ঢাকা     মঙ্গলবার   ২১ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৮ ১৪৩৩ || ৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

কানাডার সংসদে বাংলাদেশি ডলি বেগম, স্বজনদের উচ্ছ্বাস

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২৯, ১৯ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৪:৩৯, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
কানাডার সংসদে বাংলাদেশি ডলি বেগম, স্বজনদের উচ্ছ্বাস

ডলি বেগম

কানাডায় ফেডারেল নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে প্রথমবার বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে জন্ম নেওয়া ডলি বেগমের বিজয়ের সুখবরে উচ্ছ্বসিত তার স্বজন ও এলাকাবাসী। অজপাড়াগাঁ থেকে গিয়ে কানাডার রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়ে এখন শুধু মৌলভীবাজার জেলা নয়, পুরো বাংলাদেশ তথা প্রবাসী বাংলাদেশি নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন ডলি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন এক নাম- ডলি বেগম। “মাই কই গেছোইন?”- বিজয়ী হওয়ার পর সিলেটি টানে মাকে খোঁজার সেই আবেগঘন দৃশ্যের মুহূর্ত ছুঁয়ে গেছে লাখো মানুষের হৃদয়।

আরো পড়ুন:

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাজরাকোনা গ্রাম- এখানেই ডলি বেগমের শিকড়। জন্ম রাজনগরের হরিনাচং গ্রামে, নানার বাড়িতে। সেই শৈশবের স্মৃতি আজও জড়িয়ে আছে এই মাটির সঙ্গে।

কানাডার টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডলি বেগম। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি গড়েছেন ইতিহাস- প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে সরাসরি জনগণের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কনজারভেটিভ, এনডিপি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের পরাজিত করে বিজয়ের মুকুট ছিনিয়ে নেন তিনি।

শুধু কানাডা নয়, বিশ্বজুড়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও বইছে আনন্দের ঢেউ। তাদের মতে, ডলির এই জয় শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের গর্ব।

তার বাড়িতে গিয়ে কথা হলে ডলির চাচা আব্দুল মালিক বলেন, ১৯৯৮ সালে পরিবারের সঙ্গে কানাডায় পাড়ি জমান ডলি। মনুমুখ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই শুরু হয় তার প্রবাস জীবন। এরপর ধাপে ধাপে কমিউনিটি কাজ, রাজনীতি- সবকিছু মিলিয়ে গড়ে তোলেন নিজের অবস্থান।

২০১৮ সালে অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপিপি হন। এরপর একাধিকবার জয়, বিরোধীদলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব- সব মিলিয়ে তৈরি করেন অনন্য দৃষ্টান্ত।

মৌলভীবাজারের রাজনগরে ডলির মামা রায়হান আহমদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ডলি সবশেষে লিবারেল পার্টিতে যোগ দিয়ে ফেডারেল রাজনীতিতে এই ঐতিহাসিক বিজয়- যা এনে দিয়েছে নতুন পরিচয়, নতুন গৌরব।

ডলি তার ফেসবুক ভেরিফায়েড আইডিতে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে আপনাদের সেবা করার জন্য আপনারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তাতে আমি গভীরভাবে অভিভূত, সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। এই পুরো নির্বাচনি প্রচারণা জুড়ে আমি সরাসরি আপনাদের কাছ থেকে শুনেছি। আপনাদের গল্প, প্রতিবন্ধকতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনাদের প্রত্যাশা। আপনারা আমাকে একটি নতুন ম্যান্ডেট দিয়েছেন। আপনাদের জন্য লড়াই করার দায়িত্ব আপনারা আমার ওপর অর্পণ করেছেন। আমি ঠিক তাই করবো।

মৌলভীবাজারের মাটি থেকে উঠে এসে কানাডার পার্লামেন্টে- ডলি বেগম এখন শুধু একটি নাম নয়, তিনি অনেক প্রবাসী তরুণ-তরুণীর অনুপ্রেরণার প্রতীক। ডলির দেখানো পথেই হয়তো একদিন আরো অনেকে নেতৃত্ব দিবে বিভিন্ন দেশের আর তাদের অর্জনে বারবার উচ্চারিত হবে বাংলাদেশের নামও।

ঢাকা/আজিজ/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়