নোবিপ্রবির ব্যস্ত ক্যাম্পাসে এক টুকরো স্বস্তি ‘শান্তিনিকেতন’
মো. শফিউল্লাহ, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের অন্যতম নান্দনিক ও সবুজে ঘেরা স্থান ‘শান্তিনিকেতন’ শিক্ষার্থীদের কাছে এক টুকরো প্রশান্তির ঠিকানা হয়ে উঠেছে। চারপাশে গাছগাছালি, পাখির কলকাকলি আর মৃদু বাতাসের স্নিগ্ধ ছোঁয়া জায়গাটিকে করে তুলেছে ক্যাম্পাসের জনপ্রিয় আড্ডাস্থলগুলোর একটি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনের আদলে নামকরণ করা এই স্থানে প্রতিদিনই শিক্ষার্থীরা ভিড় করেন। ব্যস্ত একাডেমিক জীবনের ফাঁকে এখানে এসে তারা খুঁজে পান স্বস্তি, প্রাণের উচ্ছ্বাস আর কিছু নির্ভার সময়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিন সুলতানা তনিমা বলেন, “ক্যাম্পাসে আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা শান্তিনিকেতন। সবুজ গাছের ছায়া, পাখির ডাক আর মৃদু বাতাস মনকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। এখানে এলে মনে হয় সময় ধীরে বয়ে চলে, ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।”
তিনি আরো বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, হাসি আর গল্পের মুহূর্তগুলো এই জায়গাটাকে আপন করে তোলে। দিনের শেষে মনটা যখন একটু শান্তি খোঁজে, তখন শান্তিনিকেতনই আমার আশ্রয় হয়ে ওঠে।”
একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শিক্ষার্থী মুহাম্মদ মারুফ বলেন, “প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য শান্তিনিকেতন আদর্শ একটি জায়গা। এখানে এসে মন সতেজ হয়ে ওঠে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, গান আর প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো; সব মিলিয়ে এটি জীবনের সুন্দর এক অনুভূতি।”
শিক্ষার্থী ইসরাত মজুমদার শান্তিনিকেতনকে ‘শান্তির আবাসভূমি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “একাডেমিক চাপের মাঝেও এখানে এসে জীবনের বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য নতুনভাবে ধরা দেয়। কখনো কারও হাতে গিটার, কারো হাতে বাঁশি, কেউ দল বেঁধে গান গায়, আবার কেউ সন্ধ্যায় চা হাতে আড্ডায় মেতে ওঠে। অনেককে বই হাতে বসে থাকতে দেখা যায়, কেউ কেউ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’ পড়েন। সম্প্রতি এখানে একটি দোলনা যুক্ত হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ বাড়িয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “বন্ধুত্বের অংশ হিসেবে অনেকেই ক্যাম্পাসের কুকুরদের সঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করেন। ব্রেড বা বিস্কুট দিয়ে এই অবুঝ প্রাণীদের সঙ্গে যে বন্ধন তৈরি হয়, তা জায়গাটিকে আরো মানবিক করে তোলে। “শান্তিনিকেতন শুধু একটি জায়গা নয়, এটি আমাদের প্রতিদিনের শান্তির খোঁজ।”
শিক্ষার্থী নাহিদা আক্তার বলেন, “ক্যাম্পাসের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা শান্তিনিকেতন। বর্ষায় জামাল মামার দোকানে বসে চা খাওয়া আর বৃষ্টি দেখা, কিংবা বসন্তে গাছের নিচে বসে থাকা, সবই মনে দাগ কাটে। ক্লাস বা পরীক্ষার চাপ থাকলে এখানে এসে বসি, বাতাস নেই, পাখি দেখি।”
তিনি আরো জানান, শীতকালে শান্তিনিকেতনের রূপ ভিন্ন মাত্রা পায়। শত শত অতিথি পাখির আগমনে জায়গাটি হয়ে ওঠে আরো প্রাণবন্ত। শীতের নরম রোদে এক কাপ চা আর পাখির কিচিরমিচির, এ এক অন্যরকম অনুভূতি। তখন মনে হয়, আমার ক্যাম্পাসই সেরা।
সব মিলিয়ে, নোবিপ্রবির ‘শান্তিনিকেতন’ শুধুমাত্র একটি স্থান নয়; এটি শিক্ষার্থীদের অনুভূতি, বন্ধুত্ব আর প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার এক অনন্য ঠিকানা। ব্যস্ততার ভিড়ে এই সবুজ কোণটি হয়ে উঠেছে তাদের নির্ভরতার জায়গা—একটি সত্যিকারের শান্তির আশ্রয়।
ঢাকা/জান্নাত