ঢাকা     শুক্রবার   ২২ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪৩৩ || ৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীর স্বীকৃতি পেলেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪২, ২২ মে ২০২৬   আপডেট: ১৫:৪৩, ২২ মে ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীর স্বীকৃতি পেলেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী

অ্যাডভোকেট আমানুল্লাহ আল জিহাদি আদিব ও অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) আইন অনুষদের দুই শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষা-২০২৬-এ উত্তীর্ণ হয়ে তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনার অনুমতি পেয়েছেন।

সফল দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ম ব্যাচ ও আইন ও বিচার বিভাগের প্রথম ব্যাচের (২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেট আমানুল্লাহ আল জিহাদি আদিব এবং অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক।

আরো পড়ুন:

সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে অ্যাডভোকেট আমানুল্লাহ আল জিহাদি আদিব জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকায় এবং অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ময়মনসিংহে দীর্ঘ সময় আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট আমানুল্লাহ আল জিহাদি আদিব বলেন, “আমি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমার প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল। এরপর আমার পরিবার, মেন্টর ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের সমর্থন ছাড়া এতদূর আসা সম্ভব হতো না। আমি শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাই না, বরং সততা, ন্যায়বোধ ও পেশাগত দায়িত্বশীলতা নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”

অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক বলেন, “দীর্ঘ তিন বছরের প্র্যাকটিস জীবনের পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে আমি মহান আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের।”

তিনি আরো বলেন, “এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে জুডিশিয়ারির প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মাত্র সাত দিন আগে হাইকোর্ট পারমিশনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছিল। একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। আল্লাহর অশেষ রহমত এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন রাজিবসহ ময়মনসিংহ বারের সিনিয়রদের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, সততা, মেধা, প্রজ্ঞা, একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমই একজন আইনজীবীর প্রকৃত শক্তি। তারা বলেন, আইন পেশা কেবল জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ন্যায় ও সত্যের পথে থেকে নিজেদের আরো যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলে মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করতে চান তারা।

আইন ও বিচার বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান বলেন, “হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষায় আইন ও বিচার বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া বিভাগের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের বিষয়। এ অর্জন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বর্তমানে আইন পেশায় নিয়োজিত বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে আরো সাফল্য অর্জন করবেন বলে আমি আশাবাদী। একই সঙ্গে হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দুই শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।”

ঢাকা/রুবেল/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়