ঢাকা     শুক্রবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৭ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

৩০০ কোটি টাকার তাঁতপল্লী এখন বিরান ভূমি

মাদারীপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪১, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৮:৪৬, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
৩০০ কোটি টাকার তাঁতপল্লী এখন বিরান ভূমি

প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মাদারীপুর-শরীয়তপুরের হাজী শরীয়তউল্লাহ তাঁতপল্লী প্রকল্প এখন কার্যত বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। প্রথম ধাপের কাজ শেষ হলেও দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দ্বিতীয় ধাপের কাজ বন্ধ থাকায় পুরো প্রকল্প এলাকা পড়ে আছে অযত্নে। এতে একদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে থমকে গেছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ‘শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী’ নামে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ও শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায় প্রায় ১২০ একর জমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই জমির বড় অংশই ছিল ফসলি জমি।

আরো পড়ুন:

২০১৮ সালের ১ নভেম্বর প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরে ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর একনেকে সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রথম ধাপে ভূমি অধিগ্রহণ, মাটি ভরাট ও পুরো প্রকল্প এলাকায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। এ ধাপে ব্যয় হয় ২৯৬ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালের জুনে।

সীমানাপ্রাচীর ঘেরা বিশাল এলাকাজুড়ে ধু-ধু বালু, কোথাও কাশবন। কয়েকটি সাইনবোর্ড, উদ্বোধনের নামফলক ও একটি পরিত্যক্ত আনসার ব্যারাক ছাড়া প্রকল্প এলাকায় দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম নেই। আনসার সদস্যদের জন্য নির্মিত টিনশেড ব্যারাকটির দরজা-জানালা ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। শরীয়তপুর অংশের কিছু জমিতে স্থানীয়রা তরমুজ চাষ করেছেন। তবে শিবচর অংশে জমি সম্পূর্ণ অনাবাদি অবস্থায় পড়ে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে এক হাজার তাঁতশিল্পীর জন্য দোতলাবিশিষ্ট আবাসন-কাম-কারখানা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। প্রতিটি তাঁতশিল্পীর জন্য ৬০০ বর্গফুট কারখানা ও ৮০০ বর্গফুট আবাসন সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল।

এছাড়া, আন্তর্জাতিক মানের শোরুম, ডিজাইন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কাঁচামাল বিক্রয়কেন্দ্র, ব্যাংক, তথ্য ও সাইবার সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ, শিশুপার্ক, জলাধার ও বনায়নসহ আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রকল্পের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরুর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

স্থানীয় কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “বালু ভরাটের কারণে এখানে ধান বা সবজি হয় না। তাই ফাঁকা না রেখে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। কিন্তু তাতপল্লী হলে এই এলাকার বহু মানুষ কাজ পেত।”

আরেক কৃষক জয়নাল হোসেন বলেন, “আমাদের ফসলি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। টাকা পেয়েছি, কিন্তু এত বড় প্রকল্প এভাবে পড়ে থাকলে কোনো লাভ নেই।”

স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রহমান বলেন, “এটা শুধু একটা প্রকল্প না, পুরো অঞ্চলের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। দেড় বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় মানুষ হতাশ।”

মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি এ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, “এই তাঁতপল্লী বাস্তবায়িত হলে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হতো। আমাদের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প আধুনিক রূপ পেত। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকা খুবই উদ্বেগজনক।”

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, “খোঁজ নিয়ে জেনেছি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা করছি। প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে এখন ‘হাজী শরীয়তউল্লাহ তাঁতপল্লী’ করা হয়েছে। কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন হবে।”

ঢাকা/রিজভী/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়