ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ২ ১৪৩৩ || ১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

দৌলতপুরে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮, শিশুর মৃত্যু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:১৩, ১৬ জুন ২০২৬  
দৌলতপুরে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮, শিশুর মৃত্যু

দুই সপ্তাহে আটজন সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় সাপের উপদ্রুব বেড়ে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাপের কামড়ে আটজন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

আরো পড়ুন:

সোমবার (১৫ জুন) রাতে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের শশীধরপুর গ্রামে সাপের কামড়ের শিকার হন তিন নারী। এর আগের দিন একই গ্রামের সিয়াম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

সাপে কামড়ে আক্রান্তরা হলেন, শশীধরপুর গ্রামের সোলাইমান হোসেনের স্ত্রী মাসেদা খাতুন (৩৬), নাহিদুল ইসলামের স্ত্রী বিথী খাতুন (২৬), মহাসিন হোসেনের স্ত্রী বিলকিস আরা (৪৯) এবং রিফাত আলীর ছেলে সিয়াম (১২)। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চারজন সাপের কামড়ের শিকার হন। তারা হলেন, বৈরাগীর চর এলাকার ইন্তাজ আলী (৫৩), চক কৃষ্ণপুর গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে আল আমিন (২১), মতিউর রহমানের মেয়ে তাইবা (১০) এবং বাহিরমাটি গ্রামের আসিত হোসেনের স্ত্রী লিপিয়ারা (২২)।

স্থানীয় সূত্রে জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শশীধরপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় সাপের উপদ্রুব বেড়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) রাতে শশীধরপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় সিয়ামকে সাপে কামড় দেয়। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও রাত ১টার দিকে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সকালে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পর দিন একই গ্রামে আরো তিন নারী সাপের কামড়ের শিকার হন।

স্থানীয় রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে মাঠে-ঘাটে, ফসলি জমিতে এবং বাড়ির আশপাশেও সাপের উপস্থিতি বেড়ে গেছে। ফলে সন্ধ্যার পর বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

সাপের কামড়ে আক্রান্ত বিথী খাতুন ও মাসেদা খাতুন বলেন, সন্ধ্যার দিকে বাড়ির বাইরে বের হওয়ার সময় হঠাৎ পায়ে কামড় অনুভব করেন। পরে স্থানীয়রা এটিকে সাপের কামড় বলে সন্দেহ করেন। দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা সাপে কামড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করেন। বর্তমানে তারা সুস্থ রয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত আরএমও) ডা. মোছা. দিলরুবা ইয়াসমিন জানান, গত দুই সপ্তাহে হাসপাতালে মোট আটজন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে সিয়াম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা/কাঞ্চন/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়