কুড়িগ্রামে আলুর দাম না পেয়ে বিপাকে কৃষক
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
জমি থেকে আলু তুলছেন কৃষক ও শ্রমিকরা
বাজারে ভালো দাম না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কুড়িগ্রামের আলু চাষিরা। অনেকেই ক্ষেতের আলু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশে আলু রপ্তানিসহ ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। ক্ষতি পোষাতে উৎপাদিত আলু হিমাগারের পাশাপাশি দেশি পদ্ধতিতে সংরক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ৯ উপজেলায় ৭ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। জমি আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে। যা গত মৌসুমের চেয়ে ৫ হাজার হেক্টর কম।
কৃষকরা জানান, গত বছরের লোকসান পোষাতে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলুর আবাদ করেছেন কুড়িগ্রামের কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন ভালো হলেও শুরুতেই বাজারে দাম পড়ে যাওয়ায় হতাশ তারা। আলু চাষিরা জানান, উচ্চ মূল্যে সার, কীটনাশক ব্যবহারে প্রতিকেজি আলুর উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৭ থেকে ১৮ টাকা। আর বাজারে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে ১০ টাকায়।
রাজারহাট উপজেলার টগরাইহাট এলাকার আলু চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, “গত বছর আলুতে লস হয়েছে। ভেবেছিলাম, এবার ভালো দাম পাওয়া যাবে। এবারও একই অবস্থা। শেষ পর্যন্ত ভালো দাম পাওয়া না গেলে আগামীতে আলু আবাদ করব না।”
কুড়িগ্রাম সদরের কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক সবুজ মিয়া জানান, বাজারে বর্তমানে আলুর কেজি ৯ থেকে ১০ টাকা। প্রতিকেজি আলু উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে ১৭ থেকে ১৮ টাকা। সরকারিভাবে বিদেশে রপ্তানি এবং ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে আলুর আবাদ কমে আসবে।”
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেন, “এ বছর জেলায় আলুর উৎপাদন ভালো হওয়ায় দাম কমেছে। উৎপাদিত আলুর ভালো বাজার মূল্য পেতে হিমাগারের পাশাপাশি দেশিও পদ্ধতিতে ৩ থেকে ৪ মাস সংরক্ষণ করতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।”
ঢাকা/বাদশাহ/মাসুদ