হাতে রোনালদো ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘‘আপনারা জানেন, আমার লক্ষ্য কী। আমি ট্রফি জিততে চাই এবং সেই সংখ্যাটিতে (১০০০ গোল) পৌঁছাতে চাই। যদি বড় কোনো চোটে না পড়ি, তাহলে আমি নিশ্চিতভাবেই ওই সংখ্যায় পৌঁছাব।'’
২০২৬ বিশ্বকাপ রোনালদোর ক্যারিয়ারের অবস্থান নির্ধারণ করে দিতে। পর্তুগাল কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি। তবে পর্তুগালের স্বপ্ন সত্যি করতে রোনালদোর আপনরূপে জ্বলে ওঠাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। রোনালদোর জ্বলে উঠে মানেই গোলের স্রোত। সেই স্রোতে নিজের ব্যাক্তিগত লক্ষ্যটাও পূরণ হয়ে যেতে পারে।
৪১ বছর বয়সের ভারে তার সব শক্তিতেই কিছুটা ভাটা পড়েছে; তবে গোলের ক্ষুধা আছে সেই আগের মতোই। গোল সংখ্যাটা তিন থেকে চার অঙ্কে নিয়ে যেতে পারলে রোনালদো শুধু ইতিহাসই গড়বেন না, ফুটবলকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন যেখানে উঠা কেবলমাত্র তার পক্ষেই সম্ভব তা অক্ষয় কালিতে লিখে দেবেন।
ফুটবল বিশ্ব মেসি কিংবা রোনালদোর নাম উঠলেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। যা হওয়াটা একেবারে স্বাভাবিকই। তবে দুই কিংবদন্তি ফুটবলের প্রেমে পড়তে যেভাবে বাধ্য করেছে তা অতিমানবীয়, অনন্য। মেসির পায়ের মুগ্ধতা, রোনালদোর ফ্রি কিক, ড্রিবলিংয়ের দক্ষতা চোখ জুড়াতে বাধ্য করে। কেউ কাউকে ছাড় দেন না। একজনক আরেকজনের কীর্তিতে নতুন চ্যালেঞ্জ পান। এখন কেবল রোনালদোর সহস্রের অপেক্ষা। এরপর মেসির পালা।
দুই কিংবদন্তি এমন কিছু করতে পারলে তা হবে ফুটবলপ্রেমিদের পরম পাওয়া।
ঢাকা/ইয়াসিন