ঢাকা     শনিবার   ২২ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৮ ১৪৩১

ফেনীতে ১২ ঘণ্টায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত 

ফেনী সংবাদদাতা  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০২, ২৭ মে ২০২৪   আপডেট: ২২:০৩, ২৭ মে ২০২৪
ফেনীতে ১২ ঘণ্টায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত 

ফেনীতে এক দিনের ১২ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার (২৭ মে) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মো. মুজিবুর রহমান।

মুজিবুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ফেনীতে ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারি বর্ষণ হয়েছে। সোমবার (২৭ মে) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ মাইলে বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। 

তিনি আরি বলেন, রোববার (২৬ মে) রাত থেকে ফেনীর উপকূলীয় এলাকা সোনাগাজী উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় রেমাল অতিক্রম করে। বাতাসের গতিবেগ কিছুটা কমলেও আগামী ২/৩ দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

ঘূর্ণিঝড় রেমাল তান্ডবে ফেনীর উপকূলীয় এলাকার সোনাগাজীতে ২০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তের খবর পাওয়া গেছে। গৃহহীন হয়ে অনেকে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে লাইন ক্ষয়ক্ষতিরর কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

সোনাগাজী দক্ষিণ চরচান্দিয়া এলাকার ইউপি সদস্য মো. এসকান্দার বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে তীব্র বাতাসে দক্ষিণ চরচান্দিয়া এলাকায় অন্তত ২০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছপালা উপড়ে পড়ে কিছু ঘর ভেঙে গেছে। স্থানীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ণে নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে আসলে ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, রাত থেকে ঝোড়ো হাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে পুরোপুরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে আসলে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করে সংযোগ দেওয়া হবে।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, উপজেলায় বড় ধরনের ক্ষতি কিংবা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। বাতাসে কিছু ঘরের টিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে না আসায় এখনও ক্ষতির চূড়ান্ত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।

ফেনী জেলা প্রশাসক মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে রোববার রাত থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বাঁধের পরিস্থিতি ও নদীর পানি বৃদ্ধির গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উপকূলীয় উপজেলা সোনাগাজীতে শুকনা খাবারের জন্য ২ লাখ টাকা, ২ মেট্রিক টন চাল, এক লাখ টাকার শিশুখাদ্য ও এক লাখ টাকার গো-খাদ্য ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
 

সাহাব/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়