ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬ ||  চৈত্র ৩১ ১৪৩৩ || ২৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘বীমার প্রিমিয়াম দেশের উন্নয়নে বিনিয়োগের সুযোগ আছে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০০, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  
‘বীমার প্রিমিয়াম দেশের উন্নয়নে বিনিয়োগের সুযোগ আছে’

গত দুই বছরে বীমা খাতে প্রিমিয়াম ও বিমা দাবি নিষ্পত্তির হার আগের চেয়ে বেড়েছে। এ সময়ে সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মানুষের আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে বীমার প্রিমিয়াম দেশের উন্নয়নে বিনিয়োগের সুযোগ আছে।

সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। আগামী ১ মার্চ ‘জাতীয় বিমা দিবস’ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আইডিআরএ। এতে আইডিআরএ’র অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বীমা দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বীমা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আমার জীবন আমার সম্পদ, বীমা করলে থাকবে নিরাপদ।’

আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান বলেন, বঙ্গবন্ধু বীমার জন্য কাজ করেছেন। এটাকে অনুপ্রেরণায় নিয়ে আমরা বীমার উন্নয়নে কাজ করছি। দেশের অর্থনীতির অগ্রগতির তুলনায় বীমা অনেকটা পিছিয়ে আছে। পিছিয়ে পড়ার কারণ ও নানা সমস্যা আমরা চিহ্নিত করেছি। এসব সমস্যা সামাধানের মাধ্যমে বীমা খাত আগামী দিনে দেশের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে।

বীমা খাতের নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বীমার মূল সমস্যা সচেতনতা অভাব। আমরা মানুষের সামনে বীমার গুরুত্ব তুলে ধরতে পারিনি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রডাক্ট নির্বাচন, পলিসি গ্রহণ করতে পারিনি। এছাড়া বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থতা তো আমাদের আছেই। জীবন বীমায় প্রায় ৩০ শতাংশ দাবি পরিশোধ করছে না। এসব কারণে মানুষের মধ্যে বীমা নিয়ে হতাশা থেকে অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাতে মানুষ বীমা না করে অন্য কিভাবে ক্ষতিপূরণ পেতে পারে তা নিয়ে চিন্তা করছে। আমরা এসব সমস্যা চিহ্নিত করেছি, যা পর্যায়ক্রমে সমাধান করে বীমার উন্নয়ন করা হবে।

লিখিত বক্তব্যে জয়নুল বারী জানান, ২০২২ সাল শেষে বীমা খাতের গ্রোস প্রিমিয়ামের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে লাইফ বীমার গ্রোস প্রিমিয়ামের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা এবং আর নন-লাইফের ৫ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। এ সঙ্কটকালে দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় তারল্যের যোগান দিয়েছে বীমা খাত। এছাড়া, আলোচ্য সময়ে লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর অর্জিত প্রিমিয়ামের ওপর ১ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা ভ্যাট ও ট্যাক্স সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে। 

তিনি জানান, বীমা শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালের উন্নত, সমৃদ্ধ, স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে আইডিআরএ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।  ১১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার সরকারি অর্থায়ন এবং বিশ্বব্যাংকের ৫১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকাসহ মোট ৬৩২ কোটি টাকার অর্থায়নে বাংলাদেশ বীমা খাত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন এবং জীবন বীমা কর্পোরেশনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।

এনএফ/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়