শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যার প্রতিবাদে সারাদেশের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
ডেস্ক রিপোর্ট || রাইজিংবিডি.কম
শেরপুর-৩ আসনে ইশতেহার মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিএনপিকে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করে দ্রুত বিচার, খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা নির্বাচনি সহিংসতা বন্ধ ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভিসি চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “শহীদ জিয়ার বিএনপি আর নেই, বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি আর নেই। আজকের বিএনপি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা আশা করেছিলাম নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে তারা দায়িত্বশীল রাজনীতি করবে। কিন্তু গত দেড় বছরে বিএনপি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও রাহাজানির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত।” ডাকসু নেতারা শেরপুরের ঘটনায় শুধু জামায়াত নেতা নয়, সেনা কর্মকর্তাদের আহত হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
সাদিক কায়েম আরো বলেন, “নিজেদের দলের ভেতরেই দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। যাদের হাতে নিজেদের লোক নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশ কীভাবে নিরাপদ থাকবে?”
তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে ডাকসু ভিপি বলেন, “আপনি ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলেছিলেন। কিন্তু আমরা দেখছি সেই প্ল্যানের অংশ হিসেবে সারাদেশে নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা করছে আপনার দল। এখনো সময় আছে—দলকে সংস্কার করুন, সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনুন।”
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেন, “৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা বিএনপির কাছ থেকে ইতিবাচক রাজনীতি প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু তারা নিজেদের দলের মধ্যেই দুই শতাধিক মানুষ হত্যা করেছে। খুন, চাঁদাবাজি ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সত্য আড়াল করার চেষ্টা করছে, যা এই সময়ে আর সম্ভব নয়।”
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুন সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করছে। মানুষ এখন আর বক্তব্যে নয়, কাজে বিশ্বাস করে।”
মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান, মানুষ মারার মাস্টার মাস্টারপ্ল্যান, রেজাউল ভাই খুন কেন, খুনি তারেক জবাব দে, তারেক জিয়ার অনেক গুণ, প্ল্যান করে মানুষ খুন, তারেক জিয়ার অনেক গুণ, শেরপুরে মানুষ খুন, চাঁদাবাজ আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার, খুনি আর স্বেরাচার, মিলেমিশে একাকার, নারী নিপীড়ক আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার, বিচার বিচার বিচার চাই, চাঁদাবাজদের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল জোহা চত্বর থেকে শুরু হয়ে ১৭টি হল প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। সেখানে শিবির নেতারা বলেন, বিএনপি আবারো পুরোনো সন্ত্রাসী রাজনীতির পথে হাঁটছে।
এ সময় 'নেতায় করে খাম্বা চুরি, কর্মী ধরে গলায় ছুরি', 'বিএনপির অনেক গুন, নির্বাচনের প্রথম খুন', 'আই হ্যাভ এ প্ল্যান, কিলার তারেক রহমান', 'আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই', 'কয় রকমের প্ল্যান আছে, খাম্বা তারেক তোর কাছে' এমনসব স্লোগান দেন তারা।
বিক্ষোভ শেষে রাবি শাখা ইসলামি ছাত্র শিবিরের অফিস সম্পাদক মুজাহিদ ইসলাম বলেন, “শেরপুরে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী জামায়াতের একজন নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ৫ই আগস্টের পর আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম এই দেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করা শুরু করেছে।”
