ঢাকা     বুধবার   ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা-২০ 

সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক বিএনপির তমিজ, এরপর এনসিপির নাবিলা

আরিফুল ইসলাম সাব্বির, সাভার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:১১, ৫ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৪:১২, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক বিএনপির তমিজ, এরপর এনসিপির নাবিলা

বিএনপির মো. তমিজ উদ্দিন ও এনসিপির নাবিলা তাসনিদ (ডানে)

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে বিএনপি, জামায়াত ইসলামী, এনসিপি ও স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। তাদের মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা বিএনপির মো. তমিজ উদ্দিন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাবিলা তাসনিদের স্থায়ী ঠিকানা ধামরাইয়ে হলেও তাদের বর্তমান বসবাস রাজধানী ঢাকায়। 

আর্থিক বিবরণ যাচাই করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক তমিজ উদ্দিন। এরপরই রয়েছেন এনসিপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। সবচেয়ে কম টাকার মালিক জাসদ মনোনীত মো. আরজু মিয়ার।

আরো পড়ুন:

গত ৩ জানুয়ারি ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ঢাকা-২০ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দাখিলকৃত ছয়জন প্রার্থীর সবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়ন বৈধ হওয়া প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মো. তমিজ উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুর রউফ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)  নাবিলা তাসনিদ, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের মো. আশরাফ আলী, জাতীয় পার্টির আহছান খান এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মো. আরজু মিয়া।

কে কত সম্পদের মালিক?

তমিজ উদ্দিন (বিএনপি)
প্রার্থীদের আয়-সম্পদের বিবরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ছয়জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক তমিজ উদ্দিন। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার আমানত রয়েছে ৮৫ কোটি টাকার বেশি। নগদ টাকা আছে প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ, স্ত্রীর কাছে আছে আরো ৪৭ লাখ টাকার বেশি।

স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি। ধামরাই ও ঢাকায় তার একাধিক ভবন আছে, যার মধ্যে ধামরাই বাজার এলাকায় একটি সাততলা ভবনের মূল্য ধরা হয়েছে ৪ কোটি টাকা এবং ঢাকার গ্রীন রোড এলাকায় তিনতলা বাড়ির মূল্য ৫ কোটি টাকা। ধামরাইয়ের বিজয়নগর এলাকায় দুই তলা একটি ভবনের মূল্য তিনি দেখিয়েছেন ২ কোটি টাকা। তার কৃষি জমি রয়েছে ৫০ শতাংশ আর অকৃষি জমির পরিমাণ ৬৪৯ শতাংশ।

জাতীয় পার্টির আহসান খান এবং খেলাফস মজলিসের মো. আশরাফ আলী (ডানে)


এই বিপুল সম্পদের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকে তমিজ উদ্দিনের ঋণও রয়েছে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার মতো। ব্যবসা থেকে তার বাৎসরিক আয় ৪৮ লাখ এবং ভাড়া থেকে আয় ৪ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন তার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ধামরাইয়ের আইংগন আর বর্তমান ঠিকানা লিখেছেন গ্রীন রোডের বাসা। 

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি খালাস পেয়েছেন ১৫টি মামলায়। বর্তমানে তার নামে ফৌজদারি মামলা আছে চারটি। সবগুলোই বিগত সরকারের আমলে হওয়া। 

তার বিবরণ অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংক ও সম্পত্তিসহ তমিজ উদ্দিনের মোট অস্থাবর সম্পত্তি আছে ৯১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার, স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তি আছে ৮৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার। এছাড়া তমিজ উদ্দিনের স্থাবর সম্পত্তি আছে ৫ কোটি ৬০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার।

নাবিলা তাসনিদ (এনসিপি)
জাতীয় নাগরিক পার্টি মনোনীত প্রার্থী নাবিলা তাসনিদের আর্থিক অবস্থাও বেশ সমৃদ্ধ। তিনি বর্তমানে ‘তরমুজ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত। তার মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি এবং নির্ভরশীলদের নামে রয়েছে আরো ২৬ লাখ টাকার সম্পদ। স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ধরা হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ টাকার বেশি। নগদ ও ব্যাংকে রয়েছে ৬৭ লাখ টাকা। টাঙ্গাইল ও নরসিংদীতে তার প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি কৃষি জমি রয়েছে। 

নাবিলার স্বামী প্রকৌশলী ইমদাদুল হকের অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদ ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নাবিলা তাসনিদ গুলশান নিকেতন এলাকায় বসবাস করেন। এনসিপিতে কোনো পদবি রয়েছে কিনা সেই বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

এই প্রার্থীর আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, নাবিলা তাসনিদের স্বর্ণ আছে ৪০ ভরি, কৃষি জমি আছে ৭৭.৭৫ শতাংশ, অকৃষি জমি ২.৪৭৫ শতাংশ, আবাসিক জমি আছে ৩ হাজার বর্গফুটের ও অ্যাপার্টমেন্ট আছে ১২৭২ বর্গফুটের।

মো. আব্দুর রউফ (জামায়াতে ইসলামী)
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. আব্দুর রউফ পেশায় ব্যবসায়ী ও নিকাহ রেজিস্টার। এই পেশায় থেকে তিনি তার আয় দেখিয়েছেন প্রায় ৬০ লাখ টাকা। আয়ের উৎস কৃষি জমি। তার দুটি ভবনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১৭ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ এবং স্থাবর সম্পত্তি ৩৮ লাখ টাকার কাছাকাছি।

জাসদের আরজু মিয়া ও জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুর রউফ (ডানে)


ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির পদে থাকা এই নেতার বিরুদ্ধে মামলা আছে তিনটি। আর খালাস পেয়েছেন ছয়টি মামলায়।

মো. আশরাফ আলী (খেলাফতে মজলিস)
বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী মো. আশরাফ আলীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ রয়েছে প্রায় ২৬ লাখ টাকার মতো। নগদ অর্থসহ মোট কয়েক লাখ টাকার আর্থিক সম্পদ এবং প্রায় ৮৫ শতাংশ জমি রয়েছে। শিক্ষকতা থেকেই তার মূল আয়।

আহছান খান (জাতীয় পার্টি)
জাতীয় পার্টির প্রার্থী আহছান খানের আয় তুলনামূলকভাবে সীমিত। ভাড়া ও ব্যবসা মিলিয়ে বছরে আয় দেখিয়েছেন- ভাড়া থেকে আয় ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা ও ব্যবসা থেকে আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার কৃষি জমি আছে ১২০ শতাংশ, অকৃষি জমি আছে ১.৮১৫ শতাংশ ও ৬.৪৫৫ শতাংশ। তিনি টাঙ্গাইলের বাসিন্দা।

মো. আরজু মিয়া (জাসদ)
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) প্রার্থী মো. আরজু মিয়ার সম্পদের পরিমাণ তালিকার মধ্যে সবচেয়ে কম। নগদ অর্থ মাত্র ৫০ হাজার এবং স্থাবর সম্পত্তির মূল্য দেখিয়েছেন ৫২ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি আছে ৫০ হাজার টাকার।

ঢাকা/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়