ঢাকা     বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ||  বৈশাখ ১১ ১৪৩১

স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরামের হুমকি

‘নারান বাবু কেন, তোর বাপও তোকে বাঁচাতে পারবে না’ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০০, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩   আপডেট: ২০:০১, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩
‘নারান বাবু কেন, তোর বাপও তোকে বাঁচাতে পারবে না’ 

শেখ আকরাম হোসেন

খুলন-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সদ্য পদত্যাগকারী ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেনের একটি বক্তৃতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। নির্বাচনি সভায় দেওয়া তার ওই বক্তব্য তার নির্বাচনি এলাকার মানুষের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শেখ আকরাম হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘কেউ পার পাবে না। আজকে বলে আসছি-ঐ সালাম, কালাম দুইজনকেই। সময় দিয়ে গেলাম তিনদিন। তোর নারান বাবু কেন? তোর বাপও তোকে বাঁচাতে পারবে না। তুই আমার কোনো নেতাকর্মীর গায় হাত দিস, তুই আমাকে চিনিস না, আজকে যেহেতু নির্বাচন করতে আইছি, করছি, সকলে মিলেই করছি, জনগণ যাকে চায়- সেই নির্বাচিত হবে। বাঁধা সৃষ্টি করে, ভয় দিয়ে, আরে কারে ভয় দিচ্ছিস- দুটো গুলি ফুটলি তো তুই পলাবি।’ 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের মিকশিমিল বালিকা বিদ্যালয় মাঠে একটি নির্বাচনি সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন বক্তৃতা করছিলেন। বক্তৃতার এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুজ্জামানের দুই চাচা গাজী সালাম ও গাজী কালামকে উদ্দেশ করে বক্তব্য দেন। গাজী সালাম ও গাজী কালাম ডুমুরিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গাজী আব্দুল হাদীর ভাই। তারা পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দের নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা করছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আকরাম হোসেন।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গাজী এজাজ হোসেন বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী আকরাম হোসেন আমাকে ও আমার ভাই ইউপি চেয়ারম্যান গাজী তৌহিদুজ্জামানকে শাসাতেই আমাদের চাচাদের নাম ধরে হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনার পর আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’

এ বিষয়ে জানতে শেখ আকরাম হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

গত ২১ ডিসেম্বর সকালে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান এবং বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ’র সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শেখ আকরাম হোসেনের প্রার্থিতা বাতিল করেন। এরপর চেম্বার জজের রায়ে মনোনয়নের বৈধতা পান শেখ আকরাম হোসেন। রায়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য শেখ আকরাম হোসেনের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে প্রতীক বরাদ্দ করে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসার খুলনাকে নির্দেশ প্রদান করে।

৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আকরাম হোসেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ঋণ খেলাপির অভিযোগে খুলনা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে তিনি আপিল করেন। সেখানেও তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। পরে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। গত ২১ ডিসেম্বর সকালে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান এবং বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ’র সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বাতিল করলেও চেম্বার জজ আদালতে তিনি তার প্রার্থিতা ফিরে পান। 

খুলনা-৫ আসনে বর্তমানে চারজন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। শেখ আকরাম হোসেনের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় খুলনা-৫ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক মৎস্য ও পশুসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের প্রতিদ্বন্দিতা হবে। এই নির্বাচনে ‘ঈগল’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন শেখ আকরাম হোসেন।

নূরুজ্জামান/মাসুদ

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়