RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭ ||  ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

ময়মনসিংহে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় যত চ্যালেঞ্জ

মাহমুদুল হাসান মিলন, ময়মনসিংহ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১০, ৩০ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ০৯:৩৩, ৩০ অক্টোবর ২০২০
ময়মনসিংহে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় যত চ্যালেঞ্জ

ময়মনসিংহ নগরীর চর ঈশ্বরদিয়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম লিটন। পাচঁ বছর আগে বিয়ে করেছেন একই গ্রামের মিলি আক্তারকে। এরই মধ্যে তাদের সংসারে এসেছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। 

সম্প্রতি আবারও বাবা হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি। কথা হয় লিটনের সঙ্গে।  জানতে চাই পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে। তিনি এ বিষয়ে কোনো কিছুই জানেন না। এছাড়া সে কোনো পদ্ধতিও গ্রহণ করেননি।  কেউ কোনো পরামর্শও দেয়নি তাকে। 

শফিকুল ইসলাম লিটনের ভাই মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় কখনো কোনো স্বাস্থ্যকর্মী আসতে দেখিনি। 

এ চিত্র শুধু এই এলাকার লিটন দম্পতির বেলায় নয়। এলাকার অনেকে বলেছেন সরকারিভাবে কোনো স্বাস্থ্যকর্মী নিয়মিত আসে না। কেউ বলেছেন দুই-আড়াই মাস পরপর একজন মহিলা এসে ঘুরে যায়।

জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার শহর কিংবা গ্রাম কোথাও নিয়মিত পাওয়া যায় না মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফ ডব্লিউ এ)।  ফলে ব্যাহত হচ্ছে এ সেবা কার্যক্রম। 

পরিবার পরিকল্পনা সেবায় যত চ্যালেঞ্জ
পরিবার কল্যাণ সহকারী নাজমা নাসরিন বলেন, পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিতে অঅমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হয়। সপ্তাহে দুইদিন ইপিআই টিকাদান কর্মসূচি অংশ নিই।  তিনদিন কমিউনিটি ক্লিনিকে বসে গর্ভবতী মা ও শিশুদের সেবা দিতে হয়।  সপ্তাহে একদিন সময় পাই বাড়ি বাড়ি যেতে।  এছাড়াও বেসেকটমি ও লাইগেশনের জন্য বুঝিয়ে লোকজন নিয়ে ক্যাম্পে আসতে হয়।  তাই সব এলাকায় নিয়মিত যেতে পারি না।

পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক আতিকুজ্জামান সুমন বলেন, প্রতি ইউনিটে ৬০০ জন দম্পতির জন্য একজন করে পরিবার কল্যাণ সহকারীর সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে আমাদের সব ইউনিটে ১৫০০-২০০০ হাজারের চেয়ে বেশি দম্পতি রয়েছে। এছাড়া আমাদের অনেক ইউনিটে পরিবার কল্যাণ সহকারী না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই সবাইকে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এছাড়া তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ত্রিশ বছর চাকরি করে একই পদে থেকে অবসরে যেতে হয়। আমাদের কোনো পদোন্নতি নেই।  নেই কোনো নিয়োগ বিধি।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের অফিস সুপারিন্টেন্ড মো. আবদুল্লাহ বলেন, ময়মনসিংহ জেলায় পরিবার কল্যাণ সহকারীর (এফ ডব্লিউ এ) অনুমোদিত পদ ৮১০ জন।  বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ৬৩২ জন।  পদ শুন্য রয়েছে ১৭৮টি। 

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাজহারুল হক চৌধুরি বলেন, আমাদের কর্মীদের কাজের পরিধি অনেক বেড়ে গেছে। তাদের ডোর টু ডোর সেবার পাশাপাশি। স্যাটেলাইট ক্লিনিক ও কমিউনিটি ক্লিনিকে বসতে হয়। টিকাদান কর্মসূচিতেও অংশ নিতে হয়। পাশাপাশি ক্যাম্প বসলে ক্লাইন্ট নিয়ে আসতে হয়। আমাদের জনবল সংকট থাকলেও আমরা চেষ্টা করছি সেবা দিয়ে যাওয়ার। স্বল্প জনবল নিয়ে কিভাবে এই সেবা কার্যক্রম সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। 

তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষকে জনবল সংকটের বিষয়টি জানানো হয়েছে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহ/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়