ঢাকা, সোমবার, ৬ কার্তিক ১৪২৫, ২২ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

এমন লক্ষ্মী পর্যটক আর হয় না

ফেরদৌস জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-২৯ ৪:০০:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-২৯ ৪:০০:০৯ পিএম

(ভিয়েতনামের পথে: ৪৪তম পর্ব)

ফেরদৌস জামান: দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক নীরব থাকার পর গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে হঠাৎ ফুঁসে ওঠে মাউন্ট আগুং আগ্নেয়গিরি। প্রাণ রক্ষার্থে দেশের সরকার সোয়া লাখ অধিবাসীকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এর আগে ১৯৬৩ সালে ছিল মাউন্ট আগুং আগ্নেয়গিরির সর্বশেষ উদ্‌গিরণ। সেবার অবশ্য এগারশ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এতদিন পর হঠাৎ ফুঁসে ওঠা আগ্নেয়গিরির কাছে যাওয়া আজ আমাদের লক্ষ্য। স্কুটি ভাড়া করা আছে দুই দিনের জন্য। আজ দ্বিতীয় দিন। আগের দিনের মতো আর কোনো পেরেশানি নেই, তবে আজকের পথের দূরত্ব ষাট-সত্তুর কিলোমিটার।

সকালেই বেরিয়ে পরলাম। গতকাল সারাদিন স্কুটির পেছনে বসে থাকতে থাকতে পশ্চাৎদেশের হাল এমন হয়েছে যেন কাঁটা চামচ দিয়ে কেউ উপর্যপরি খুঁচিয়েছে। গতি রোধকের হালকা ঝাকুনিতেও যেন জান বেরিয়ে আসছে। মনে হচ্ছে নেমে পরি আর পায়ে হেঁটেই মাউন্ট আগুং দেখে আসি। মানচিত্রের নির্দেশনায় আজ চলছি মহাসড়ক ধরে। পথের অনেকটা সমুদ্রের পাশ দিয়ে। মাঝেমধ্যে গাছপালা ছাপিয়ে দেখা দেয় ভারত মহাসাগরের নীল জলরাশি। হমাসড়ক হলেও যানবাহণের সংখ্যা সীমিত। প্রচণ্ড রোদ আর সমুদ্রের ঢেউ ধোয়া শীতল বাতাসের সংঘাতের মাঝ দিয়ে এগিয়ে চলছি। গন্তব্য তার আপন খেয়ালেই বামে বাঁক নিয়ে নিল। গ্রামীণ সরু পথের স্নিগ্ধতায় মন ভাসিয়ে আর কত দূর যেতে হবে জানা নেই। বহুদূও পরপর দু’একটি বসতি। আর সেই বসতির মাঝ থেকে কালেভদ্রে কেউ কেউ বেরিয়ে আসছে পথের ধারে। আমাদেরকে দেখে তাদের মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া নেই। একটি করে কালো হেলমেটে মাথা লুকানো। মাথা থেকে হেলমেট সরিয়ে যখনই কারও শরণাপন্ন হচ্ছি তখনই কেবল কৌতুহ নিয়ে এগিয়ে আসছে। এতক্ষণ পর্যন্ত সঠিক পথেই আছি, যদিও এটা মাউন্ট আগুং যাওয়ার সচারচর পথ নয়। তা নিয়ে অবশ্য আমাদের মাথা ব্যথা নেই, পথেই তো আছি। তাছাড়া ভিন্ন দেশের ভিন্ন প্রজাতীর পরিবেশ-প্রকৃতির মাঝ দিয়ে যেতে যেতে পথ যদি শেষ না হয় তাতে কোন ক্ষেদ নেই।



