বৈষম্যহীন সমাজই স্বাধীনতার লক্ষ্য: ঢাবি উপাচার্য
ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন জাতির সর্বোচ্চ গৌরবের বিষয়। স্বাধীনতার প্রকৃত লক্ষ্য ছিল সামাজিক বৈষম্য দূর করে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও গণতান্ত্রিক মুক্তি অর্জন।”
তিনি মনে করেন, স্বাধীনতার মূল চেতনা তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, ন্যায়বিচার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করবে।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ।
এছাড়া, আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন, মুক্তিযোদ্ধা প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট কমান্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ পরিবার কল্যাণ সমিতির নেতারা বক্তব্য দেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি ঐতিহাসিক অর্জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।” তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্বরতার নির্মম উদাহরণ হয়ে আছে।
এ সময় তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
উপাচার্য আরো বলেন, “স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পার হলেও প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে এখনো ব্যবধান রয়েছে। তাই বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা একটি দলগত দায়িত্ব।”
নিজেকে ‘ফ্যাসিলিটেটর’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের বৈষম্য বা স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হবে না এবং নতুন প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জেনে একটি উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
প্রসঙ্গত, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গত ২৬ মার্চ সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভবন ও আবাসিক হলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এদিন ভোরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অ্যালামনাইরা স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে জমায়েত হন এবং উপাচার্যের নেতৃত্বে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনা করা হয়। পাশাপাশি ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ঢাকা/সৌরভ/জান্নাত
ফেরি পারাপারে ঝুঁকি কমাতে এখন থেকে কোনো বাস সরাসরি যাত্রীসহ ফেরিতে উঠতে পারবে না: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী