ঢাকা, বুধবার, ১১ বৈশাখ ১৪২৬, ২৪ এপ্রিল ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নকশার জটিলতা কেটেছে, জানুয়ারিতেই বসছে ষষ্ঠ স্প্যান

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-১৬ ১০:৩১:২০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০২-০৮ ১১:৫৩:০৩ এএম

হাসান মাহামুদ : সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প। সেতুর ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের নকশায় কিছুটা ক্রুটির কারণে সেতুটির নির্মাণ কাজে বারবার বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছিল। অবশেষে নকশার জটিলতা কেটেছে। ফলে এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই দুটি পিলার স্থাপনের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে চলতি জানুয়ারি মাসেই সেতুতে ষষ্ঠ স্প্যান বসানো হচ্ছে। সপ্তম স্প্যান বসবে ফেব্রুয়ারিতে।

৪১টি স্প্যানের মধ্যে ইতিমধ্যে পাঁচটি বসানো হয়েছে। ষষ্ঠ স্প্যান বসলে পদ্মা সেতুর কাজ আরো দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের সংশোধিত নকশায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম এ অনুমোদন দেন।

নকশা অনুযায়ী পদ্মা সেতুর ২২টি পিলারের মধ্যে ২০টির সমাধান আগেই হয়েছিল। শুধু আটকে ছিল ৬ ও ৭ নম্বর পিলার। মঙ্গলবার এ দুটি পিলারের সংশোধিত নকশাও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হলো। নকশা অনুযায়ী, এই দুটি পিলারের প্রতিটিতে ছয়টি করে পাইল বসানোর পর অতিরিক্ত একটি পাইল মাঝখানে বসানো হবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কাজের সূচনাই হয়েছিল মাওয়া প্রান্তে ৬ নম্বর পিলার দিয়ে। তবে বাস্তবে কাজ শুরুর সময়ে সেখানে জটিলতা দেখা দেয়। এ অংশে নদীর তলদেশের মাটির গঠনের কারণে কিছুতেই পিলার বসানো সম্ভব হচ্ছিল না। পরে কাজ সরিয়ে নেওয়া হয় জাজিরা প্রান্তে। সেখানে নদীর তলদেশের মাটিতে সমস্যা না থাকায় একের পর এক বসানো হয় পিলার ও স্প্যান। একইসঙ্গে কাজ চলে মাওয়া প্রান্তের নকশা জটিলতা সমাধানের। দীর্ঘ এক বছর পর সে প্রচেষ্টা আলোর মুখ দেখল।

পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, নকশার সময়ে পাওয়া সব সয়েল টেস্ট করা হয়নি। পরে যখন সব টেস্ট করা হলো, দেখা গেল প্রায় ২২টাতে ভিন্ন সয়েল পাচ্ছি। এটা করতে গিয়ে কিছু টেস্ট করতে হলো, যাতে প্রায় বছরখানেক সময় লাগল।

তবে মাওয়া প্রান্তে নকশার সমাধান হলেও এ প্রান্তে স্প্যান দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েক মাস। কারণ ধারাবাহিকতা রাখতে এ মাসের শেষ সপ্তাহে সেতুর ষষ্ঠ স্প্যানটি বসানো হবে জাজিরা প্রান্তে আগের ৫টির সঙ্গেই।

দৃশ্যমান ৭৫০ মিটার : প্রতিটি দেড়শ মিটার দৈর্ঘ্যের পাঁচটি স্প্যান বসে যাওয়ায় পদ্মা সেতুর ৭৫০ মিটার অংশ এখন দৃশ্যমান। ইতিমধ্যে ষষ্ঠ ও সপ্তম স্প্যান দুটি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। ষষ্ঠ স্প্যানটি বসানো হবে সেতুর ৩৭ ও ৩৬ নম্বর পিলারের ওপর। আর সপ্তম স্প্যানটি ৩৬ ও ৩৫ পিলার দুটির মাঝে বসানো হবে।

পুরো সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। একটি থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার। ৪২টি খুঁটির ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। স্প্যানের অংশগুলো চীনে তৈরি করে সমুদ্রপথে জাহাজে করে আনা হয় বাংলাদেশে। ফিটিং করা হয় মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে। প্রতিটি পিলারে পাইলের সংখ্যা ছয়। সব মিলিয়ে ২৪০টি পাইল বসানোর কথা ছিল। ইস্পাতের এসব পাইল মাটির নিচে ৯৬ থেকে ১২৮ মিটার পর্যন্ত গভীরে বসানোর কথা।

সেতুতে মোট পাইলিংয়ের সংখ্যা ২৬৪টি। দ্বিতলবিশিষ্ট এই সেতুটি কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে। এর ডিজাইন করেছে নিউজল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি এইকম। পুরো প্রকল্পে প্রায় ৪ হাজার জনবল কাজ করছে। এর মধ্যে দেশীয় ৩ হাজার ও চীনের ৯০০। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পলের মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। সংযোগ সেতু (ভায়াডাক্ট) ৩.১৮ কিলোমিটর। সেতুর প্রস্থ হবে ৭২ ফুট, এতে থাকবে চার লেনের সড়ক। সংযোগ সড়ক দুই প্রান্তে (জাজিরা ও মাওয়া) ১৪ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করে। এর আগে পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে ২০০৭ সালে একনেকে ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফা ব্যয় বাড়িয়ে সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

২০১২ সালের জুনে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। যদিও দুদকের তদন্তে বাংলাদেশে বিরুদ্ধে এ অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

এরপর ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ২০১৪ সালের ১৮ জুনে প্রকল্পে চুক্তিবদ্ধ কোম্পানির নাম চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড। নদী শাসনের কাজ করছে চায়নিজ সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড। সংযোগ সড়কসহ বাকি কাজ করছে দেশীয় বিভিন্ন কোম্পানি।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ জানুয়ারি ২০১৯/হাসান/ইভা

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge