ঢাকা     রোববার   ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৩ ১৪৩৩ || ৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

নোবিপ্রবি থেকে লন্ডন: স্বপ্নপূরণে কেমন ছিল রাকিবুলের যাত্রাপথ

মো. শফিউল্লাহ, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:২৩, ২৬ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৮:৫৬, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
নোবিপ্রবি থেকে লন্ডন: স্বপ্নপূরণে কেমন ছিল রাকিবুলের যাত্রাপথ

রাকিবুল হাসান

বাংলাদেশে ওশানোগ্রাফি এখনো তুলনামূলক নতুন একটি বিষয় হলেও এর সম্ভাবনা দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। এই বিষয় থেকে পড়াশোনা করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের জায়গা তৈরি করছেন অনেক তরুণ। তেমনই একজন হলেন রাকিবুল হাসান, যিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওশানোগ্রাফিতে স্নাতক শেষ করে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন।

বর্তমানে তিনি Northumbria University-এ Tourism and Hospitality Management বিষয়ে মাস্টার্স করছেন। তার এই যাত্রা, সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন রাইজিংবিডি ডটকমের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মো. শফিউল্লাহ।

আরো পড়ুন:

রাইজিংবিডি: আসসালামু আলাইকুম। সংক্ষেপে আপনার পরিচয়টা বলবেন?
রাকিবুল হাসান: ওয়ালাইকুম আসসালাম। আমি রাকিবুল হাসান। আমি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ওশানোগ্রাফি বিভাগের ৩য় ব্যাচ থেকে ২০২৪ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে Northumbria University-তে Tourism and Hospitality Management বিষয়ে মাস্টার্স করছি।

রাইজিংবিডি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি বিভাগে পড়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
রাকিবুল হাসান: আমার অভিজ্ঞতা খুবই সমৃদ্ধ ছিল। ওশানোগ্রাফি একটি ইন্টারডিসিপ্লিনারি সাবজেক্ট হওয়ায় এখানে থিওরি ও প্র্যাকটিকেল দুই ধরনের জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছি। শিক্ষকরা খুব সহায়ক ছিলেন এবং গবেষণামুখী চিন্তা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছেন।

রাইজিংবিডি: ওশানোগ্রাফির মতো তুলনামূলক নতুন সাবজেক্ট বেছে নেওয়ার পেছনের কারণটা কি?
রাকিবুল হাসান: ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি ও সমুদ্র নিয়ে আগ্রহ ছিল। পাশাপাশি আমি একটু ভিন্নধর্মী কিছু করতে চেয়েছিলাম। তাই ওশানোগ্রাফি সাবজেক্টটি বেছে নেওয়া যেটা চ্যালেঞ্জিং এবং সম্ভাবনাময়ও।

রাইজিংবিডি: বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নটা দেখা কখন এবং কীভাবে শুরু হয় আপনার?
রাকিবুল হাসান: বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা তৈরি হয়। বিশেষ করে সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা ও বন্ধুদের থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি এই স্বপ্নটা গড়ে তুলি।

রাইজিংবিডি: প্রথমদিকে কি মনে হয়েছিল বিদেশে পড়তে যাওয়া আপনার জন্য সম্ভব? কেন?
রাকিবুল হাসান: শুরুতে বিষয়টা কঠিন মনে হয়েছিল বিশেষ করে ফিনান্সিয়াল বিষয় ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজানা থাকার কারণে। তবে ধীরে ধীরে তথ্য সংগ্রহ ও প্রস্তুতির মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।

রাইজিংবিডি: Northumbria University-তে ভর্তি হওয়ার জার্নিটা সংক্ষেপে বলবেন?
রাকিবুল হাসান: প্রথমে আমি বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচন করি। এরপর আইইএলটিএস স্কোর অর্জন করি, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি), সিভি ও অন্যান্য ডকুমেন্ট প্রস্তুত করি। অনলাইনে আবেদন করার পর অফার লেটার পাই, তারপর CAS নিয়ে ভিসার জন্য আবেদন করি।

রাইজিংবিডি: ইউনিভার্সিটি ও প্রোগ্রাম সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে আপনি কোন বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন?
রাকিবুল হাসান: আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং, কোর্স কনটেন্ট, ইন্ডাস্ট্রি কানেকশন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার সুযোগ, এই বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।

