ঢাকা     রোববার   ০২ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৭ ১৪২৯ ||  ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

ডিএসই’র আরও ৩ ব্রোকার হাউজ অনুমোদন

নুরুজ্জামান তানিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ৮ জানুয়ারি ২০২২  
ডিএসই’র আরও ৩ ব্রোকার হাউজ অনুমোদন

শেয়ার কেনাবেচার জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্যভুক্ত আরও তিনটি নতুন ব্রোকারেজ হাউজ বা ট্রেকের (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এসব ব্রোকারেজ হাউজকে ট্রেক সনদ দেবে ডিএসই। এর ফলে নতুন ট্রেকের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৮টিতে। ডিএসইর সদস্যভুক্ত মোট ব্রোকারেজ হাউজ বা ট্রেকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২৮৩টিতে।

নতুন অনুমোদন পাওয়া ব্রোকারেজ হাউজগুলো হলো—ফারিহা নিট টেক্স, এসকিউ ওয়্যার অ্যান্ড কেবল কোম্পানি ও গিবসন সিকিউরিটিজ।

সম্প্রতি ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে নতুন ট্রেক অনুমোদন সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

বিএসইসি’র পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) রেগুলেশন, ২০২০ এর রেগুলেশন ৩(১) (গ) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) রুলস, ২০২০ এর সাব-রুল ৩(১) ও (২) অনুযায়ী ডিএসই’র নতুন ট্রেক ইস্যু করা হয়েছে। এর পরিস্থিতিতে ডিএসই’র নতুন ট্রেকগুলোর আবেদন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এবং প্রাসঙ্গিক বিধি-বিধান মেনে চলা সাপেক্ষে অনুমোদিত হয়েছে৷

এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫৫টি অনুমোদন পাওয়া ব্রোকারেজ হাউজের কাছে ট্রেক সনদ হস্তান্তর করা হয়। তার আগে গত ১৮ মে প্রথম দফায় ৩০টি, ২১ জুন দ্বিতীয় দফায় ১৬টি এবং ২৬ আগস্ট তৃতীয় দফায় ৯টি ব্রোকারেজ হাউজের অনুমোদন দেয় বিএসইসি। এরপর চতুর্থ দাফায় আরও ৩টি ব্রোকারেজ হাউজের অনুমোদন দেওয়া হলো।

শেয়ার বাজারের পরিধি বাড়াতে নতুন ট্রেক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন ট্রেক ইস্যুর বিষয়ে ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় কমিশন। পরে ২০২১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ৯৯০তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় সংশ্লিষ্ট বিধিমালা পরিপালন ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নতুন ট্রেক অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই। এরপর ডিএসইর ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নতুন ট্রেকের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

প্রথম দফায় নতুন ট্রেকের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার মেয়াদ ১৮ মার্চ পর্যন্ত রাখা হয়। তবে ওই সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় আবেদন গ্রহণের মেয়াদ ২৮ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এ সময়ে মোট ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের ট্রেক সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য আবেদন করে। যাচাই-বাচাই শেষে প্রথম ধাপে বিভিন্ন কারণে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বাতিল হয়। ফলে ট্রেক সার্টিফিকেট দেওয়ার যোগ্য ৫১টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা বিএসইসিতে পাঠায় ডিএসই। পরবর্তীতে বিএসইসির নির্দেশে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকায় যুক্ত করে ডিএসই। সব মিলিয়ে ডিএসইর প্রস্তাবিত ট্রেকের আবেদনের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৮টিতে।

প্রথম ধাপে অনুমোদন পাওয়া ৩০টি ব্রোকারেজ হাউজ হলো—কবির সিকিউরিটিজ, মোনার্ক হোল্ডিংস, সোহেল সিকিউরিটিজ, আরএকে ক্যাপিটাল, যমুনা ব্যাংক সিকিউরিটিজ, স্নিগ্ধা ইক্যুইটিস, ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিজ কোম্পানি, সাউথ এশিয়া সিকিউরিটজ, ট্রাইস্টার সিকিউরিটিজ, ৩আই সিকিউরিটিজ, সোনালী সিকিউরিটিজ, কেডিএস শেয়ার অ্যান্ড সিকিউরিটিজ, আল হারমাইন সিকিউরিটিজ, মির সিকিউরিটিজ, টিকে শেয়ার অ্যান্ড সিকিউরিটজ, এনআরবি ব্যাংক সিকিউরিটিজ, এসবিএসি ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট, আমায়া সিকিউরিটিজ, প্রুডেন্সিয়াল ক্যাপিটাল, তাকাফুল ইসলামী সিকিউরিটিজ, বিএনবি সিকিউরিটিজ, অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স সিকিউরিটিজ, মাহিদ সিকিউরিটজ, বারাকা সিকিউরিটিজ, এএনসি সিকিউরিটিজ, এসএফআইএল সিকিউরিটিজ, তাসিয়া সিকিউরিটিজ, ডাইনেস্টি সিকিউরিটিজ, সেলেস্টিয়াল সিকিউরিটিজ ও ট্রেড এক্স সিকিউরিটিজ।

দ্বিতীয় ধাপে অনুমোদন পাওয়া ১৬ ব্রোকারেজ হাউজ হলো—বি রিচ, ইম্পেরোর সিকিউরিটিজ, বি অ্যান্ড বিএসএস ট্রেডিং, ব্রিজ স্টক অ্যান্ড ব্রোকারেজ, এনওয়াই ট্রেডিং, কলম্বিয়া শেয়ার, এমকেএম সিকিউরিটিজ, স্মার্ট শেয়ার, বিনিময় সিকিউরিটিজ, রিলিফ এক্সচেঞ্জ, আমার সিকিউরিটিজ, ব্যাঙ জি জিও টেক্সটাইল, মিনহার সিকিউরিটিজ, বিপ্লব হোল্ডিংস, অ্যাসোসিয়েটেড ক্যাপিটাল সিকিউরিটিজ ও রহিমা ইক্যুইটি।

তৃতীয় ধাপে অনুমোদন পাওয়া ৯ ব্রোকারেজ হাউজ হলো—অ্যাসুরেন্স সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ম‌্যানেজমেন্ট লিমিটেড, মেট্রিক্স সিকিউরিটিজ লিমিটেড, সিএএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এসবিআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড, উইংস ফিন লিমিটেড, ফারইস্ট শেয়ারস অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ট্রাস্ট রিজিওনাল ইকুইটি লিমিটেড, ইন্নোভা সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং ডিপি৭ লিমিটেড।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসই’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) এম. সাইফুর রহমান মজুমদার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ডিএসইর সদস্যভুক্ত আরও তিনটি ব্রোকারেজ হাউজকে অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি। এর ফলে নতুন ব্রোকারেজ হাউজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮টিতে। নতুন ট্রেক লাইসেন্স পাওয়া ব্রোকারেজ হাউজগুলো যাতে দ্রুত বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসতে পারে, সেজন্য ডিএসইর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, ব্রোকারেজ হাউজ বা ট্রেক হলো শেয়ার বাজারে লেনদেন করার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, যেখানে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনাবেচনা করতে পারেন।

এনটি/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়