আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ
সৌম্যকে দলে নেওয়া থেকে বিশ্বকাপ আক্ষেপ, জবাব দিলেন লিটন
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম || রাইজিংবিডি.কম
ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে বাংলাদেশ। এবার সেই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামতে যাচ্ছে টাইগাররা। সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগের দিন চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে দলের মানসিকতা, স্কোয়াড নির্বাচন, পেস আক্রমণ, স্পিন পরিকল্পনা এবং বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশার বার্তা দেন লিটন। তিনি জানান, আগের তুলনায় এখন অনেকটাই সুস্থ বোধ করছেন। ম্যাচে খেলবেন কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শেষ মুহূর্তে।
তবে ব্যক্তিগত বিষয় ছাপিয়ে অধিনায়কের কণ্ঠে সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে দলের আত্মবিশ্বাস। লিটনের মতে, শুধু সিরিজ জয় নয়, ওয়ানডে সিরিজ জুড়েই ভালো ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। সেই ইতিবাচক দিকটাই টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাড়তি শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
“অবশ্যই বড় দলের সঙ্গে ভালো ক্রিকেট খেললে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। আমরা তিনটি ম্যাচেই ভালো ক্রিকেট খেলেছি। যদিও টি-টোয়েন্টি ভিন্ন ফরম্যাট। তবে আমাদের দলে যারা আছে, তাদের বেশিরভাগই ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে। সেই আত্মবিশ্বাসটা দলের মধ্যে আছে,” বলেন লিটন।
অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে সামনে রেখে এবার পূর্ণ শক্তির দল পাচ্ছে বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও তরুণ গতিতারকা নাহিদ রানাকে নিয়ে শক্তিশালী পেস আক্রমণ গড়ে উঠেছে। এ প্রসঙ্গে লিটনের ভাষ্য, “এটা বাংলাদেশের জন্য খুবই ভালো খবর। বেঞ্চ শক্তিশালী হলে প্রতিযোগিতা বাড়ে। তাসকিন, ফিজের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা ফিরে এসেছে। পুরো শক্তি নিয়েই আমরা সিরিজে যাচ্ছি।”
দলের উন্নতির জায়গা প্রসঙ্গে অধিনায়ক বিশেষভাবে উল্লেখ করেন লোয়ার মিডল অর্ডারের কথা। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই বিভাগ থেকে আরও কার্যকর অবদান এলে দলের ফলাফল আরও ভালো হবে।
এদিকে টি-টোয়েন্টি দলে দীর্ঘদিন পর সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকারের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন লিটন। তিনি জানান, নিজের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা এবং ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের অসুস্থতার কারণে বাড়তি বিকল্প হিসেবে সৌম্যকে দলে নেওয়া হয়েছে। “আমি নিজেই ফিফটি-ফিফটি অবস্থায় ছিলাম। ইমনেরও কিছুটা অসুস্থতা আছে। তাই আমরা ঝুঁকি নিতে চাইনি। সেই কারণেই সৌম্যকে নেওয়া হয়েছে,” বলেন অধিনায়ক।
স্পিন বিভাগ নিয়ে কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন লিটন। রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ ও সাকলাইন সজীবের মধ্যে কাকে খেলানো হবে, তা নির্ভর করবে উইকেট ও ম্যাচ পরিস্থিতির ওপর। সাকলাইনের খেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। চট্টগ্রামের উইকেট নিয়ে অবশ্য এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। অনুশীলনের পর উইকেট পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পেসার শরিফুল ইসলামকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে লিটন বলেন, শরিফুল কখনোই দ্বিতীয় সারির পেসার নন। বরং বাংলাদেশের পেস আক্রমণে এত বেশি বিকল্প তৈরি হয়েছে যে সবাইকে একসঙ্গে খেলানো সম্ভব হয় না। “আমার মনে হয় না শরিফুল নিজেকে ফার্স্ট চয়েজের বাইরে ভাবে। সেও ফার্স্ট চয়েজ। কিন্তু তিন ফরম্যাট মিলিয়ে এত পেসার আছে যে কাউকে কাউকে রোটেশনে যেতে হয়,” বলেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার আগ্রাসী ক্রিকেট নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও লিটনের জবাব ছিল আত্মবিশ্বাসী। “এই ফরম্যাটই আগ্রাসী। সবাই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে। অস্ট্রেলিয়া বড় দল, তারা তাদের মতো খেলবে। আমরাও আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে চাই।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে উঠে আসে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ। সম্প্রতি ক্রিকেট বিশ্লেষক হার্শা ভোগলে মন্তব্য করেছিলেন, সুযোগ পেলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভালো করতে পারত। এ বিষয়ে লিটন বলেন, সেই সময় দলটি ভালো ছন্দে ছিল এবং বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতও ছিল। “হার্শা ভোগলের মতো মানুষ অনেক ক্রিকেট দেখেছেন। আমার কাছেও মনে হয়েছে দলটা প্রস্তুত ছিল। খেলাটা এশিয়ায় হওয়ার কথা ছিল। আমাদের দলও ভালো ছন্দে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠে না নামলে কিছুই বলা যায় না। নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্সই সবকিছু নির্ধারণ করে,” বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস, পূর্ণ শক্তির পেস আক্রমণ এবং ঘরের মাঠের সমর্থন। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে বেশ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ শিবির। এখন দেখার বিষয়, সেই আত্মবিশ্বাস মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।
ঢাকা/রেজাউল//