ঢাবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের দুই শিক্ষককে অব্যাহতি
ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
অধ্যাপক মোঃ সোহেল রানা ও অধ্যাপক ড. মোঃ সেলিম হোসেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ সোহেল রানা ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ সেলিম হোসেনকে অপেশাদার ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের ফলে তাদের বিরুদ্ধে একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তথ্যানুসন্ধান কমিটির কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান কর্তৃক পহেলা ফেব্রুয়ারি তারিখ থেকে তাদেরকে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনের কার্যক্রম থেকে স্বাভাবিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুন্সির শামস উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে উক্ত দুই শিক্ষককে এ বিষয়ে অবগত করা হয়।
এর মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে বিগত বছরের ৩ ডিসেম্বর বিভাগের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান ড. এ কে এম রেজাউল করিম উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানের নিকট একাডেমিক ও পরীক্ষার সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়ম ও অপেশাদারিত্ব, সোশ্যাল মিডিয়াতে উস্কানিমূলক বক্তব্য, বিভাগীয় চেয়ারম্যান তথা একাডেমিক কমিটি এবং সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ বিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে ১২টি অভিযোগ সম্বলিত একটি লিখিত আবেদন করেন। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতেই ড. সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ড. এ কে এম রেজাউল করিমের দায়ের করা অভিযোগপত্র এবং সহযোগী অধ্যাপক মোঃ সোহেল রানা ও ড. মোঃ সেলিম হোসেনের অব্যাহতি পত্রসহ অন্যান্য নথিপত্র বা প্রমাণাদি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
একাডেমিক ও পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়ম ও অপেশাদারিত্ব
অধিভুক্ত সাত কলেজের ২০২৩ সনের তৃতীয় বর্ষ বিএস সম্মান পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মোঃ সেলিম হোসেন পরীক্ষা কমিটির সদস্য সহযোগী অধ্যাপক আরিফা রহমানকে অবগত না করে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। এ বিষয়ে আরিফা রহমান বিগত বছরের ৭ ডিসেম্বর বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর এ বিষয়ে একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেন।
আরিফা রহমান বলেন, “পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ডঃ মুহাম্মদ সেলিম হোসেন আমাকে না জানিয়ে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে উক্ত পরীক্ষার ফলাফল জমা দেওয়ার সময় আমার স্বাক্ষর চাওয়া হলে আমি অনিয়মের বিষয়ে জানতে পারি। কিন্তু, ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আমি টেবুলেশন বুকে স্বাক্ষর প্রদান করি। অতঃপর আবারো উক্ত বর্ষের বিশেষ পরীক্ষার (পুরাতন সিলেবাস অনুযায়ী) সময় আমাকে না জানিয়ে তিনি প্রশ্নপত্র মডারেশন সম্পন্ন করেন।”
বিভাগের ২০২৩ সালের প্রথম বর্ষ বিএস পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. সেলিম হোসেন পরীক্ষা কমিটির সদস্য সৈয়দ তানভীর রহমানকে অবগত না করে তাকে ছাড়াই প্রশ্নপত্র মডারেশন সম্পন্ন করেন। এ বিষয়ে বিগত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সহযোগ অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর রহমান চেয়ারম্যানের নিকট একটি অভিযোগপত্র দায়ের করেন।
এ বিষয়ে তানভীর রহমান বলেন, “পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মোঃ সেলিম হোসেন আমাকে না জানিয়ে ২০২৩ সালে প্রথম বছর বিএস রিটেক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মডারেশন করেন এবং পরবর্তীতে প্রশ্নপত্রসমূহে স্বাক্ষর করতে অনুরোধ করেন। বিষয়টি বিধি বহির্ভূত ও অনিয়মতান্ত্রিক হওয়ায় আমি স্বাক্ষর করিনি। পরীক্ষা কমিটির সভাপতিদের এই অনিয়মের কারণে পরীক্ষা কমিটির একজন সদস্য হিসেবে আমি দায়িত্ব পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি এবং এতে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. সেলিম হোসেনের পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ।”
