পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
পর্যটকদের বরণে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটকের অপেক্ষায় পর্যটন জেলা মৌলভীবাজার। সবুজ চা বাগান, পাহাড়, আর জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবার পর্যটকদের ঢল নামবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতোমধ্যে হোটেল-রিসোর্ট-কটেজে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ২২ থেকে ২৪ মার্চ এই তিন দিনের জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ হোটেল, রির্সোট, কটেজসহ আর্ন্তজাতিক মানের ফাইভস্টার হোটেল বুকিং হয়ে গেছে।
প্রকৃতি যেন আপন হাতে সাজিয়েছে মৌলভীবাজারকে। চা বাগানের সবুজ গালিচা, লাউয়াছড়ার জীববৈচিত্র্য, হামহাম আর মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত কিংবা আদিবাসী পল্লীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা সব মিলিয়ে পর্যটকদের কাছে এক অনন্য গন্তব্য এই জেলা। প্রকৃতিকে কাছে পেতে সারা বছরই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হোটেল-রিসোর্টগুলোকে সাজানো হচ্ছে নতুন আঙ্গিকে। দেওয়া হচ্ছে নানা ধরনের অফারও। ইতোমধ্যে ছোট-বড় অনেক হোটেলে ৮০ শতাংশ থেকে শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। আর রেস্টুরেন্টগুলোতেও চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
পর্যটনকে ঘিরে জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে রয়েছে মণিপুরীদের তাঁতে বুনা কাপড়ের দোকান। আছে বিভিন্ন মানের চা পাতা আর দৃষ্টিনন্দন শোপিসের দোকান।
শ্রীমঙ্গলের রাধানগরের শোপিস পণ্য ব্যবসায়ী মীর মারুফ রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, রমজান মাসে আমাদের ব্যবসায় মান্দাভাব বিরাজ করছে। ঈদের সময় পর্যটকের আগমনে ব্যবসা ভালো হবে।
চা পাতা বিক্রেতা মো. জিয়াউল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসাই পর্যটককেন্দ্রিক। আমরা আশাবাদী ঈদের ছুটিতে অনেক পর্যটকের ঢল নামবে। তখন বেচাকেনা বাড়বে।
মণিপুরী কাপড়ের দোকানি ঋতি সিনহা বলেন, রমজানে পর্যটকদের আগমন কম থাকায় এসব দোকানে ব্যবসায়ে ভাটা পড়েছে। তবে ঈদকে ঘিরে দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকরা এলে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যাবে।
কথা হলে গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান বলেন, ঈদের সময় বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতি কম থাকে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর পর্যটক আসেন। আমাদের বুকিং প্রায় শেষ।
জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার টিলাগাও ইকো ভিলেজ-এর ব্যবস্থাপক মো. সোহেল আহমদ জানান, পর্যটকের কথা চিন্তা করে আমরা ভিলেজটা সাজাই। আমাদের এখানে রয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ, যা ইট ও ছন দিয়ে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তুলেছি। এটা বাংলাদেশের অন্যান্য ইকো ভিলেজের চেয়ে পুরোটাই ব্যতিক্রম। আমাদের প্রায় ৯৫ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার শ্রীমঙ্গল চামুং রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ইকো ক্যাফের স্বত্বাধিকারী তাপস দাশ বলেন, ঈদের ছুটিতে যারা বেড়াতে আসবেন, তাদের জন্য আমরা স্থানীয় ও আদিবাসী খাবারের বিশেষ আয়োজন করেছি। এতে পর্যটকরা এ অঞ্চলের স্বাদ ও খাবার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের হিসাবরক্ষক কাম প্রশাসনিক সহকারী মো. আফজালুল হক বলেন, রমজান মাসে লাউয়াছড়ায় পর্যটক আনাগোনা কম থাকে। ঈদের সময় পর্যটকদের ঢল নামবে বলে আমরা আশাবাদী।
ট্যুরিস্ট পুলিশ, শ্রীমঙ্গল জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান চৌধুরী বলেন, পর্যটন স্পটগুলোতেও শেষ হয়েছে প্রস্তুতি। আর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুতি রয়েছে প্রশাসন ও পর্যটন পুলিশ।
ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির টানে অর্ধলক্ষাধিক পর্যটকের পদচারণায় আবারও মুখরিত হবে মৌলভীবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। এতে চাঙা হবে স্থানীয় অর্থনীতি- এমনটাই প্রত্যাশা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের।
ঢাকা/আজিজ/ফিরোজ