তিনি আরো বলেন, “বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নেন, তাহলে তাকেও এই দেশের সাধারণ জনগণ দেশ থেকে বিতাড়িত করবে। তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনার পরিকল্পনা দেশের মানুষ বুঝে গেছে। আমরা শুধু আজকের এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এখানে দাঁড়াইনি; বরং বিএনপির সারাদেশে চলমান ধারাবাহিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখাতেই আমরা এখানে এসেছি। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে এই দেশের জনগণ বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনীকে লাল কার্ড দেখাবে।”
সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা বলেন, “আমরা দেখেছি শেরপুর-৩ আসনে সকল প্রার্থী তাদের ইশতেহার ঘোষনা করছিলেন। এসময় বিএনপি তাদের উপর নৃশংস হামলা চালায় এবং তাদের হামলায় জামায়াতের এক নেতা নিহত হন। আমরা ৫ই আগষ্টের পরে ভেবেছিলাম বাংলাদেশে আর খুনের রাজনীতি থাকবে না। আমরা এটাও দেখেছি কিভাবে রাজনৈতিক অন্তরকোন্দলে পাথর দিয়ে মানুষকে হত্যা করেছে।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পুরান ঢাকা প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ করেন। জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, “ভিন্নমতের কারণে মানুষ হত্যা করে রক্তের রাজনীতি শুরু করা হয়েছে।” ছাত্রশক্তি ও শিবির নেতারাও বিএনপির রাজনীতি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর করে তোলে। তারা বলেন, ‘এ সময় তারেকের অনেক গুণ, হারার ভয়ে মানুষ খুন’, ‘নির্বাচনের প্রথম খুন’, ‘হারার ভয়ে মানুষ খুন’, ‘তারেক তুই জবাব দে, আমার ভাই মরল কেন’, ‘বিএনপির অনেক গুণ, হারার ভয়ে মানুষ খুন’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘তারেক জিয়ার সন্ত্রাসীরা হুঁশিয়ার সাবধান’। পাশাপাশি তারা আরো স্লোগান দেন, ‘আমার ভাই শহিদ কেন, তারেক তুই জবাব দে’।
জকসুর শিক্ষা ও গবেষনা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, “শুধুমাত্র ভিন্নমতের কারনে একজন মানুষ হত্যা করা হয়েছে। আমরা মনে করেছিলাম ১২ ফ্রেব্রয়ারি নির্বাচন হবে কোনোপ্রকার রক্তপাত ছাড়া। তারা এ দেশে রক্তের রাজনীতি শুরু করেছে। তারা চায় এদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কায়েম করতে। কিন্তু এদেশের ছাত্ররা এই রাজনীতি তাদের করতে দেবে না। আমরা মনে করেছিলাম, তাদের রাজনীতির পরিবর্তন হবে, কিন্তু আমরা আমরা তার উল্টোটা দেখতে পেলাম।”
ছাত্র শক্তির জবি শাখার সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেন, “আমরা দেখেছি বাংলার আকাশে এক সন্ত্রাসী সংগঠনের পয়দা হয়েছে। এদের রুখতে হলে আমাদের একতাবদ্ধ হতে হবে। আমরা হুঁশিয়ারি করে বলতে চাই আপনারা যে রাজনীতিতে আছেন তা থেকে সরে আসুন। নতুন রাজনীতি শুরু করুন। না হলে আপনারা প্রত্যাখিত হবেন।”
শিবির নেতা সোহাগ আহমেদ বলেন, “আমরা দেখেছি শেরপুর উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দেখেছি আমাদের মা-বোনদের গায়ে হাত দেয়া হয়েছে, নির্যাতন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন কোন পদক্ষেপ নেইনি বলে এমন হচ্ছে। যে দলের নেতারা তৃণমূলকে কন্ট্রোল করতে পারেনা তারা কিভাবে দেশ কন্ট্রোল করবে।”
জবি শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক শেখ ফেরদৌস বলেন, “এখনো সময় আছে জনগণের পালস বুঝে রাজনীতি করুন অন্যথায় সিটকে যাবেন। প্রশাসনকে বলতে চাই যারা এর সাথে জড়িত তাদের ব্যবস্থা নিবেন।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনসংলগ্ন মুরাদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি বটতলা এলাকা প্রদক্ষিণ করে রফিক–জব্বার মোড়ে গিয়ে পুনরায় বটতলা এলাকায় ফিরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। এ সময় ‘নির্বাচন কমিশন, বন্ধ করো প্রহসন’, ‘তারেক জিয়ার অনেক গুণ, নির্বাচনে মানুষ খুন’, ‘বিএনপি মানুষ মারে, নির্বাচন কমিশন কী করে’, ‘বিএনপি খুন করে, ইন্টেরিম কী করে’, ‘বিএনপির সন্ত্রাসীরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘হোয়াট ইজ ইউর প্ল্যান, মার্ডার মার্ডার’, ‘বিএনপির অনেক গুণ, চাঁদাবাজি-মানুষ খুন’সহ নানা স্লোগান দেওয়া হয়।