প্রফেশনাল এম এস ইন সাইকোলজি ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ব্যাচ দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. সেলিম হোসেন পরীক্ষা কমিটির বহিঃসদস্য শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ড. মোঃ আহসান হাবিবকে অবগত না করে তাকে ছাড়াই প্রশ্নপত্র মডারেশন করেন। এ বিষয়ে উক্ত প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর রহমান বিগত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিভাগের চেয়ারম্যানের নিকট একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এতে তিনি বলেন, “ব্যাচের দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. মোঃ সেলিম হোসেন উক্ত পরীক্ষা কমিটির বহিরাগত সদস্য শিক্ষক গবেষণা অধ্যাপক ড. মোঃ আহসান হাবীবকে না জানিয়ে প্রথম ব্যাচের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মডারেশন করেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে।”
ড. মোঃ সেলিম হোসেন ২০২৪ সালের প্রথম বর্ষ বিএস সম্মান ফাইনাল পরীক্ষার PSY 0313-101: Introduction to Psychology ও PSY 0222-104 Bangladesh Studies কোর্সের মডারেটর প্রশ্নপত্র সমূহ ২৮/০৫/২০২৫ তারিখে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. নাইমা নিগারকে হোয়াটসঅ্যাপে পোস্ট করেন। তাই একই তারিখে একাডেমিক কমিটির জরুরি সভায় পরীক্ষা কমিটি পুনর্গঠন করে নতুনভাবে প্রশ্ন আহ্বান ও মডারেশন করে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।”
সোশ্যাল মিডিয়াতে উস্কানিমূলক বক্তব্য
ড. মোঃ সেলিম হোসেন সোশ্যাল মিডিয়াতেপ (Psy Teachers and Students DU নামক whatsapp গ্রুপে) শিক্ষার্থীদের বিভাগীয় একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে তাদেরকে উষ্কে দেয়ার চেষ্টা করেন। যেমন তিনি সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটির ১৫/১/ ২০২৫ তারিখের সভার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ মাস পরে উক্ত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ২৮/১০/২০২৫ তারিখে লেখেন “এই ডিপার্টমেন্টের সাথে ২৫ বছরের অধিক সময় ধড়ে জড়িত। এবারই ঈদে প্রথম দেখলাম পূজার জন্য কোন বরাদ্দ দেয়া হলো না"।
উক্ত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি মিথ্যাচার করে আরো লেখেন, “জার্সির জন্য টাকা নেই। কোন কিছু চাইতে গেলে ভাবখানা এমন যেন ডিপার্টমেন্ট কারো পৈতৃক সম্পত্তি। বাহিরের মানুষজন এমনিতেই আমাদের বিভাগকে পাগলের বিভাগ বলে। আর আমরা যারা পড়ায় তারা যেন বড় পাগল। আর আমাদের লিডারদের কথা তো বাদই থাকে"।
তার এ ধরনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত হয়ে শিক্ষার্থীরা উক্ত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক বক্তব্য করতে থাকে। সেই পরিস্থিতিতে বিভাগের চেয়ারম্যান ২৯-১০-২০২৫ তারিখে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে তাদেরকে বোঝান।
ড. মোঃ সেলিম হোসেন বিভাগের চেয়ারম্যান কর্তৃক অনুমোদন ব্যতিরেকে তার বিভাগীয় অফিস কক্ষে নিজ উদ্যোগ এসি স্থাপন করে কক্ষটি সংস্কার করেন। এ বিষয়ে তাকে সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটির ২৮/১০/২৫ তারিখের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৯/১০/২৫ তারিখে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হলে অদ্যাবদি তিনি তার জবাব দেননি। যদিও জবাব দেয়ার সর্বশেষ তারিখ ছিল ২/১১/২০২৫। বরং তিনি সোশ্যাল মিডিয়া চিঠিটি পোস্ট করে সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্তকে তিরস্কার করে বাজে মন্তব্য করেন। যেমন ২৯/১০/২০২৫ তারিখে উক্ত চিঠি AC_PSY@DU নামক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পোস্ট করে তিনি লেখেন: “চিঠি লিখেছে বউ আমার ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে....”
আবার ২৯/১০/২৫ তারিখে উক্ত চিঠি Psy Teachers and Students DU নামক whatsapp গ্রুপে পোস্ট করে তিনি লেখেন: “এই বিভাগ আছে কিভাবে আরেকজনকে পা ধরে টেনে নিচে নামাবে সেই চিন্তায় ব্যস্ত। এরা করবে বিভাগের উন্নতি।”
এভাবে তিনি মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানসহ বিভাগীয় সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটির সদস্যদেরকে সোশ্যাল মিডিয়ার চরমভাবে অসম্মানিত এবং হেয় প্রতিপন্ন করেন।
ড. মোঃ সেলিম হোসেন বিগত বছরের ৩০ অক্টোবর সোশ্যাল মিডিয়াতে (Psy Teachers and Students DU নামক whatsapp গ্রুপে) ‘ফলাফল সমাচার’ নামক একটি শিরোনাম দিয়ে নিয়মিত প্রোগ্রাম ও প্রফেশনাল এমএস ইন সাইকলজি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের মাঝে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদেরকে উসকে দেয়ার চেষ্টা করেন।
বিভাগের চেয়ারম্যান তথা একাডেমিক কমিটি এবং সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করা
ড.মোঃ সেলিম হোসেন অযৌক্তিকভাবে কেবলমাত্র সম্মানী প্রদানে বিলম্ব হওয়ার কারণ দেখিয়ে প্রফেশনাল এমএস ইন সাইকোলজি ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় ব্যাচ প্রথম সেমিস্টারের ক্লাস ২৬/৯/২০২৫ তারিখ থেকে স্থগিত রাখেন। এ বিষয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক তাকে ২২/১০/২৫ তারিখে কারণ দর্শানোর চিঠি প্রদান করা হয়। উক্ত চিঠির জবাবের সর্বশেষ তারিখ ছিল ২৭/১০/২৫। কিন্তু অদ্যাবধি তিনি সেই চিঠির জবাব দেননি। তাই ৩/১১/২০২৫ তারিখের একাডেমিক কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট কোর্স গুলো পড়ানোর জন্য তার স্থলে অন্য শিক্ষক নিযুক্ত করা হয়।
