ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ১৯ ১৪৩২ || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

চাক : পাহাড়ে ব্যতিক্রম ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী

বিজয় ধর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:০৭, ৫ এপ্রিল ২০১৪   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
চাক : পাহাড়ে ব্যতিক্রম ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী

চাক ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সদস্য

বিজয় ধর
রাঙামাটি, ৫ এপ্রিল : দেশের পাহাড় এলাকার একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর নাম ‘চাক’। চাক শব্দের অর্থ দাঁড়ানো। অন্যান্য জনগোষ্ঠীর কাছে এদের পরিচয় চাক হলেও এরা নিজেদের আচাক বলে পরিচয় দেয়।

চাকরা পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার খেয়াঝিড়ি, বাইশড়ি, বাকখালি, কাসিছড়া, আলিখাং প্রভৃতি এলাকায় বসবাস করে।

বান্দরবানের চাকরা এসেছে আরাকান থেকে। অবশ্য আরাকানরা এদের বলে সাক বা মিংশাক। চাকরা অতীতে মিয়ানমারের ইরাবতী নদী উৎসস্থলের দিকে বসবাস করত। পরবর্তীতে এদের একটি অংশ আরাকানে, অপর একটি অংশ মণিপুরে প্রবেশ করে।

চাকদের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। চাকরা আন্দ্রো ও ভারেক নামে দুটি দলে বিভক্ত। এদের আবার অনেকগুলো উপদল বা গোষ্ঠী আছে। আন্দ্রোদের গোষ্ঠীগুলোর নাম হলো আরা, আনং, তাবাংদেং ও পেমু। ভারেকদের গোষ্ঠীগুলো হলো- উপবা, উতাল, উচ্ছি, কেংকাজি, কেংকাবেং ইত্যাদি।

চাকদের গোত্রবন্ধন খুব দৃঢ় এবং সামাজিক রীতি-নীতি গোত্র বিভাগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

চাকদের নিজস্ব ভাষা ‘তু’, নাচ হলো আছাগং, গান হলো ছিকহ্ণা আর খেলাধুলা হলো ক্রুপাজেট এবং সংখ্যাবাচক শব্দ নুখকাজেট।

গান বলতে নৃত্যকালীন বা আতিখাং এবং লোক সঙ্গীত বা মিন্নাং বিভিন্ন উপলক্ষ্যতে প্রদর্শিত হয়। প্রতিটি নৃত্যই চাক সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।

চাকরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। প্রত্যেক চাক গ্রামে একটি করে বৌদ্ধ মন্দির আছে। তারা বিভিন্ন দেব-দেবীরও পুজা করে।

চাকদের বিবাহপ্রথা গোষ্ঠী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। একই গোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদের মধ্যে তাদের বিবাহ সর্ম্পকিত আত্মীয় নেই।

জন্ম-মৃত্যুর ক্ষেত্রে অন্যান্য উপজাতিদের মত রয়েছে প্রথাগতসংস্কার। সন্তান জন্মদানের পর সাত দিন মাকে অপবিত্র বলে আলাদা রেখে নিজস্ব পদ্ধতিতে পবিত্র করা হয়।

মৃত্যুর পর শশ্মানে দাহ করা হয়। মৃতের আত্মীয়রা বৌদ্ধ মন্দিরে সাত দিনের ভাত দান করে আত্মার মঙ্গল কামনা করে। মৃত দেহ সৎকারের ক্ষেত্রে চাকদের একটি বিশেষ ‘আপেংজা’ (দেহ অধিকার প্রথা) রয়েছে। এই প্রথা অনুসারে পুরুষ ব্যাক্তির মৃতদেহ সৎকারের অধিকারী তার মামা অথবা মামাতো জ্ঞাতি। অপরদিকে স্ত্রীলোকের মৃতদেহ সৎকারের অধিকারী পিতৃব্য আপনভাই অথবা ভাতুষ্পুত্র।

চাকসমাজে মেয়েরা সম্পত্তির অধিকারী হতে পারেনা। সবসম্পত্তি ছেলেরা পেয়ে থাকে। চাক উপজাতিরা ঐতিহ্যবাহী জুমচাষে অভ্যস্ত হলেও বর্তমানে সমতল ভূমিতে চাষের প্রসার ঘটেছে।

কৃষিকাজ ছাড়াও চাকদের গৃহপালিত পশুপাখি এবং গৃহ সংলগ্ন বাগান রয়েছে। বনজদ্রব্য আহরণ এবং ঝিরি বা ছড়ার মৎস্য শিকারের সাথেও কেউ কেউ জড়িত।

 

রাইজিংবিডি/টিপু

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়