ঢাকা     বুধবার   ১৭ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩৩ || ১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

টাঙ্গাইলে প্লাস্টিক জমা দিয়ে মিলেছে খাদ্যপণ্য

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫৯, ১৭ জুন ২০২৬   আপডেট: ১১:০৭, ১৭ জুন ২০২৬
টাঙ্গাইলে প্লাস্টিক জমা দিয়ে মিলেছে খাদ্যপণ্য

লাইনে দাড়িয়ে প্লাস্টিকের পণ্য জমা দিচ্ছেন তিন শিক্ষার্থী।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পরিবেশ দূষণরোধে প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে চাল, ডাল, তেল, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করছেন সাধারণ মানুষ। 

সোমবার (১৬ জুন) দিনব্যাপী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্লাস্টিকের পণ্য দিয়ে খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করেন। 

আয়োজক কমিটি জানায়, নির্দিষ্ট পরিমাণ প্লাস্টিক বোতল ও অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলে তার বিনিময়ে খাদ্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। ফলে একদিকে পরিবেশ থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য কমছে, অন্যদিকে নিম্নআয়ের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। 

জানা গেছে, এক কেজি প্লাস্টিকে এক কেজি চাল, পাঁচ কেজি প্লাস্টিকে এক লিটার সয়াবিন তেল, তিন কেজি প্লাস্টিকে এক কেজি চিনি, তিন কেজি প্লাস্টিকে এক কেজি মসুর ডাল, দুই কেজি প্লাস্টিকে একটি টি শার্ট, দুই কেজি প্লাস্টিকে এক প্যাকেট বিস্কুট, চার কেজি প্লাস্টিকে দুই কেজি আটা, দুই কেজি প্লাস্টিকে এক কেজি ছোলা, এক কেজি প্লাস্টিকে পাঁচটি ডিম, এক কেজি প্লাস্টিকে দুইটি লুডলসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুসমিতা আক্তার বলেন, “আমরা জানি টাকার বিনিময়ে খাদ্য সামগ্রী দেয়। তবে, আমাদের স্কুল মাঠে প্লাস্টিক বর্জ্যরে বিপরীতে খাদ্য সামগ্রি পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এতে এক দিকে আমাদের চাহিদাও পূরণ হলো, অন্যদিকে প্লাস্টিক রোধেও কাজ হলো।”

প্লাস্টিকের পণ্য জমা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সমগ্রী পেয়েছেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ


মির্জাপুর সরকারি এসকে পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আজহারুল ইসলাম বলেন, “প্লাস্টিক মাটি, পরিবেশসহ সবদিকের ক্ষতি করে। প্লাস্টিক বর্জ্যে আমাদের জমির মাঠ ভরে থাকে। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেতের ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে।” 

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, সারা বিশ্বে পরিবেশগত সমস্যার প্রথম সাড়িতে রয়েছে প্লাস্টিক দূষণ। জলজ থেকে শুরু প্রাণ প্রকৃতি ও মানব সভ্যতার হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্লাস্টিক। এর দূষণ রোধে বিদ্যানন্দ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। সেই আইডিয়া থেকে জনসচেতনায় ও জনসম্পৃক্ততায় প্লাস্টিকের বিনিময়ে খাদ্য সামগ্রি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিষ্টেম খুবই দুর্বল।” 

তিনি বলেন, “জনসচেতনা ও জনসম্পৃক্ততা ছাড়া দূষণরোধ সম্ভব নয়। সেই চিন্তা চেতনা থেকে প্লাস্টিকের বিনিময়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা সারা দেশে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন প্লাস্টিক রিসাইক্লিনিং করেছি। এসব কাজে স্বেচ্ছাসেবীরা সহযোগিতা করছেন।” 

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এই বোর্ড মেম্বার বলেন, “প্লাস্টিক দূষণ রোধে প্রান্তিক পর্যায়ে মাইকিং করা হয়েছে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষদের দূষণের ক্ষতি সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে।” 

ঢাকা/কাওছার/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়