২৮-১০/২০২৫ তারিখের সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিভাগীয় চেয়ারম্যানের অনুমোদন ব্যতিরেকে ব্যক্তিগত অফিস কক্ষে নিজ উদ্যোগে স্থাপন ও সংস্কারের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ২৯/১০/২৫ তারিখে একটি চিঠি দেয়া হয়। উক্ত চিঠির জবাব দেয়ার সর্বশেষ তারিখ ছিল ২/১১/২০২৫। কিন্তু অদ্যাবধি তিনি সেই চিঠির জবাব দেননি বরং ২৯/১০/২৫ তারিখে AC_PSY@DU এবং Psy Teachers and Students DU নামক whatsapp গ্রুপে পোস্ট করে তিরস্কার ও বাজে মন্তব্য করেন।
৩/১১/২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটির সভা এবং একই তারিখে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক ড. মোঃ সেলিম হোসেন কর্তৃক সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভাগীয় একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বিভাগের চেয়ারম্যানসহ মনোবিজ্ঞান পরিবারের সম্মানহানি করার জন্য প্রকাশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যানের নিকট লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য তাকে ৫-১১-২০২৫ তারিখে একটি চিঠি দেয়া হয়। ক্ষমা চাওয়ার সর্বশেষ তারিখ ছিল ৯/১১/২০২৫। কিন্তু অদ্যাবধি তিনিক্ষমা চাননি এবং উক্ত চিঠির কোন প্রকার জবাবও দেননি। বরং তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগ তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড করেন।
মনোবিজ্ঞান বিভাগ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত স্ক্রিনশট থেকে দেখা যায় যে, ৩/১১/২৫ তারিখে ড. মোঃ সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি এবং সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটির সভার সিদ্ধান্তের পর তিনি ৫/১১/২৫ তালিকা মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেশনাল এমএস ইন সাইকোলজির ৩য় ব্যাচে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদেরকে Dr. Salim Sir (Psy....) নামক whatsapp গ্রুপে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের (ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়) প্রফেশনাল প্রোগ্রামের Brochure পোস্ট করে মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রোগ্রাম ছেড়ে দিয়ে সেই প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার জন্য প্ররোচিত করেন। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড মনোবিজ্ঞান বিভাগ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থের পরিপন্থি। কারণ এই প্রোগ্রাম বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের একটি উৎস।
২৫/১১/২০২৫ তারিখের বিভাগীয় সমন্বয় ও উন্নয়ন কমিটি এবং একাডেমিক কমিটির সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ড. মোঃ সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তিনি সেই সভার কার্যবিবরণী ৩০/১১/২০২৫ তারিখে (Psy-Teachers@DU) নামো whatsapp গ্রুপে পোস্ট করে আবারো তিরস্কার করেন এবং অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিনের সাথে এ বিষয়ে টিকা টিপ্পনিতে লিপ্ত হন।
অভিযোগপত্রে অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন সম্পর্কে বলা হয়েছে, “যার বিরুদ্ধে বিভাগে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ এবং অর্থনৈতিক দুর্নীতিসহ যৌন হয়রানীর লিখিত অভিযোগ রয়েছে যদিও তার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিভাগের কোন ধারনা নেই।”
ডঃ সেলিম হোসেন ২০২০ সালে বিভাগীয় পিকনিক আয়োজনে অর্থনৈতিক অনিয়ম করেন বলে তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজা খানম স্বাক্ষরিত ২৮/১০/২৫ তারিখের চিঠি থেকে জানা যায়।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডীন অধ্যাপক ড. মোঃ এনামুল হককে আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা আইয়ুব আলীকে সদস্য সচিব করে একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সত্যানুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. এনামুল হক রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “তদন্তের কাজ চলমান। সামনে রোজা আছে, ঈদ আছে; প্রতিবেদন কবে দিতে পারব তা বলতে পারব না। কমিটিকে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হয়নি।”
অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “এই বিভাগ নিয়ে অনেক দিন ধরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আছে। আমি ডিনকে অনুরোধ করেছি পুরো বিভাগের সাথে আলাপ করতে।”
ঢাকা/সৌরভ/জান্নাত