নির্জন বসতি। পথের ধারে পুরনো বৃক্ষের তলে এক দোকান। মাংশের খুশবু ছড়ানে ধোঁয়া সকালের নাস্তার কথা মনে করিয়ে দিল। কাঠিতে গাঁথা ছোট ছোট মাংশের টুকরো কয়লার আঁচে ঝলসানো হচ্ছে। পতায় মোড়ানো নরম ভাতের লাম্বা দণ্ড।  তিন কোণা, চারকোণা অথবা গোল আকৃতির ভাত দণ্ড এখানকার অন্যতম খাবার। ছুরি দিয়ে কাটা ভাতের টুকরোয় এক ধরণের ঝোল ছড়িয়ে পাশে দেয়া হলো ঝলসানো মাংশের টুকরো। বাঁশের সরু কাঠিতে ফুঁড়ে ফুঁড়ে খাওয়া। কাঠের পিঁড়িতে বসে ভিন্ন স্বাদের এমন খাবার খাওয়ার মত অতি সাধারণ ঘটনা আমার কাছে অনেক মূল্যবান। এখন দুই পাশে শুধু বসতি তবে তা ঘন নয়, শুধু রাস্তার পাশ ধরে দু’চারটি করে ঘর। প্রতিটি বাড়ির সামনে পাথরের সেই ঐতিহ্যবাহী দরজা। ফুটপাথ দিয়ে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের দিকে যাচ্ছে। এখানেই এক শিক্ষার্থীর মা আশ্বস্ত করলেন মাউন্ট আগুং আর বেশি দূরে নয়- এক থেকে দেড় ঘণ্টার পথ। এমন সুসংবাদের পরবর্তী অনুভূতি ভাষায় প্রকাশের  অতীত। পরক্ষণেই মনটা ছোট হয়ে গেল যখন তিনি জানালেন গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরের পর থেকে মাউন্ট আগুং এলাকার কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে যাওয়া নিষেধ। তবে বুকিত জাম্বুল নামক এক জায়গা আছে যেখানে গেলে আগুং-এর দেখা মিলতে পারে। আমরা তাতেই খুশি। এটি একটি ছোট্ট শহর। শহরের মাঝ দিয়ে আয়নার মত পরিষ্কার পথ। কয়েক কিলোমিটার পর থেকেই সবজি ক্ষেত ও বসতির মাথার উপর দিয়ে দৃশ্যমান হলো সুউচ্চ এক পর্বত শ্রেণী। ঠিক তার মাঝ থেকে ধূসর বর্ণের একটি শৃঙ্গ অনেক উঁচুতে উঠে দাঁড়িয়ে আছে। দুর্দান্ত প্রতাপে শাসন করছে অত্র এলাকার পাহাড়-পর্বত ও সমতল। ইচ্ছা হলেই পেটের ভেতর থেকে উগড়ে দেয় উত্তপ্ত লাভার স্রোত। সব কিছু ভষ্ম করে দিয়ে শুরু করে আবার নতুন অধ্যায়ের। কত কাল থেকে চলছে তার এই একচ্ছত্র প্রতাপ তা কারও জানা নেই।

