কর্মসংস্থান না হলে সরকারি প্রকল্প নয়: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, এখন থেকে সরকারি প্রকল্প অনুমোদনের শর্ত হবে— কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগের সুফল এবং পরিবেশ সুরক্ষা।
তিনি বলেছেন, “জনগণের টাকার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অপরিকল্পিত, অলাভজনক প্রকল্প নেওয়া হবে না।”
রবিবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত ‘স্টেপিং ফরওয়ার্ড: দ্য ইনঅগুরেশন অব রেইজ-২’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “গণতন্ত্র কেবল রাজনীতিতে থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের সমান অধিকার থাকতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো— প্রতিটি নাগরিককে জাতীয় অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া এবং উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।”
তিনি জানান, অতীতে নেওয়া অলাভজনক প্রকল্পগুলো এখন পর্যালোচনা করে বাতিলের তালিকায় রাখা হচ্ছে।
নারীদের সরাসরি নগদ সহায়তা
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, “সরকার সরাসরি নারীদের ক্ষমতায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিবারের বাজেট রক্ষক হিসেবে নারীদের সরাসরি ক্যাশ ট্রান্সফার করার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়বে এবং সঞ্চয়ের প্রবণতা তৈরি হবে।”
কৃষকদের জন্য সরাসরি উপকরণ সহায়তা এবং স্বাস্থ্য খাতে সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
‘এক গ্রাম এক পণ্য’
মন্ত্রী বলেছেন, “আমরা ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ ধারণাটি বাস্তবায়ন করতে চাই। যেমন: বরিশালের শীতল পাটিকে ডিজাইন সাপোর্ট, দক্ষতা উন্নয়ন দিয়ে অ্যামাজন বা আলিবাবার মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে নিলে এটি বড় জিডিপি কন্ট্রিবিউটর হবে।”
থিয়েটার, খেলাধুলা ও সংগীতকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জিডিপিতে এগুলোর অবদান বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
পিকেএসএফকে ডেলিভারি পার্টনার করার আহ্বান
পিকেএসএফের কাজের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন ও পিকেএসএফের কার্যক্রমে মিল আছে।”
ইউনিভার্সাল হেলথকেয়ার, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতের প্রসারে পিকেএসএফের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অতীতের অর্থনৈতিক বোঝা এবং বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকার কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের সাফল্যের গল্প বিশ্বে তুলে ধরতে দল-মত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ দরকার।”
পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। সম্মাননীয় অতিথি ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত ডিভিশন ডিরেক্টর ড. গেইল এইচ মার্টিন। এছাড়া, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, পিকেএসএফের কর্মকর্তা ও রেইজ প্রকল্পের তৃণমূল পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/এএএম/রফিক