সমাবেশে জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, “আমরা বলেছিলাম, জুলাইয়ের পর নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করবো। কিন্তু এখনো পুরোনো পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির চর্চা থেকে বের হতে পারা যায়নি। সময় থাকতে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসুন। নয়তো জনগণ আপনাদেরও লাল কার্ড দেখাবে।” তিনি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন জাকসুর জিএস সায়েদ বিন হাবিব বলেন, “জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তনের দাবি উঠেছিল। কিন্তু ফ্যাসিবাদের বিদায়ের পর নতুন এক ফ্যাসিবাদী শক্তির আবির্ভাব ঘটেছে। শুরু থেকেই তারা ছাত্র সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে। চাঁদাবাজি ও সহিংসতার মাধ্যমে সারাদেশে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।” তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জায়গায় নারী নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে জাবি শিবিরের সেক্রেটারি ও জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “জুলাই শহীদরা যে আত্মত্যাগ করেছেন, তার পরও এমন সহিংস রাজনীতি আমাদের দেখতে হচ্ছে- এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা একটি চাঁদাবাজি ও সহিংসতামুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি দল পুরোনো রাজনৈতিক ধারাতেই চলতে চাচ্ছে।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। পরে চবির সোহরাওয়ার্দী হল, আলাওল হল এবং এএফ রহমান হল প্রদক্ষীণ করে জিরো পয়েন্টে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেন।
এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ‘খুনীদের বিরুদ্ধে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘আমার ভাই মরলো কেন, খুনী তারেক জবাব দে’, ‘লন্ডনের কামলা, খুনীদের সামলা’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
সমাবেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগের পোষা বাহিনীগুলো সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। তাদের হাতে বাংলাদেশের মানুষ নিরাপদ ছিল না। একই সিলসিলা ধরে আগাচ্ছে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদল। আমরা তাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, জুলাইয়ে যেভাবে সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করেছিলাম, তাদেরকেও এভাবে বিতাড়িত করে ছাড়ব। বিএনপি আজ নিজেদের বাহিরের লোকদের হত্যা করে প্রমাণ করলো, তারা হাসিনার বাহিনীতে পরিণত হতে যাচ্ছে।”
তিনি আরো বলেন, “বিএনপির পলাতক নেতা দেশে আসার পর মানুষ মারার প্রথম প্ল্যান বাস্তবায়ন হয়েছে। আমরা তার এই সন্ত্রাসী প্ল্যান কখনো বাস্তবায়ন হতে দিব না। শেখ হাসিনাকে দিল্লী পাঠিয়েছি। আমরা আপনাকে দিল্লীতে যেতেও দিব না। সীমান্তে একেকজন প্রহরী হিসেবে কাজ করবে।”
শাখা ছাত্রশিবিরের শিক্ষা সম্পাদক সদরুজ্জামান মুজাহিদ বলেন, “শেরপুরে ইশতেহার অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি পাশবিক আচরণ করেছে। তাহলে তাদেরকে দিয়ে আমরা কী আশা করতে পারি? তাদেরকে দিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আশা করতে পারি না। তারা বলে সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু, তাদের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি। আমরা বলতে চাই আমরা তোমাদের সেই প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে দিব না। বাংলার জমিনে আর কোনো সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে পারবে না।”
এদিকে, বৃহঃস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট সদস্য ফাহিম রেজার নেতৃত্বে একাংশ শিক্ষার্থী বিএনপির বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন। তারা দাবি করেন, হত্যাকাণ্ড, নারী নির্যাতন ও সহিংস রাজনীতির কারণে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে অযোগ্য প্রমাণিত হয়েছে।
সব কর্মসূচি থেকে একযোগে শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যার দ্রুত বিচার, দেশব্যাপী সহিংসতা বন্ধ এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
[সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য থেকে সংবাদটি করা হয়েছে।]
ঢাকা/সৌরভ/ফাহিম/লিমন/আহসান/মিজানুর/জান্নাত