স্কুটির পেছনে বসার সুবাদে মাউন্ড আগুং আমার দৃষ্টি সীমায় বন্দি। ঘরবাড়ি অথবা পাহাড়ের আড়ালে চলে গেলেই মনে হচ্ছে আর বোধহয় খুঁজে পাব না। যতই এগিয়ে যাচ্ছি পর্বত চূড়া আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আশপাশে তার সমান আর একটি পর্বতও নেই। নীল আকাশের নিচে মাউন্ট আগুংকে পাশে রেখে অলস পরে আছে এক দল সাদা মেঘ। দেখতে দেখতে লোকালয় ছেড়ে হারিয়ে গেলাম বনের মধ্যে। বুনো পথ ক্রমেই তুলে নিয়ে যাচ্ছে উঁচুতে। পাহাড়ের ভাঁজ আর পাঁজর দিয়ে পেঁচানো পথ। এই পথের সৌন্দর্য সুধা পানের সুখে ছেদ পরছে; যখনই মনে হচ্ছে এর ভেতর থেকে বেরিয়ে আগুংকে আর ফিরে পাব কি না। পাহাড়ের শরীর ধরে যেভাবে ঘুরছি আগুং যে কোন পাশে কোন আড়ালে পরে রইল! সামনেই বাম পাশে দুই-তিনটি দোকান এবং তাকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষের ভিড়। তার পরেই বাঁকের মুখে দৃশ্য আবলোকনের জয়গা। দোকান থেকে জানা গেল বুকিত জাম্বুল চলে এসেছি। পেছনে ফেলে আসা ছোট্ট শহরের সেই শিক্ষার্থীর মায়ের কাছে পাওয়া তথ্যের সাথে কোন মিল নেই। এক পাশে পাহাড়ের দেয়াল দিয়ে ঢাকা। অপর পাশে ঐ দূরে দিগন্ত পর্যন্ত ফাঁকা। শত সহস্র নাড়িকেল গাছের মাঝে কিছু লাল টালি বসানো দুইচালা ঘর। তারপর মহাসাগরের নির্লিপ্ত পরে থাকা। এরই মাঝে ভেসে আছে একটি পাহাড়ি দ্বীপ। মনে হচ্ছে শিক্ষার্থীর মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য আমরা ঠিক না বুঝেই দৌড় শুরু করেছিলাম। তথ্য ঝালিয়ে নেয়ার এখনই উপযুক্ত সময়, শুধু শুধু অনুমানের উপর এগিয়ে যাওয়া সমীচীন হবে না। দোকান থেকে জানানো হল আগুং আরও সামনে। আবারও পথ চলা শুরু।



পাহাড়ি রাস্তার মোড়ে মোড়ে সাদা সাইনবোর্ডে লাল অক্ষরে লেখা ’সাবধান, পর্যটক প্রবেশ নিষেধ!’ আগ্নেয়গিরির মুখে প্রায়ই কাপুনি-ঝাকুনি চলমান। কাজেই আসু বিপদ থেকে নিরাপদ রাখতে অত্র এলাকায় পর্যটক প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। তবে স্থানীয় বাসিন্দাগণ ঠিকই যাতায়াত করছে, যদিও সংখ্যায় তা খুবই নগন্য। সম্মুখেই একটি তল্লাশি চৌকি। আগে থেকেই ভেবে নিলাম এখান থেকে নিশ্চিত ফেরৎ যেতে হচ্ছে। স্বাভাবিক গতিতে চলছে আমাদের স্কুটি। চৌকি পেরিয়ে এলাম কারও কোন বিকার নেই। কিছু দূর গিয়ে আরও একটি চৌকি। চৌকিতে অবস্থানরত প্রত্যেকেরই গভীর মনোযোগ মোবাইল ফোনের পর্দায়। পেরিয়ে এলাম দ্বিতীয় ফাড়া। বন থেকে বেরিয়ে এ পর্যায়ের পথ বসতির মাঝ দিয়ে। আগুং শৃঙ্গ এখন অনেকটা নিকটবর্তী এবং আগের তুলনায় আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে পুনরায় আর একটি চৌকি। এবার আর রক্ষা নেই! কিন্তু আস্তে করে পেরিয়ে এলাম। বারংবার তল্লাশী চৌকির কারণে আমাদের চেহারায় ফুটে ওঠা আতঙ্কের কারণেই ধরা খেয়ে যাওয়ার কথা। পার পেয়ে যাওয়ার কারণ হেলমেট। হেলমেট জোড়ার কল্যাণেই এতদূর আসতে পারা, তা না হলে অনেক আগেই ফিরতি পথ ধরতে হতো। স্থানীয়রা স্কুটি চালিয়ে যাতায়াত করে, আর পর্যটক সাধারণত ট্যাক্সিতে। অতএব, হেলমেট মাথায় স্কুটিতে বসা লোকেরা পর্যটক নাকি স্থানীয় বাসিন্দা তা আন্দাজ করা প্রায় অসম্ভব। 