রাইজিংবিডি: আইইএলটিএস বা ইংরেজি দক্ষতা অর্জনের প্রস্তুতি কেমন ছিল আপনার?
রাকিবুল হাসান: আমি নিয়মিত প্র্যাকটিস করেছি, বিশেষ করে স্পিকিং ও রিটেনের ওপর বেশি ফোকাস দিয়েছি। বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্স, মক টেস্ট ও বন্ধুদের সাথে নিয়মিত স্পিকিং প্র্যাকটিস আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।

রাইজিংবিডি: স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) লেখার সময় আপনি কোন বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন?
রাকিবুল হাসান: আমি আমার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য এবং কেন এই কোর্স ও ইউনিভার্সিটি বেছে নিয়েছি, এই বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

রাইজিংবিডি: সিভি ও রেকমেন্ডেশন লেটার এ আপনার সাফল্যে কতটা ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন?
রাকিবুল হাসান: এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সিভি আমার অভিজ্ঞতা ও স্কিল তুলে ধরেছে, আর রেকমেন্ডেশন লেটার আমার একাডেমিক পারফরম্যান্স ও চরিত্র সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করেছে।

রাইজিংবিডি: এই জার্নিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা কী ছিল?
রাকিবুল হাসান: সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পুরো প্রক্রিয়াটা নিজে নিজে বুঝে করা এবং ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট।

রাইজিংবিডি: কখনো কি এমন সময় এসেছে যখন আপনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন? তখন কীভাবে নিজেকে সামলে নিয়েছেন? আপনার স্ট্রাগল সম্পর্কে যদি বলতেন?
রাকিবুল হাসান: হ্যাঁ, অনেক সময় হতাশ লাগত, বিশেষ করে যখন কিছু বিষয় বুঝতে পারতাম না বা প্রসেস দেরি হচ্ছিল। তখন আমি নিজের লক্ষ্য মনে করতাম এবং পরিবার ও বন্ধুদের সাপোর্ট আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

রাইজিংবিডি: যুক্তরাজ্যে গিয়ে প্রথম অভিজ্ঞতা বা প্রথম কয়েকদিন কেমন কেটেছে?
রাকিবুল হাসান: প্রথম কয়েকদিন একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল, নতুন পরিবেশ, নতুন সংস্কৃতি। তবে সেখানে আমার ভার্সিটির বন্ধুরা থাকায় খুব দ্রুত সবকিছুতে অভ্যস্ত হয়ে যাই এবং নতুন অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে শুরু করি।

রাইজিংবিডি: বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য কোথায় দেখেছেন?
রাকিবুল হাসান: যুক্তরাজ্যে শিক্ষাব্যবস্থা বেশি রিসার্চ ও প্র্যাকটিকেল ভিত্তিক। এখানে স্টুডেন্টদের ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও ইনডিপেন্ডেন্ট লার্নিংয়ের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাইজিংবিডি: বিদেশে কোন জিনিসটা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করছেন এবং কোন জিনিসটা সবচেয়ে বেশি মিস করেন?
রাকিবুল হাসান: আমি এখানে মাল্টিকালচারাল পরিবেশ ও স্বাধীনভাবে শেখার সুযোগটা খুব উপভোগ করছি। আর সবচেয়ে বেশি মিস করি পরিবার ও দেশের খাবার।

রাইজিংবিডি: ভবিষ্যতে আপনার পরিকল্পনা কী—গবেষণা, চাকরি নাকি দেশে ফিরে অবদান রাখা?
রাকিবুল হাসান: আমার লক্ষ্য হচ্ছে প্রথমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করা, তারপর সুযোগ হলে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশে অবদান রাখা।

রাইজিংবিডি: বর্তমানে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিদেশ গমনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটা কারণ কী বলে মনে করেন?
রাকিবুল হাসান: মূলত উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক এক্সপোজার এবং ভালো ক্যারিয়ার সুযোগ—এই কারণগুলোই শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী করছে।

রাইজিংবিডি: যারা ওশানোগ্রাফি বা অন্যান্য বিষয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে চায় তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
রাকিবুল হাসান: প্রথমত, নিজের লক্ষ্য পরিষ্কার রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, সময়মতো প্রস্তুতি নিতে হবে—বিশেষ করে আইইএলটিএস, এসওপি ও ডকুমেন্টেশন। এবং সবসময় ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে।

রাইজিংবিডি: রাইজিংবিডির পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।
রাকিবুল হাসান: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

ঢাকা/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়