ঢাকা     মঙ্গলবার   ১০ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৫ ১৪৩২ || ২১ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ফ্যামিলি কার্ডে নতুন স্বপ্ন দেখছেন নবাবগঞ্জের দরিদ্র মানুষরা

দিনাজপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৯, ৯ মার্চ ২০২৬  
ফ্যামিলি কার্ডে নতুন স্বপ্ন দেখছেন নবাবগঞ্জের দরিদ্র মানুষরা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ফ্যামিলি কার্ডের সুফল পেতে যাচ্ছেন দরিদ্র পরিবারগুলো। তাদের মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ। কাঙ্ক্ষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দরিদ্র মানুষজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলায় দরিদ্র পরিবারের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে উপজেলার একটি ওয়ার্ডের ৬০০টির বেশি মহিলাপ্রধান পরিবার এ সুবিধা পাবে। প্রতি মাসে প্রত্যেক পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে।

আগামীকাল ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রথম পর্যায়ে সারা দেশে ১৪টি উপজেলার ১৪টি ওয়ার্ড নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর-৬ সংসদীয় আসনের নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বেলঘাট গ্রামের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো এ সুবিধা পাচ্ছে। ওই ওয়ার্ডের প্রায় ২ হাজার পরিবারের মধ্যে যেসব পরিবারে মা বা কোনো নারী প্রধান রয়েছেন, তারাই এ ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন।

এ বিষয়ে কুটিরডাঙ্গা গ্রামের আনোয়ারা বেগম বলেছেন, “সরকারি লোকজন এসে কাগজপত্র নিচ্ছে। শুনেছি, আমাদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ড পেলে আমাদের অনেক উপকার হবে।”

সাজেদা বেগম ও শম্পা বেগম বলেন, “আমরা এই অঞ্চলের অবহেলিত মানুষ। কেউ আমাদের দিকে তাকায় না। নতুন সরকার আমাদের ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে। এতে আমাদের পরিবার চালাতে অনেক সুবিধা হবে এবং সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করতে পারব।”

নবাবগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুভ্র প্রকাশ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দরিদ্র পরিবারের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রতিটি পরিবার থেকে একজন করে নারীকে নির্বাচন করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা অনুযায়ী ছয় ধরনের পরিবার এই সুবিধার বাইরে থাকবে। সেগুলো হলো— পরিবারের কেউ সরকারি পেনশনভোগী হলে, বাসায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) থাকলে, ব্যক্তিগত গাড়ি বা বিলাসবহুল সম্পদের মালিক হলে, পরিবারের কেউ সরকারি চাকরিজীবী হলে, বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী হলে এবং বড় পরিসরের ব্যবসার মালিক হলে।

নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতি মাসে প্রত্যেক পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তাদের নিজস্ব মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এ অর্থ প্রদান করা হবে। উদ্বোধনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, “১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। আমার নির্বাচনি এলাকা নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে এ কার্ড হস্তান্তর করা হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের পরিবারগুলোকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।”

তিনি আরো জানান, “আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও দরিদ্র পরিবারের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

ঢাকা/মোসলেম/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়