গোপালগঞ্জে আল্পনা ও গ্রাফিতিতে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গোপালগঞ্জ পৌর শহীদ মিনার এলাকায় আঁকা হচ্ছে আল্পনা। পাশাপাশি ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ভাষা আন্দোলনের গ্রাফিতি। একদল শিক্ষার্থী রং-তুলির আঁচড়ে সাজিয়ে তুলছে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জ পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে ইতোমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, আল্পনা ও গ্রাফিতির মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে পারবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গোপালগঞ্জ জেলা শহরের পৌরপার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের কারও হাতে রং, কারও হাতে তুলি। লাল, নীল, হলুদ ও সবুজসহ নানা রঙে চলছে আল্পনা ও ভাষা আন্দোলনের গ্রাফিতি আঁকার কাজ।
আর মাত্র একদিন পর মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। তাই রং-তুলির আঁচড়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ফুটে উঠছে বর্ণিল আল্পনা, যা দিবসটির আবহকে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত করে তুলেছে। পৌরসভার নির্দেশনায় এ আয়োজন করা হচ্ছে। আল্পনায় যেমন ভাষা বিজয়ের আনন্দ প্রকাশ পাচ্ছে, তেমনি শোকের আবহও প্রতিফলিত হচ্ছে।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর থেকে প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে। এ উপলক্ষে আলোকসজ্জা, সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকবেন। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনে জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পৌর শহীদ মিনারের সামনের সড়কে তারা আল্পনা আঁকছে। এই আল্পনার ওপর দিয়ে হেঁটেই সাধারণ মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। আল্পনা আঁকতে পেরে তারা গর্বিত ও আনন্দিত। এর মাধ্যমে ভাষা শহীদদের সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির অঙ্কন প্রশিক্ষক আশীষ সরকার বলেন, “ভাষা শহীদদের স্মরণে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনে জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পৌরসভার নির্দেশনায় গোপালগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির অঙ্কন বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আল্পনা ও ভাষা আন্দোলনের গ্রাফিতি আঁকা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে উৎসাহিত করবে।”
ঢাকা/বাদল/জান্নাত