ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৬ জুন ২০২৬ ||  আষাঢ় ২ ১৪৩৩ || ১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না’ ঘোষণা দিয়ে চাঁদা দাবি করা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

গাজীপুর পূর্ব প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২০, ১৬ জুন ২০২৬   আপডেট: ২২:৩৬, ১৬ জুন ২০২৬
‘তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না’ ঘোষণা দিয়ে চাঁদা দাবি করা ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

রাতুল শিকদার অমি এবং মো. কাউছার আহমেদ

গাজীপুরে চাঁদা দাবির হুমকি দিয়ে ভাইরাল হওয়া ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি রাতুল শিকদার অমিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ৪১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. কাউছার আহমেদকেও দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া চাঁদা দাবির ফোনালাপে রাতুল শিকদার অমিকে বলতে শোনা যায়, “এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না। ... এখানে প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইব না। আমি ফাপরে ডরাই না।” এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভাইরাল হওয়া অডিওটি রাইজিং ভিডির সংগ্রহে রয়েছে।

গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান বলেছেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে রাতুল শিকদার অমিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

অডিওতে শোনা যায়, একজনের কাছে বারবার অর্থ দাবি করে রাতুল শিকদার বলছেন, “আপনি আমাকে একদিন দিয়েছেন ১ হাজার টাকা, আরেকদিন দিয়েছেন ৫০০ টাকা। আজকে ভাই ২-৩ হাজার টাকা দিয়েন। অফিসের কিন্তু কিছুই বার করতে পারবেন না।”

এ ঘটনায় বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে রাতুল শিকদার অমিসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে মাজহারুল ইসলাম দাবি করেন, সাতাইশ এলাকায় শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করা হতো। কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরও অভিযুক্তরা অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যায়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে ৬৫ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে, এসব অভিযোগের বিষয়ে রাতুল শিকদারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেছেন, “অভিযোগটি আমরা গ্রহণ করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভাইরাল অডিও এবং পরবর্তী সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়ে গাজীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা/রফিক সরকার/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়