লাইসেন্স ছাড়া মিলছে না তেল, অভিযানে গুণতে হচ্ছে জরিমানা
ফেনী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ফেনীর একটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিচ্ছেন এক মোটরসাইকেল চালক।
ফেনীতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা ফিলিং স্টেশন থেকে সীমিত পরিমাণে অকটেন সংগ্রহ করতে পারছেন। তবে, বৈধ লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া মিলছে না তেল। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসনের অভিযানে জরিমানাও গুণতে হচ্ছে মোটরসাইকেল চালকদের।
শনিবার (২৮ মার্চ) ফেনী শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। মোটরসাইকেলের জন্য মাত্র ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকা প্রাইভেটকার পাচ্ছে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকার তেল।
ফেনীর মাস্টার পাড়াস্থ মেসার্স আবদুল কুদ্দুস ফিলিং স্টেশনে অভিযান চলাকালে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনজন মোটরসাইকেল চালককে ৫০০ টাকা করে মোট দেড় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া হেলমেট ছাড়া চালকদের সচেতন করতেও দেখা যায় প্রশাসনকে।
গত বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো মোটরযান সড়ক, মহাসড়ক বা জনসমাগমস্থলে চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ধারা ৪(১) ও ১৬(১) অনুযায়ী বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন সনদ ছাড়া যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ধারা ২৫(১) অনুযায়ী ফিটনেস সনদ ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস দিয়ে যানবাহন পরিচালনা করা যাবে না।
আইনের বিধান প্রতিপালনে জেলার সব পেট্রোল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে কাগজপত্রবিহীন যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির পর থেকে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করতে দেখা গেছে।
নজরুল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, এটা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। সরকার যে সীমা নির্ধারণ করেছে, সেটা যৌক্তিক।”
জয় নামের আরেক চালক বলেন, “প্রায় ৩০-৩৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হচ্ছে। ২০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র ও হেলমেট না থাকলে তেলও দিচ্ছে না।”
এ নিয়মে ভোগান্তির কথা তুলে ধরে শহীদ উদ্দিন আদর বলেন, “আমরা যারা ব্যবসা বা চাকরির সঙ্গে জড়িত তাদের জন্য এ নিয়ম খুবই বিরক্তিকর। প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা সময় চলে যাচ্ছে শুধু তেল নেওয়ার জন্য। অন্তত ৪০০ টাকার তেল দিলে কিছুটা স্বস্তি মিলত।”
ফেনী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার চয়ন বড়ুয়া জানান, সরকারি বিধি অনুযায়ী ফিলিং স্টেশনগুলো তেল বিক্রি করছে কি না তা নজরদারির পাশাপাশি চালকদের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। সংকটের মধ্যে সবাই যেন সমানভাবে জ্বালানি পায়, সে লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঢাকা/সাহাব/মাসুদ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী দিলারা হাফিজ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)