ঢাকা     সোমবার   ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৪ ১৪৩৩ || ৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

সাংবাদিকদের পর ডাকসু নেতাদের মামলাও নিল না শাহবাগ থানা

ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৫৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৪:১৭, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সাংবাদিকদের পর ডাকসু নেতাদের মামলাও নিল না শাহবাগ থানা

রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের পর এবার ডাকসু নেতাদের দায়ের করা মামলাও শাহবাগ থানা গ্রহণ করেনি, এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলি ইবনে মোহাম্মদ। তিনি জানান, মামলা জমা দিতে গেলে পুলিশ তাদের জানায়, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ‘ওপর থেকে’ আসবে। বিষয়টিকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন।

আরো পড়ুন:

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে। সেদিন শাহবাগ থানায় মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে ঢাবি ছাত্রদল ও ডাকসু নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দেককে মারধরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে।

এরপর হামলার ভিডিও ফুটেজসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করতে থানায় যান ডাকসু নেতারা। তবে, তাদের দাবি, সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ মামলা গ্রহণে গড়িমসি করছে।

এ বিষয়ে এবি জুবায়ের বলেন, “অনেক গণমাধ্যম ঘটনাটিকে ছাত্রদল-শিবিরের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে, যা সঠিক নয়।” তার ভাষায়, তারা ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর সহায়তায় থানায় গিয়েছিলেন।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, “থানার ভেতরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ তা অস্বীকার করছে। এমনকি এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে কিনা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বিষয়টি এড়িয়ে যান।”

মামলা করতে যাওয়া প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক আরমানুল ইসলাম, ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার।

একই অভিযোগ তুলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করেও তারা মামলা দায়ের করতে পারেননি। তার ভাষায়, পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, “হামলার শিকার হওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে না পারা উদ্বেগজনক।”

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদল নেতাদের হামলায় ডুজার সভাপতি ও কালের কণ্ঠের ঢাবি প্রতিনিধি মানজুর হোসাইন মাহি, সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলামসহ অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন।

ঢাকা/সৌরভ/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়