পথ ফুরালো। পথের শেষে এখানকার ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বড় তোরণ। আর এখানেই আটকে দেয়া হলো। প্রবেশ মূল্য পরিশোষ করে তবেই না এগিয়ে যাওয়া যাবে। এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত, পর্বত দেখতে প্রবেশ মূল্য! বসে আছে কয়েকজন পথপ্রদর্শক। পাশের টেবিলে খাতা-কলম নিয়ে প্রস্তুত প্রবেশপত্র বিক্রেতা। প্রথমে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করলাম। তারপর দরদাম শুরু। দরদাম করে প্রবেশ মূল্য পরিশোধের অভিজ্ঞতা জীবনে এই প্রথম। প্রথমে হাকা হয়েছিল মাথা প্রতি এক লাখ। অথচ, সাইনবোর্ডে লেখা ষাট হাজার। শেষে মিটমাট হয় পঞ্চাশ হাজারে। মাথায় উডাং এবং পরনে সারুং সজ্জিত পথ প্রদর্শক তার নিজস্ব স্কুটিতে আমাকে তুলে নিলেন। যেতে হবে প্রায় আধা কিলোমিটার। এতক্ষণ শুধু উঁচুতেই উঠে এসেছি। মাউন্ট আগুং দেখা মানে পায়ে হেঁটে বা ট্রেকিং করে জ্বালা মুখের কিনারে যাওয়া নয় বরং আমরা যেখানে যাচ্ছি সেখান থেকে এর নিকটতম ও সুন্দর রূপ দেখা যায়। আমরা বর্তমানে মাউন্ট আগুং এর পূর্ব পাঁজরে এক হাজার মিটার উচ্চতায় চলে এসেছি। আর জায়গাটি মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি মন্দির। বালির কারাঙ্গাসেম জেলার বেসাকি গ্রামের নামানুসারে এর নাম পুরা বেসাকি। পথ প্রদর্শকের ভাষ্য মতে এটি মাউন্ট আগুং দেখার সর্বোত্তম জায়গা। তাছাড়া মন্দির হিসেবে পুরা বেসাকির গুরুত্ব কম নয়। এর পবিত্রতার কথা উদ্ধার হয়েছে বহু পুরনো এক প্রস্তর লিপির মাধ্যমে। অষ্টম শতকে এক ইন্ডিয়ান সন্যাসী এসে এখানে আস্তানা গাড়েন। পরবর্তীতে একটি মন্দির গড়ে তোলেন। সেই মন্দিরই আজকের পবিত্রতম পুরা বেসাকি। বালি দ্বীপে বেসাকিকে মন্দির সমগ্রের মা হিসেবে গণ্য করা হয়। পথ প্রদর্শক জানালেন এর ভেতর ছিয়াশিটি আলাদ মন্দির আছে। অর্থাৎ এই পারিমাণ মন্দিরের সমন্বয়ে পুরা বেসাকি। মন্দিরের সম্মুখের খোলা চত্বরের নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত স্কুটি নিয়ে যাওযা যায়। তারপর থেকেই সিঁড়ি উঠে গেছে। মন্দিরের পেছনেই দেয়ালের মত দাঁড়িয়ে আছে মাউন্ট আগুং আগ্নেয়গিরি।



