আরেকটি ‘পাগলাটে’ রাতের অপেক্ষা, পিএসজি-বায়ার্নের ময়দানি লড়াই
ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে জমজমাট রাতগুলোর একটি অপেক্ষা করছে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বুধবার মুখোমুখি হবে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ। মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় যে দল জিতবে, তারাই পৌঁছে যাবে বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে।
প্রথম লেগেই দুই দল উপহার দিয়েছিল এক অবিশ্বাস্য ফুটবল নাটক। প্যারিসে ৫-৪ ব্যবধানে জিতেছিল পিএসজি, যা চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের সেমিফাইনাল ম্যাচ। আক্রমণ, গতি, পাল্টা আক্রমণ আর গোলবন্যায় ভরা সেই ম্যাচ এখনো আলোচনায়। আর দ্বিতীয় লেগেও একই রকম আগুনঝরা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে দুই শিবির।
পিএসজি মিডফিল্ডার ওয়ারেন জায়েরে এমেরি মনে করছেন, প্রথম লেগ ছিল “অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ”, আর দ্বিতীয় লেগেও তারা একই রকম তীব্রতা দেখতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, এমন ম্যাচ খেলতেই ফুটবলাররা মাঠে নামে। গোল, গতি আর লড়াইয়ে ভরা সেই রাত ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগের অন্যতম সেরা প্রদর্শনী।
প্রথম লেগে চোট পাওয়া আশরাফ হাকিমির অনুপস্থিতিতে জায়েরে এমেরিকেই ডান প্রান্তের রক্ষণে দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনোভাবেই রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলতে নামছে না। ড্র করলেই ফাইনাল নিশ্চিত হলেও তার দলের লক্ষ্য কেবল জয়। এনরিকে বিশ্বাস করেন, ইউরোপের দুই সেরা আক্রমণাত্মক দলের লড়াইয়ে আবারও ফুটবলপ্রেমীরা দুর্দান্ত এক ম্যাচ দেখতে চলেছে।
তার মতে, দুই দলের কেউই প্রতিপক্ষকে নিজেদের চেয়ে ভালো মনে করে না। আর এই মানসিকতাই ম্যাচটিকে আরও ভয়ংকর ও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।
বায়ার্ন শিবিরেও একই আত্মবিশ্বাস। কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি আক্রমণাত্মক দর্শন থেকে সরে আসার কোনো কারণ দেখছেন না। তার মতে, পুরো মৌসুমে যেভাবে খেলেছে দল, এখন সেই পরিচয় বদলানোর সময় নয়। ঘরের মাঠে খেলছে বায়ার্ন, তাই জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছেও না তারা।
দলের জন্য সুখবর, ইনজুরি থেকে ফিরেছেন রাফায়েল গেরেইরো ও লেনার্ট কার। তবে সার্জ গনাব্রি এখনো অনুপস্থিত থাকছেন।
প্রথম লেগে কখনো আক্রমণভাগ, কখনো রক্ষণভাগ আধিপত্য দেখিয়েছে। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কোম্পানি বলছেন, পুরো ৯০ মিনিট শতভাগ মনোযোগী থাকতে হবে। সামান্য ভুলও ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
একদিকে পিএসজির গতিময় আক্রমণ, অন্যদিকে বায়ার্নের ঘরের মাঠের আগ্রাসী ফুটবল; সব মিলিয়ে ইউরোপীয় মৌসুমের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি অপেক্ষা করছে। আর শেষে হাসবে কে, সেটার উত্তর মিলবে মিউনিখের আগুনঝরা রাতে।
ঢাকা/আমিনুল
১৬ মে চাঁদপুর ও ২৫ মে ফেনী সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী