ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২১ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪৩৩ || ৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রাবি হলে তালা ভাঙা ও প্রাধ্যক্ষকে হুমকির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

রাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৫৭, ২১ মে ২০২৬   আপডেট: ১৩:০০, ২১ মে ২০২৬
রাবি হলে তালা ভাঙা ও প্রাধ্যক্ষকে হুমকির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

ছাত্রদল নেতা মুরাদ হোসেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ মো. আতাউল্যাহকে মুঠোফোনে হুমকি ও হলের আসন দখলের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতা মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। অনুমতি ছাড়া হলের একটি কক্ষে দুই অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে রাখার ঘটনায় প্রাধ্যক্ষ কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিলে তা ভেঙে ফেলার হুমকি দেন মুরাদ হোসেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) মুঠোফোনে মুরাদ হোসেন এ হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন প্রাধ্যক্ষ । পরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়।

আরো পড়ুন:

হল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রাধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়াই দুই অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে হলের ১৫৮ নম্বর কক্ষে রাখেন মুরাদ হোসেন। বিষয়টি জানতে পেরে মঙ্গলবার ওই দুই শিক্ষার্থীকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে পাঠান প্রাধ্যক্ষ। তবে, তারা দেখা না করে কক্ষে তালা দিয়ে হলের বাইরে চলে যান। পরে প্রাধ্যক্ষের নির্দেশে হলের কর্মচারীরা কক্ষে আরেকটি তালা লাগিয়ে দেন।

ঘটনার বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ জানান, কয়েক দিন ধরেই তিনি শুনছিলেন, কিছু অনাবাসিক শিক্ষার্থী ওই কক্ষে অবস্থান করছেন। পরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়ম অনুযায়ী কক্ষে তালা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মঙ্গলবার বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তার কাছে ফোন আসে। ফোনদাতা নিজেকে লতিফ হল ছাত্রদলের নেতা মুরাদ হোসেন পরিচয় দিয়ে বলেন, ওই শিক্ষার্থীদের আমি কক্ষে উঠিয়েছি। আপনি রুম খুলে দেবেন কি না, বলেন। আপনাকে আধা ঘণ্টা সময় দিলাম। তালা খুলে দিলে দেন, না হলে আমি গিয়ে তালা ভেঙে ফেলব।”

প্রাধ্যক্ষের ভাষ্য, কথোপকথনের একপর্যায়ে তাকে বলা হয়, ‘আপনি তো আর বেশি দিন নাই স্যার।’

হুমকির পর তালা খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলাম। এ কারণে পরে কর্মচারীদের দিয়ে তালা খুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিষয়টি প্রাধ্যক্ষ পরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।” প্রাধ্যক্ষ পরিষদ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, “আগামী ২৫ মে পাকিস্তান সফর শেষে উপাচার্য দেশে ফিরলে তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।”

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, ১৫৮ নম্বর কক্ষে দুই শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। তাদের একজন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান এবং অন্যজন আরবি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাবিদ।

অভিযোগের বিষয়ে মুরাদ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ক্যাম্পাসের বাইরে একটি কাজে ব্যস্ত আছি। ক্যাম্পাসে ফিরে বিস্তারিত বলব।”

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমি বিষয়টি জেনেছি।”

তিনি জানান, মুরাদ হোসেন তাকে জানিয়েছেন, তিনি কাউকে ফোনে হুমকি দেননি এবং কোনো শিক্ষার্থীকে হলেও তোলেননি। তারপরও কেন তার নাম এসেছে, তা তিনি জানেন না।

তিনি আরো বলেন, “হল প্রাধ্যক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে। ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপ-উপাচার্য মাঈন উদ্দীন বলেন, “দীর্ঘদিন পর আবাসিক হলে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ পরিবেশের ব্যত্যয় ঘটুক, তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চায় না। হল প্রাধ্যক্ষ উপাচার্যের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। উপাচার্য দেশে ফিরলে এ নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ঢাকা/ফাহিম/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়