দুঃস্বপ্নের গহ্বর ছিঁড়ে ফক্সক্রফটে মহিমায় প্রত্যাবর্তন
দুঃস্বপ্নের গহ্বর ছিঁড়ে ফক্সক্রফটে মহিমায় প্রত্যাবর্তন। শিরোনামটাকে বাস্তবেই যেন জীবন্ত করে তুললেন ডেন ফক্সক্রফট। মিরপুরের সেই পরিচিত মাঠ, যেখানে একসময় গোল্ডেন ডাক দিয়ে শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক পথচলা, ছিল হতাশা আর অপ্রাপ্তির স্মৃতি; ঠিক সেই জায়গাতেই তিন বছর পর লিখলেন এক নতুন কাব্য।
অভিষেকের দুঃস্বপ্ন, দুঃস্মৃতির দগদগে স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার তিনি ফিরলেন আত্মবিশ্বাস, পরিপক্বতা আর প্রতিশোধের নীরব দৃঢ়তা নিয়ে। ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ইনিংস, বল হাতে কার্যকর স্পেল। সব মিলিয়ে অলরাউন্ড নৈপুণ্যে হয়ে উঠলেন ধ্রুবতারা। আর তার এই রূপকথার মতো ফেরাই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দিল নিউ জিল্যান্ডকে, বদলে দিল এক দুঃস্বপ্নের গল্পকে গৌরবের ইতিহাসে।
২০২৩ সালে নিউ জিল্যান্ড বাংলাদেশ সফরে এসে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল। নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট ইতিহাসের ২১২ নম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটার হিসেবে মিরপুর শের-ই-বাংলায় তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু শরিফুল ইসলামের খেলা প্রথম বলেই উইকেট হারান তিনি। গোল্ডেন ডাকে শুরু ক্যারিয়ার। ওই ম্যাচের পর তাকে আবার বিবেচনা করা হয় এবারের সফরে।
প্রথম সুযোগেই বাজিমাত। ম্যাচের অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৮ বলে ৫৯ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন। পরে মায়াবি স্পিনে তুলে নেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান লিটন দাসের উইকেট। যেই উইকেটে ম্যাচের মোড় কিউইদের পক্ষে চলে যায়। পরে ম্যাচও জিতে যায় অতিথিরা। দারুণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে মিরপুরে নিজের দ্বিতীয় প্রত্যবর্তনেই ম্যাচ সেরা ফক্সক্রফট।
তিন বছর আগে-পরের স্মৃতি এখনও মনে আছে ফক্সক্রফটের। ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমে গুনিয়েছেন সব, ‘‘আমার মনে আছে, আমি তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলাম এবং ব্যাট-প্যাডের মাঝ গিয়ে শরিফুল আমাকে বোল্ড করেছিল। আজকে প্রথম বলটা পার করার পর স্বস্তি পাচ্ছিলাম। এরপর স্বাভাবিক হয়ে আসি। চাপটাও কমে যায়। যেটাই হোক, ওইটা অতীত হয়ে গেছে। আজকেরটাও। এখন সামনে মনোযোগ দিতে হবে।’’
ফক্সক্রফট আজ নেমেছিলেন ছয় নম্বরে। যেখানে তিনি ছিলেন ফিনিশিংয়ের ভূমিকায়। প্রতি আক্রমণে গিয়ে রান তুলে নিজের কাজটা বেশ ভালোভাবে করেছেন। বাউন্ডারি পেয়েছেন। রান ছুট ছুটিয়েছেন। নিজের পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি তিনি, ‘‘সব মিলিয়ে এই উইকেটে খেলা এবং ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমাদের পারফরম্যান্সে আমরা সন্তুষ্ট। অবশ্যই নিজের রান নিয়েও আমি খুশি। বেশ সন্তুষ্ট।’’
বাংলাদেশে এর আগেও কয়েকবার এসেছেন। যুব দলের হয়ে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন ২৭ বছর বয়সী এই স্পিন অলরাউন্ডার। আগের অভিজ্ঞতায় নিজেকে পরিণত করেছেন তিনি, ‘‘হ্যাঁ, শতভাগ ঠিক। আমার মনে হয়, এটা আমার এখানে আসা সম্ভবত পঞ্চম বা ষষ্ঠবার। আমি এখানে অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্ট, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে এসেছি। এরপর ২০২২ ও ২০২৩ সালে ব্ল্যাক ক্যাপসের হয়েও এখানে এসেছিলাম। এছাড়া, গত মৌসুমে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের সফরটাও আমাদের জন্য বেশ ভালো ছিল। ওই সফর থেকে আমরা এই ধরনের উইকেটে খেলার বিষয়ে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।’’
ভুল শুধরে, পুরোনো তিক্ততা ভুলে ফক্সক্রফট হয়ে উঠেছেন রঙিণ। সামনে তার পথচলাই তার গন্তব্য ঠিক করে দেবে নিশ্চিতভাবে।
ঢাকা/ইয়াসিন