স্ত্রীকে যেন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো না হয়-সরকারের কাছে আবেদন ভারতীয় স্বামীর
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
স্ত্রী বাংলাদেশি, কিন্তু স্বামী ভারতীয়। তাদের রয়েছে দুই নাবালক সন্তান। এমন অবস্থায় স্ত্রীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। স্ত্রীকে যেন নিজদেশে ফেরত পাঠানো না হয়- সরকারের কাছে কাতর আর্জি জানিয়েছেন ভারতীয় স্বামী। এমন ঘটনা ভারতের গুজরাটের আনন্দ জেলার লামভভেল গ্রামের।
গুজরাটের ওই গ্রামের যুবক তরুণ প্যাটেলের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশি নারীর সাথে পরিচয় হয়। এরপর প্রেম, পরে তা পরিণতি পায় বিয়েতে। বিয়ের পর ভারতে এসে ওই নারী হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে শুরু হয়েছে গুজরাটে। তাদেরকে চিহ্নিত করে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চেয়ে তালিকাভুক্ত যে সমস্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম তরুণের স্ত্রী কাজল। আর সেখানেই বিপত্তি। ভারত সরকারের কাছে তরুণের কাতর আবেদন- তার স্ত্রী ভারতে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তাই তাকে যেন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো না হয়। কারণ হিসাবে তরুণের দাবি, স্ত্রীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
গুজরাট পুলিশ মহাপরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে চলতি মাসে এ পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ছয় শতাধিকের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে আনন্দ জেলা থেকেই আটক করা হয় প্রায় ৬০ জনকে।
অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি গুজরাট পুলিশের রাজ্যব্যাপী ‘অপারেশন ডেল্টা হান্ট’- অভিযান চলাকালে এই বিষয়টি সামনে আসে। বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে বসবাসের অভিযোগে ওই নারীকে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আটক করা হয়েছিল। প্রায় এক দশক আগে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন কাজল। পরবর্তীতে আনন্দ জেলার বাসিন্দা তরুণ প্যাটেলকে বিয়ে করেন তিনি।
তরুণ প্যাটেল জানিয়েছেস, ২০১২-১৩ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে মাধ্যমে কাজলের সাথে পরিচয় গড়ে ওঠে। সেসময় কাজল বাংলাদেশে থাকতেন। ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
প্যাটেলের দাবি, তার স্ত্রী কাজল বাংলাদেশে বৈধভাবে পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন, যাতে তারা আইনিভাবে বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু তা পেতে ব্যর্থ হন। এরই মধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে অন্য কারো সঙ্গে বিয়ের জন্য চাপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং গুজরাটের আনন্দ জেলায় এসে পৌঁছান। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
তিনি জানান, কাজল ভারতে আসার পর তারা হিন্দু রীতি অনুযায়ী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই থেকে কাজল হিন্দু রীতিনীতি মেনে চলেন এবং নিয়মিত মন্দিরেও যান।
তরুণ প্যাটেল জানান, বৈধ নথিপত্র ছাড়াই ভারতে বসবাসের বিষয়টি ধরা পড়ার পর আনন্দ লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ সম্প্রতি তার স্ত্রীকে আটক করেছে। বর্তমানে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া চলছে।
গুজরাটের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাংভির কাছে আবেদন জানিয়ে তরুণ প্যাটলের আর্জি, মানবিক কারণে তার স্ত্রীকে যেন নিজ দেশে ফেরত না পাঠানো হয়।
তরুণ বলেন, “আমার স্ত্রী হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছে এবং তার পরিবার হয়তো তাকে আর মেনে নেবে না। আমার আশঙ্কা, সেখানে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর কারণে তার জীবন বিপন্ন হতে পারে। মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হলে আমাদের দুই সন্তানের কী হবে?”
তিনি বলেন, “ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু আমার একটাই আর্জি, তাকে যেন ফেরত না পাঠানো হয় এবং তার বিষয়টি যেন সহানুভূতিশীলভাবে বিবেচনা করা হয়।”
পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন কাজলকে বর্তমানে একটি নারী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে আটক হওয়ার পর থেকে তাদের সন্তানরা মায়ের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করতে পারেনি।
এ বিষয়ে আহমেদাবাদ রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) রাঘবেন্দ্র ভাটসা বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে বলেছেন, “আমি এই বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। আনন্দ জেলার পুলিশ সুপারের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পরই আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করব।”
ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