দুঃখের বিষয় অনেক দূর থেকে যে অলস মেঘের দল দেখতে আসছিলাম তা এই মুহূর্তে ঠিক আমাদের সামনে। অর্থাৎ মন্দিরের পেছনে। সম্পূর্ণ পর্বত আড়াল করে রেখেছে। মতিগতি সুবধার নয়, যেন জন্মের আবাস গড়ে বসেছে। সিঁড়ি পথ বেয়ে উঠে যেতে হলো উপরে। ঝাউ বা ক্রিসমাস কোনটাই নয় তবে ঘন পাতায় আবৃত গাছগুলি লম্বা কান্ডের মত দাঁড়িয়ে আছে। আরও আছে হরেক রকম ফুল, পাতাবাহারের গাছ। পাশাপাশি পরিপাটি এবং দৃষ্টিনন্দন চালাগুলিও একটির উপর একটি দাঁড়িয়ে। চালের উপর চাল, এমন করে কোন কোনটি পাঁচ সাত অথবা ততোধিক স্তরে গড়ে তোলা। কালো ছনের মত কোন উদ্ভিদে ছাওয়া চালের পূরু চার ধার এতটাই সুক্ষ্ম করে কাটা যেন, ধারালো কেচির এক ঠাসাতে কচ্ করে কেটে নেয়া। পরনে হাফপ্যান্ট থাকায় পথ প্রদর্শকের সরবরাহ করা একটি বেগুনি রং এর সারুং আমাকে পরতে দেয়া হয়েছে। অনেকগুলি সিঁড়ির পর কেন্দ্রীয় মন্দির। ভেতরে ঘাস কাটার কাজ ছলছে। ছবি তোলায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদের আগ্রহের মাত্রা অনুমান করে হাসতে হাসতে বলা হলো, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে হাত লাগালে ভেতরে ঢুকে ছবি তুলতে দেয়া হবে। কোন ভাবনা চিন্তা ছাড়াই রাজি হয়ে গেলাম। মন্দির বলতে ছাদ দেয়া কোন কক্ষ নয়, কারুকাজে ভরা চার দেয়ালে ঘেরা একটি জায়গা। ভেতরে প্রবেশের পর অপর প্রান্তের সম্মুখ দেয়ালের মাঝখান থেকে উঠে গেছে একটি সৌধ আকৃতির স্থাপনা এবং তার উভয় পাশে তুলনামূলক আরও দুইটি অনুচ্চ সৌধ। মন্দির বলতে দেব-দেবীর মূর্তি স্থাপিত থাকবে এমনটাই আমাদের ধারণা। পুরা বেসাকি তেমন নয় বরং সৌধ আকৃতির দেয়ালকে ঘিরেই মন্দির গৃহ। সৌধের গোড়া থেকে নিচের দিকে নেমে এসেছে বেশ কয়েকটি সিঁড়ি। সৌধজুড়ে স্থানীয় ধাচের কারুকাজ। ক্রমেই সরু হয়ে উঠে যাওয়া কেন্দ্রীয় সৌধ প্রাচীরের পেটে দুই পাল্লার একটি দরজা সদৃশ্য খোদিত অংশ। কালসেটে হয়ে যাওয়া সৌধের পেটে দরজার মত অংশটি সোনালি রং অথবা পাত দিয়ে অলঙ্কৃত। ঠিক তার সম্মুখে ছোট আকারের দুইটি মূর্তি এবং দুই পাশে দুটি ছাউনি। সহজেই অনুমান করা যায় এই জায়গাটিই পূজা-অর্চনার কেন্দ্রবিন্দু।

শর্তস্বরূপ পরিচ্ছন্নতার কাজে সত্যি সত্যিই হাত লাগালে উপস্থিত সকলেই খুশি হলেন। পেছনে তাকিয়ে দেখলাম পথ প্রদর্শকের মুখেও হাসি ও সন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ যেন, এমন লক্ষ্মী পর্যটক আর হয় না। এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে চারদিকের উঁচু-নিচু এলাকাজুড়ে আরও অনেক স্থাপনা ও ছোট-বড় মন্দির। সম্পূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখতে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। মন্দিরের সর্ব উচ্চতম স্থানে বিশ্রামের জন্য একটি উন্মুক্ত বসার জায়গা। এখানে ঝুলানো আছে বাঁশের চোঙ দিয়ে তৈরি বিশেষ শব্দ উৎপাদনকারী বস্তু। সোঁ সোঁ গতিতে ধেয়ে আসছে মিষ্টি বাতাস। স্পর্শেই অনবরত টুং টাং শব্দে বেজে যাচ্ছে এই প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্ত পর্যন্ত।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮/তারা

Walton Laptop
 
     
Walton