ঢাকা     বুধবার   ০৬ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৩ ১৪৩৩ || ১৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নোবিপ্রবির কর্মচারীর বিরুদ্ধে সিল জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১৩, ৬ মে ২০২৬   আপডেট: ১৮:১৩, ৬ মে ২০২৬
নোবিপ্রবির কর্মচারীর বিরুদ্ধে সিল জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ‘কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট’ হিসেবে কর্মরত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহাদাত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার কথা বলে নগদ অর্থ নিতেন। পরে সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখা একটি নকল সিল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের রসিদে সিল দিতেন। ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর দেখে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্ত থাকলেও বাস্তবে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে তার কাছেই থেকে যেত।

আরো পড়ুন:

দীর্ঘদিন ধরে সুকৌশলে চলা এই জালিয়াতি গত ১৪ এপ্রিল একটি ছোট বানানগত অসংগতির মাধ্যমে ধরা পড়ে। অগ্রণী ব্যাংকের নোবিপ্রবি শাখার আসল সিলে ‘Cash Receive’ লেখা থাকলেও শাহাদাতের নকল সিলে ছিল ‘Cash Received’। রসিদে এই সামান্য পার্থক্য নজরে আসায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি রসিদে নকল সিল ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দ্রুত বিষয়টি ধরা পড়ায় অর্থের পরিমাণ বড় হয়নি। তবে একার পক্ষে এমন জালিয়াতি করা কঠিন হওয়ায় এর পেছনে অন্য কারো সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মচারীকে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ডেপুটি কন্ট্রোলার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অগ্রণী ব্যাংকের নোবিপ্রবি শাখার ম্যানেজার জুলফিকার হায়দার বলেন, “কিছু রসিদের ছবি আমাদের দেখানো হলে আমরা নিশ্চিত হই, সেগুলো আমাদের ব্যাংকের সিল নয়। আমাদের সিল অত্যন্ত নিরাপদভাবে ব্যবহৃত হয় এবং স্বাক্ষর যাচাই করলেই জালিয়াতি ধরা যায়। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।”

গত ৩০ এপ্রিল এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন রেজিস্ট্রার দপ্তরের কাউন্সিল শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য হিসেবে হিসাব পরিচালক দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবির।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, “এ মুহূর্তে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। আমরা ইতোমধ্যে বসেছি এবং প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছি। সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার ও নথি যাচাই শেষে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে একজনের নাম এসেছে, তবে অন্য কেউ জড়িত কি না তা তদন্ত শেষে জানা যাবে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শাহাদাত হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/শফিউল্লাহ/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়