ঢাকা     সোমবার   ১৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৩ ১৪৩২ || ২৬ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রামপালে সড়ক দুর্ঘটনা 

শোক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা পরিবারের, স্বজনরা ফিরছেন বাড়িতে

বাগেরহাট সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৩, ১৬ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১১:০৮, ১৬ মার্চ ২০২৬
শোক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা পরিবারের, স্বজনরা ফিরছেন বাড়িতে

বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের কবর জিয়ারত করছেন পরিবারের সদস্যরা।

বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনরা শোক কাটিয়ে ওঠর চেষ্টা করছেন। বিয়ের আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া একই পরিবারের ৯ জনের মরদেহ দাফন শেষে রবিবার (১৫ মার্চ) বিকেল থেকে স্বজনরা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তারা আশা করছেন, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন সবাই। 

এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে রামপাল থানায় মামলা করেছেন নিহত আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল ইসলাম জনি। মামলায় জনি অভিযোগ করেন, দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক বিচারের দাবি জানান তিনি।

আরো পড়ুন:

রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “রামপালের বেলাইব্রিজ এলাকায় দুর্ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধ্যানে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিন।

তিনি বলেন, “আমরা প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছি। তথ্য বিশ্লেষণ চলছে। আমাদের ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। তবে, একটু সময় লাগবে। কারণ এই সড়কে বারবার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। এজন্য একজন বিশেষজ্ঞ পেতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্স ইনস্টিটিউটকে চিঠি দিয়েছি। তারা বিশেষজ্ঞ দিলে, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে।”

সড়ক দুর্ঘটনায় চোখের সামনে স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারের ৯ সদস্যকে হারানো আশরাফুল ইসলাম জনি বলেন, “দুর্ঘটনার খবরে দূর-দূরান্ত থেকে সব আত্মীয়-স্বজন এসেছিল। রবিবার থেকে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। আমরা তো সব হারিয়েছি। এখন আল্লাহর ওপর ভরসা করে বেঁচে আছি।”

কাটাখালি হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বলেন, “নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে রামপাল থানায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি।”

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপালের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌ বাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হন। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু (১৮), তার ছোট বোন লামিয়া (১১) এবং মিতুর দাদি রাশিদা বেগম (৭৫) ও নানিকে দাফন করা হয়। একই দিন জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে মিতুর বর সাব্বির (৩০), তারা বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ ৯ জনকে মোংলা কবরস্থানে দাফন করা হয়। মাইক্রোবাস চালকের দাফন হয়েছে তার নিজ গ্রাম রামপালে।

ঢাকা/আমিনুল/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়